পাকিস্তানের ‘জঙ্গি ঘাঁটিতে’ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত দুই শিশু এবং আহত আরও তিনজন

পাকিস্তানে জঙ্গি গোষ্ঠী জইশ আল-আদলের ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে প্রতিবেশী ইরান। এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইসলামাবাদ। বেলুচিস্তানের পঞ্জগুর শহরে চালানো এ হামলায় দুই শিশু নিহত ও আরও তিনজন আহত হয়েছে বলে পাকিস্তান জানিয়েছে।

ইরানের আধা-স্বায়ত্তশাসিত বার্তা সংস্থা তাসনিম বলেছে, “পাকিস্তানে জইশ আল-দুলম (জইশ আল-আদল) সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর দু’টি প্রধান ঘাঁটিকে বিশেষভাবে লক্ষ্যস্থল করা হয়েছে আর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সম্মিলিত হামলার মাধ্যমে (সেগুলো) সফলভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।”

ইরান জানিয়েছে, তারা জইশ আল-আদলের দু’টি ঘাঁটিকে লক্ষ্যস্থল করেছে। কিন্তু পাকিস্তান তা প্রত্যাখ্যান করে এটিকে ‘অবৈধ কাজ’ বলে বর্ণনা করেছে। এ ধরনের পদক্ষেপ ‘গুরুতর পরিণতি ডেকে আনতে পারে’ বলে সতর্ক করেছে তারা। ইরাক ও সিরিয়ার পর পাকিস্তান তৃতীয় দেশ, গত কয়েকদিনের মধ্যে যেখানে হামলা চালালো ইরান। পাকিস্তানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রায় নজিরবিহীন। ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আহমদ ভাহিদি জানিয়েছিলেন, জঙ্গিরা পাকিস্তান থেকে এসে হামলাটি চালিয়েছে।

মঙ্গলবার বেলুচিস্তানের পঞ্জগুর শহরে চালানো এ হামলায় দুই শিশু নিহত ও আরও তিনজন আহত হয়েছে বলে পাকিস্তান জানিয়েছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কঠোর একটি বিবৃতি দিয়ে ‘ইরান বিনা উস্কানিতে তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করায়’ তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে। এই হামলাকে ‘সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য’ বর্ণনা করে তেহরানের কাছে প্রতিবাদ জানিয়েছে ইসলামাবাদ। পাশাপাশি ইসলামাবাদে নিযুক্ত ইরানের শার্জ দ্য অ্যাফেয়ারকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে পাঠিয়েছে পাকিস্তান।

বেলুচিস্তান প্রদেশে পাকিস্তান ও ইরানের মধ্যে ৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত আছে। গত মাসে এই সীমান্তের কাছে এক জঙ্গি হামলায় ইরানের এক ডজনেরও বেশি পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছিল। এই হামলার জন্য জইশ আল-আদলকে দায়ী করেছিল ইরান।

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশে তৎপরতা চালানো ‘সবচয়ে সক্রিয় ও প্রভাবশালী’ সুন্নি জঙ্গি গোষ্ঠী জইশ আল-আদল। গাজায় ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধ নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। মধ্যপ্রাচ্যের লেবানন, সিরিয়া, ইরাক ও ইয়েমেনে ইরানের সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে ইতোমধ্যে এই যুদ্ধে কমবেশি জড়িয়ে পড়েছে।

ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহ লেবানন থেকে ইসরায়েলে হামলা চালাচ্ছে, সিরিয়া ও ইরাকে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো ইসরায়েলকে সমর্থন দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের ওপর হামলা চালাচ্ছে আর ইয়েমেনের হুতিরা লোহিত সাগরে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কিত বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে শুরু করে পশ্চিমা যুদ্ধজাহাজগুলোতে হামলা চালাচ্ছে। এসব হামলার জবাবে ইসরায়েল লেবাবনে ও সিরিয়ায় হামলা চালাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন ইয়েমেনে হামলা চালিয়েছে। এ পরিস্থিতিতেই গাজার যুদ্ধ অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার মুখে প্রতিবেশী তিনটি দেশে হামলা চালালো খোদ ইরান।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Dutta
সংবাদ প্রতিনিধি

Dutta

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।