× Banner
সর্বশেষ
বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার: মির্জা ফখরুল পদত্যাগের চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন: অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নতুন বঙ্গভবন প্রধান কে? সক্রিয় মৌসুমি বায়ু: দেশজুড়ে ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা, বাড়তে পারে তাপমাত্রা রাজপথে ছড়ানো গুজবে কান না দেয়ার আহ্বান মির্জা ফখরুলের: নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পালনে সরকার বদ্ধপরিকর দেশের বাজারে সোনার দামে বড় পতন: ভরিতে কমলো ৩৩২৪ টাকা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বার্তা ও অনশন ভঙ্গ: যন্তর-মন্তরে কাটল জট, জয়ে ফিরল সাধারণতন্ত্র জগন্নাথদেবের পুনর্যাত্রা আজ: উল্টো রথযাত্রার ধর্মীয় তাৎপর্য, ইতিহাস ও আধ্যাত্মিক বার্তা সোনম ওয়াংচুক অনশন প্রত্যাহার, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত আজ ২৪ জুলাই বৈদিক জ্যোতিষে রাশিফল ও গ্রহদোষ প্রতিকারের উপায় সকাল ৯টার মধ্যে ১০ অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়ার আশঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত

বেনাপোল চেকপোষ্টের উদ্ভিদ ও সংগনিরোধ অফিসে ৩৩ বছর যাবত বহাল তবিয়তে আমজাদ হোসেন

admin
হালনাগাদ: সোমবার, ১ আগস্ট, ২০১৬

বেনাপোল প্রতিনিধি: বেনাপোল চেকপোষ্টের উদ্ভিদ ও সংগনিরোধ কেন্দ্রে দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে একই পদে বহাল রয়েছেন উপসহকারি কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন। বিশেষ কৌশলে তিনি দীর্ঘকাল যাবত এখানে বহাল থেকে সরকারের সকল নির্দেশনা উপেক্ষা করে অফিসটিকে হন্ডি ও পাসপোর্ট দালালির আখড়ায় পরিণত করেছেন বলে এলাকাবাসি অভিযোগ করেন। সেসাথে নিজের অপকর্মকে ঢাকার জন্য আত্মীয় করণের মাধ্যমে তার ভাগ্নে দেলোয়ার, জামাই আনসার আলী ও ভাতিজা কাশেম মিয়াকে অফিসের বিভিন্ন দ্বায়িত্বে বহাল রেখেছেন।

বেনাপোল চেকপোস্ট উদ্ভিদ ও সংগনিরোধ অফিস সুত্রে জানাযায়, দীর্ঘ ৩৩ বৎসর যাবত একই স্থানে চাকুরির সুবাদে এ উপ সহকারি কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন দেশের বিভিন্ন জেলা শহর থেকে আসা পাসপোর্ট যাত্রীদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে তাদেরকে নিজের অফিসে জামাই মেয়ের মতো বসিয়ে আদরের সহিত পাসপোর্টগুলো সংগ্রহ করেন। পরে ছোট ধরণের কাস্টমার হলে নিজের উল্লেখিত আত্মীদের মাধ্যমে তাদের পারাপারের ব্যবস্থা করে থাকেন। আর বড়ো ধরণের হলে নিজেই তাদের বইগুলো নিয়ে ইমিগ্রেশন ও কাষ্টমসের সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে সাথে করে ভারতে নিয়ে যান। তদ্রুপ ভারত থেকে ফেরার সময় ফোনালাপের মাধ্যমে তাদেরকে রিসিভ করে একই সেবা দিয়ে থাকেন তিনি। যার কারণে বড়ো ধরণের সন্ত্রাসীসহ জঙ্গীরাও জামাই আদরে সহিত দু’দেশে যাতায়াত করছে অনায়াসে।

এলাকার একটি সুত্র জানায়, আমজাদ হোসেনের সকল অপকর্মের মধ্যে স্বর্ণের চোরাচালানীদের কাছ থেকে স্বর্ণের চালান ভারতে পৌছে দেওয়ার জন্য তার দ্বিতীয় কোনও জুড়ি বেনাপোল এলাকায় নেই বলেও জানালেন সুত্রটি। সেসাথে সরকারি কোনও বন্ধের দিন বলে তার মান্য নেই। তিনি সকল সরকারি ছুটিসহ শুক্র-শনিবারও প্রতিদিনের ন্যায় যশোর থেকে বেনাপোল চেকপোস্টের উদ্ভিদ ও সংগনিরোধ অফিসে এসে পাসপোর্ট দালালিসহ সকল অপকর্ম পরিচালনা করে থাকেন।

সুত্রের দাবি, প্রতিদিনই আমজাদ হোসেন কয়েকটি কাগজ হাতে নিয়ে মামু বাড়ি যাতায়াতের মতো ৫ থেকে ৭ বার ভারতে যাতায়াত করে থাকেন। এসাথে প্রায়ই ভারতে যাওয়ার সময় বড়ো মাপের কয়েকটি ইলিশ তার হাতে দেখা যায়। বিশেষ করে এ কর্মকর্তার  সন্তোস্টি করার ক্ষমতা খুবই ভালো থাকায় ভারতের বিএসএফ, পুলিশ ও কাস্টমস সদস্যরা তাকে মিস্টি আমজাদ দা বলেই জানেন।

নির্ভরযোগ্য সুত্র জানায়, আমজাদ হোসেন দীর্ঘদিন যাবত এ উদ্ভিদ সংগনিরোধ অফিসে চাকুরি করায় এখানে একটি শক্তিশালি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন। এসাথে বহু অপকর্মের হোতা হিসাবে পরিচিতির মাধ্যমে তার অবৈধ বানিজ্যের টাকায় ঢাকা, পাবনা এবং যশোর  শহরের মতো জায়গায় ৩টি বিলাস বহুল বাড়ি বানিয়েছেন।

এসকল বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে তার হুন্ডি পাঁচার, স্বর্ণ পাঁচার ও পাসপোর্ট যাত্রী পারাপারের সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশ হলেও তিনি থেকে যান বহাল তবিয়তে।

এ বিষয়ে আমজাদ হোসেনের ভাগ্নে দেলোয়ার হোসেন দম্ভোক্তি করে বলেন আমার মামা এখানে ৩৩ বছর যাবত চাকুরি করছেন। এ পর্যন্ত অনেক পত্রিকায় লেখালেখি হয়েছে কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। আপনারাও লিখে কিছু করতে পারবেন না।

অপরদিকে, ভারত থেকে প্রতি দিনই দেড় থেকে ২হাজার পাসপোর্টযাত্রী এ পথে আসেন। যাত্রীদের নিকট কৃষিজাত পন্য না থাকলেও বড় ল্যাগেজ দেখলে আমজাদ হোসের নির্দেশনা মোতাবেক ইমিগ্রেশন কাস্টমসের পিছনের গেটে দ্বায়িত্বরত দেলোয়ার হোসেন তাদেরকে  হায়েনার মত ধরে ফেলেন। পাসপোর্টটি কেড়ে নিয়ে বলেন আপনার ব্যাগে অবৈধ পণ্য আছে। পরে বিভিন্ন ভয় ভিতি দেখিয়ে ১’শ থেকে ৫’শ টাকা পর্যন্ত আদায় করে থাকেন।

এছাড়া ভারত থেকে আমদানিকৃত কাঁচামাল এর উপর উদ্ভিদ ও সংগনিরোধ কেন্দ্র থেকে ফাইটো সার্টিফিকেট নিতে সাধারণ কাচা পণ্যে টন প্রতি সরকারি ফি দিতে হয় ২’শ ১০ টাকা। সেখানে তিনি আরো অতিরিক্ত আদায় করে থাকেন ৩’শ ২০ টাকা। এছাড়া কাজু বাদাম এক্সপোর্টে ২হাজার ৫’শ টাকা, তিলের তেলে ৩ হাজার টাকা, তিলের খৈলে ১হাজার ২’শ টাকা। এভাবে টন প্রতি ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত তাকে ঘুষ দিতে হয়। যার প্রমাণ কাচামাল আমদানিকারকরা। আমদানিকারকদের দাবি ফাইটো সার্টিফিকেট নিতে অতিরিক্ত টাকা দিয়েও আমজাদ হোসেনের কাছে ধরণা দিতে হয় দীর্ঘক্ষণ ধরে।

এ ব্যাপারে আমজাদ হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। বলেন আমি ১৯৮০ সালে চাকুরিতে যোগদান করার পর ১৯৮২ সালে বেনাপোল এসে কয়েকবার দর্শনা, ভোমরা ও সাতক্ষীরা এলাকায় বদলী হয়েছি। আমার চাকরি মাত্র দেড় বছর আছে। নিউজ করলে মান সম্মানের বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।

সুত্র জানায়, আমজাদ হোসেন বেনাপোলে ১৯৮২ সালে যোগদান করার পর থেকে কয়েকবার বদলী হলেও সেখান থেকে তিনি নামে মাত্র যোগদান করে কৌশলে আবারো বেনাপোলে বদলী হয়ে চলে আসেন।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..