স্বাস্থ্য ডেস্ক: আমরা জানি শিশুরা বর্তমানে পিস্তল নিয়ে খেলতে কতটা পছন্দ করে। কিন্তু শিশুদের বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যতে পিস্তল নিয়ে খেলা কতোটা প্রভাব ফেলতে পারে এ নিয়ে কথা হয় অভিভাবক ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে।
শিশুদের পিস্তল নিয়ে খেলা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এক অভিভাবক বলেন, ‘কিছু কিছু পিতা-মাতা খেলনা হিসেবে তাদের সন্তানদের পিস্তল কিনে দেন, আবার শিশুরাও কিনে। আমি সন্তাদের এ ধরনের খেলনা থেকে সবসময় বিরত রেখেছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘যা দেখতে পিস্তল-বন্দুকের মত, যা জীবন বিধ্বংসী কাজে উৎসাহ দেয়, তা কখনো খেলনা হতে পারে না। পিতা-মাতার উচিত এসব খেলনা না কিনে দেওয়া।’
আর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. আয়েশা সিদ্দিকা ডেইজী বললেন, ‘শিশুদের পিস্তল নিয়ে খেলা ভবিষ্যতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ছোটবেলা থেকেই শিশুদের এই খেলাটা খেলতে দেওয়া উচিত না। অন্য কোনো খেলা চর্চা করানোর দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। অভিভাবকদের সচেতন হওয়া উচিত।’
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. অশোক কুমার সাহা বলেন, ‘সাইকোলোজিক্যাল দিক থেকে যদি এটা চিন্তা করি, শিশুদের বয়স খেলাধুলার বয়স। খেলাধুলার মাধ্যমে তারা অনেক কিছু শিখে। তারা অন্যকে দেখে অনুকরণ করেও অনেক কিছু শিখে থাকে। পিস্তল নিয়ে খেলাধুলা করলে হয়তো ওই ধরনের ইমপ্যাক্ট নাই। কিন্তু যখন শিশুরা মিডিয়া বা সিনেমায় পিস্তলের ব্যবহার দেখে তখন তার মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। অন্যকে প্রতিহত করা বা ঘায়েল করা- এগুলো তাদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।’
তিনি আরো বলেন, যখন কোনো বড় ঘটনা ঘটে- এগুলো আলোচনায় আসে। পরিবারে আলোচনা হয়। সিনেমাগুলোতেও সেই ধরনের বিষয় শিশুরা দেখছে। এটা শিশুদের সুষ্ঠু বিকাশের অন্তরায়। বিশেষ করে এই ধরনের সিনেমা শিশুদের না দেখানো উচিত।
শিশুদের মনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে- এ ধরনের সবকিছু থেকেই তাদের দূরে রাখার জন্য অভিভাবকদের পরামর্শ দেন এই মনোবিজ্ঞানী।
তবে যেসব অভিভাবক শিশুর হাতে এ ধরনের খেলনা পিস্তল কিনে দেন- তারা কী কখনো ভেবেছেন- শিশুদের এই খেলা এক অর্থে আগুন নিয়ে খেলার মতো! কী শিখছে শিশুরা এখান থেকে?