পেঁয়াজ সংরক্ষণে কৃষকদের আরও ১৫ হাজার এয়ার ফ্লো মেশিন দেবে সরকার

পেঁয়াজ সংরক্ষণে কৃষকদের আরও ১৫ হাজার এয়ার ফ্লো মেশিন দেবে সরকার
এয়ার ফ্লো মেশিন দেবে সরকার

দেশে পেঁয়াজের সংগ্রহোত্তর অপচয় কমানো এবং সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়াতে কৃষক পর্যায়ে নতুন করে ১৫ হাজার এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এ উদ্যোগের মাধ্যমে পেঁয়াজ সংরক্ষণ আরও কার্যকর হবে এবং আমদানিনির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের পেঁয়াজ উৎপাদন এলাকায় পরিবর্তিত জলবায়ুর প্রতিকূল প্রভাব প্রশমনে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কৃষক পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণের অভিযোজন প্রকল্প’ শীর্ষক জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

মন্ত্রী বলেন, দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন অভ্যন্তরীণ চাহিদার তুলনায় বেশি হলেও পর্যাপ্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পেঁয়াজ নষ্ট হয়। এর ফলে চাহিদা মেটাতে বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়। সংরক্ষণ অবকাঠামো উন্নত করা গেলে আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে এবং ভবিষ্যতে দেশ থেকে পেঁয়াজ রপ্তানির পথও উন্মুক্ত হবে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রায় এক কোটি প্রবাসী বাংলাদেশি দেশীয় পেঁয়াজের স্বাদ ও গুণগত মানকে বেশি গুরুত্ব দেন। তাই দেশীয় উৎপাদন ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হলে আন্তর্জাতিক বাজারেও বাংলাদেশের পেঁয়াজের সম্ভাবনা তৈরি হবে।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি সচিব ড. মো. রফিকুল ই মোহামেদ। প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্প পরিচালক ড. মো. মাহফুজুর রহমান।

১৬ জেলায় বাস্তবায়ন হচ্ছে প্রকল্প

কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। ২০২৫ সালের মে মাসে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। এর মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা, যার অর্থায়ন করছে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড

প্রকল্পটি পাবনা, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, রাজশাহী, কুষ্টিয়া, মাগুরা, ঝিনাইদহ, মানিকগঞ্জ, নাটোর, নওগাঁ, মেহেরপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, রংপুর ও বগুড়াসহ ১৬ জেলার ১০৭টি উপজেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।

বর্তমান প্রকল্পের আওতায় ৩ হাজার ৭০০টি পরিবেশবান্ধব এয়ার ফ্লো মেশিন স্থাপন করা হচ্ছে, যা সংগ্রহোত্তর পেঁয়াজের পচন কমাতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি ৩ হাজার ৯০০ জন কৃষককে আধুনিক সংরক্ষণ পদ্ধতি বিষয়ে কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

সরকারের আশা, এসব উদ্যোগের ফলে পেঁয়াজের অপচয় কমবে, কৃষকের আয় বাড়বে এবং দেশের খাদ্যনিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।