ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় শতবর্ষী একটি দোল মন্দির ভাঙচুরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। মন্দির ভাঙচুরে বাধা দিতে গেলে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ ঘটনায় পাঁচজন আহত হয়েছেন এবং ১০ জনের বিরুদ্ধে ফুলগাজী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বণিকপাড়ায় অবস্থিত প্রায় শতবর্ষী ‘দোল মন্দিরে’ দীর্ঘদিন ধরে এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ পূজা-অর্চনা করে আসছেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, ৪ জুলাই দুপুরে মন্দিরের জায়গা নিজেদের দাবি করে সেটিকে চলাচলের রাস্তা হিসেবে ব্যবহার করার উদ্দেশ্যে সজীব বণিক, স্বরুপ বণিক, ঝুমুর বণিক, নুপুর বণিক ও রূপায়ন বণিকসহ কয়েকজন মন্দিরের অংশ ভাঙতে শুরু করেন।
অভিযোগে বলা হয়, মন্দিরের দেখভাল করা পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা বাধা দিতে গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলার সময় দেশীয় অস্ত্র দিয়ে সঞ্জিব বণিককে কুপিয়ে জখম করা হয়। এছাড়া অপূর্ব বণিক, রত্না বণিক, শিল্পী চৌধুরীসহ মোট পাঁচজন আহত হন।
আহতদের প্রথমে ফুলগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ফেনী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। স্বজনদের ভাষ্য, আহতরা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য জিনা বণিক বাদী হয়ে সজীব বণিক, স্বরুপ বণিকসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে ফুলগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা শুভাস বণিকের দাবি, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে মন্দিরের জায়গা দখলের চেষ্টা করে আসছিলেন। এ নিয়ে তারা বণিক পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন সময় হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করতেন। তার ভাষ্য, ঘটনার দিন প্রথমে মন্দিরের পেছনের অংশ ভাঙা শুরু হলে সঞ্জিব বণিক বাধা দেন। পরে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হামলা চালানো হয় এবং হামলাকারীরা চলে যাওয়ার আগে মন্দিরটির বড় অংশ ভেঙে ফেলেন।
এ বিষয়ে ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মিজানুর রহমান বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাদের প্রতিক্রিয়া জানা সম্ভব হয়নি।
ঘটনাটি এলাকায় উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।