ম্যাচে প্রাণের সঞ্চার করলেন ডেভিড ওয়ার্নার

ক্রীড়া ডেস্ক : ড্র-ই যে টেস্টের নিয়তি মনে হচ্ছিল, পঞ্চম দিন সেখানেই খানিকটা প্রাণের সঞ্চার করলেন ডেভিড ওয়ার্নার। আগের দিনই শেষ দিনের জন্য সিডনির গ্যালারিতে ‘ফ্রি এন্ট্রি’ ঘোষণা করেছিল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। বিনা টিকিটে মাঠে আসে কয়েক হাজার দর্শককে হতাশ করেননি ওয়ার্নার। গত কয়েক দিন প্রকৃতির বৃষ্টি নামা সিডনিতে এদিন চার-ছক্কার বৃষ্টি নামালেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার।

অস্ট্রেলিয়া-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিডনি টেস্ট অনুমিতভাবেই ড্র হয়েছে। তবে তার আগেই ওয়ার্নার ৮২ বলে তিন অঙ্ক ছুঁয়ে ১০৩ বলে খেলেছেন ১২২ রানের চমৎকার এক ইনিংস। ওয়ার্নারের ৮২ বলের সেঞ্চুরিটা আবার ঐতিহ্যবাহী সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডের ১৩৪ বছরের ইতিহাসে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডও।

হোবার্ট ও মেলবোর্নে প্রথম দুই টেস্ট জিতে আগেই সিরিজ নিশ্চিত করেছিল অস্ট্রেলিয়া। সিডনিতে ড্রয়ের পর শুধু ফ্রাঙ্ক ওরেল ট্রফিটা হাতে তুলে নিয়েছেন অসি অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ। যেটা ১৯৯৫ সাল থেকেই অস্ট্রেলিয়ার দখলে আছে। আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ যেভাবে হোবার্টে আড়াই দিন ও মেলবোর্নে চার দিনেই ম্যাচ হেরেছিল তাতে হোয়াইটওয়াশের লজ্জাতেই পড়তে যাচ্ছিল। তবে ক্যারিবীয়রা সেই লজ্জা এড়াল বৃষ্টির সৌজন্যে।

বৃষ্টি-বাধায় সিডনি টেস্টের প্রথম দিনে খেলা হয়েছিল ৭৫ ওভার। দ্বিতীয় দিনে সব মিলিয়ে মাত্র ৬৮ বল। পরের টানা দুই দিনে তো একটি বলও মাঠে গড়ায়নি। অস্ট্রেলিয়ায় কোনো টেস্টে বৃষ্টির কারণে একটি বলও মাঠে গোড়ানো ছাড়াই টানা দুই দিনের খেলা পণ্ড হওয়ার ঘটনা গত ২৫ বছরে এটাই প্রথম।

প্রথম ইনিংসের ৭ উইকেটে ২৪৮ রান নিয়ে বৃহস্পতিবার শেষ দিন শুরু করতে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজ অলআউট হয় ৩৩০ রানে। ৩০ রান নিয়ে দিন শুরু করা দিনেশ রামদিন করেন ৬২ রান। জোমেল ওয়ারিক্যান অপরাজিত থাকেন ২১ রানে। ৩টি করে উইকেট নেন দুই স্পিনার নাথান লায়ন ও স্টিভ ও’কেফে।

জবাবে ওয়ার্নার ও জো বার্নস উদ্বোধনী জুটিতেই তোলেন ১০০ রান, যাতে ওয়ার্নারের রানই ছিল ৭৪, সঙ্গী বার্নসের ২৬। এরপর মিচেল মার্শ ২১ রান করে ফিরে গেলেও ওয়ার্নার ক্যারিয়ারের ১৬তম সেঞ্চুরি করে অপরাজিত থাকেন। অস্ট্রেলিয়া ২ উইকেটে ১৭৬ করার পর ড্র মেনে নেয় দুই দল।

ওয়ার্নার ১০৩ বলে ১১টি চার ও দুটি ছক্কায় অপরাজিত ১২২ রান করেন। এই ইনিংস খেলার পথে ওয়ার্নার তিন অঙ্ক ছুঁয়েছেন ৮২ বলে, যা সিডনিতে দ্রুততম টেস্ট সেঞ্চুরির নতুন রেকর্ড। এর আগে ২০০৩ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্টে অপরাজিত ১০১ রান করার পথে ৮৪ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছিলেন আরেক অস্ট্রেলিয়ান ম্যাথু হেইডেন। রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরিতে ম্যাচসেরাও নির্বাচিত হন ওয়ার্নার। আর সিরিজসেরা অ্যাডাম ভোজেস।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।