অর্থনৈতিক ডেস্ক: পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ঋণাত্মক ইক্যুইটির হিসাবে লেনদেনের মেয়াদ আরও ১ বছর বাড়িয়েছে। ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ সময় বাড়ানো হয়েছে।
সোমবার বিএসইসির কমিশন সভায় সময় বাড়ানোর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের ২৯ জুন বিএসইসির কমিশন সভায় ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মার্জিন গ্রাহকদের জন্য এ সুবিধা দেয়া হয়েছিল।
বিএসইসির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে বলা হয়েছে, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের আবেদনের প্রেক্ষিতে এবং পুঁজিবাজারের স্বার্থ তথা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কমিশন মার্জিন রুলস, ১৯৯৯-এর রুল ৩ (৫)-এর কার্যকারিতা ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৫ পর্যন্ত বর্ধিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
মার্জিন রুলের ওই ধারায় বলা হয়েছে, যখনই কোনো বিনিয়োগকারীর ডেবিট ব্যালেন্স ১৫০ শতাংশের নিচে নেমে গেলে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান তার কাছে নতুন করে মার্জিন চাইবে। আর এ মার্জিনের পরিমাণ এমন হতে হবে যাতে তার ডেবিট ব্যালেন্স ১৫০ শতাংশের উপরে থাকে। নতুন মার্জিন নগদ টাকা অথবা লেনদেনযোগ্য শেয়ার বা বন্ডে দেওয়া যাবে। মার্জিন জমা না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীর হিসাবে কোনো লেনদেন করা যাবে না।
জানা গেছে, এ ধারাটির কার্যকারিতা স্থগিত করার ফলে ঋণাত্মক ইক্যুইটির হিসাবেও শেয়ার লেনদেনের সুযোগ দিতে পারবে ঋণদাতা মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকার হাউজগুলো।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের মার্চ মাসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পক্ষ থেকে পুঁজিবাজার স্থিতিশীল রাখতে ১৯৯৯ সালের মার্জিন রুলসের ৩(৫) ধারা স্থগিত করার দাবি জানায়। এ দাবির পেক্ষিতে ওই বছরের ৯ এপ্রিল বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের সভায় বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ, বাজারের নাজুক অবস্থা বিবেচনা করে স্টক এক্সচেঞ্জের আবেদনের প্রেক্ষিতে মার্জিন রুলস, ১৯৯৯-এর রুলস ৩(৫)-এর কার্যকারিতা স্থগিত করে।
প্রথমে তা স্থগিত করে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৩ পর্যন্ত সুবিধা দেয়া হয়। বাজার পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় না আসার কারনে বার বার এ স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে। এবার আবারও স্টক এক্সচেঞ্জগুলোর আবেদনের পেক্ষিতে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে আরও ১ বছর বাড়িয়ে ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মার্জিন রুলসের কার্যকারিতা স্থগিত করেছে বিএসইসি।