এন এ রবিউল হাসান লিটন, পঞ্চগড় থেকেঃ পঞ্চগড়ে বন্যায় হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পরেছ, দেখা দিয়েছে প্রবল খাদ্য সংকট। গত কয়েক সপ্তাহের টানা বর্ষণ আর ভারতের উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে পঞ্চগড়ের করতোয়া ও মহানন্দা নদীর পানি বেড়ে পঞ্চগড় সদর ও তেঁতুলিয়া উপজেলার প্রায় দশটি ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে আবাদি জমি, বসতবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ রাস্তাঘাট। গ্রামরক্ষা বাঁধ ভেঙে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। এখনো পানিবন্দি সকল বাসিন্দারা সরকারি ত্রান সহায়তা পাননি বলে জানিয়েছেন তারা। পানিবন্দি হাজার হাজার বাসিন্দা এখন চরম দুর্ভোগে দিন পাড় করছেন।
জানা গেছে করতোয়া, মহানন্দাসহ সকল নদীর পানি মাত্রাতিরিক্ত হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় তা দুকুল ছাপিয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। এতে জেলার পঞ্চগড় পৌর এলাকার রামেরডাঙ্গা, মীরগড়, নিমনগড়, রাজনগড়, তুলারডাঙ্গা, খালপাড়া, জালাসী ও তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর বাজার, ভেলুপাডা, গোলাপদীগছ, গনাগছ, শিপাইপাড়া, ভদ্রেশর, শান্তিনগর, কীত্তনপাড়া, কলেজপাড়া, বালুবাড়ির, সিবচন্ডী, কালিয়ামনি, ঝালেংঙ্গি, ধানসুকা, নিজবাড়ি, পাথরঘাটা, আঠোরখারী, শেকগছ, ময়নাগুড়ি, সরদার পাড়া, রনচন্ডী, খয়খাট পাড়া, তিরনইহাট, কাশেমগঞ্জ, বাংলাবান্ধাসহ জেলার কয়েক শত গ্রামের বাসিন্দারা পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। করতোয়া ও মহানন্দা নদীর পানি বাড়ায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার চারটি ইউনিয়নের সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এসব পরিবারকে বাড়িঘর ছাড়তে হয়েছে। দেখা দিয়েছে খাদ্য ও খাবার পানির সংকট। দেবনগর ইউনিয়নের আঠারোখারী গ্রামের লাবনী আক্তার জানান, পানি বেড়ে যাওয়ায় রান্নাবান্না করা যাচ্ছে না। খাবার পানি নেই। অনাহারে-অর্ধাহারে থাকতে হচ্ছে।
প্রধান শিক্ষক মো. মোজাম্মেল হক জানান, করতোয়া নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় আঠারোখারী এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে এলাকার ১১৫টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে স্থানীয় স্কুল-কলেজে আশ্রয় নিয়েছেন। খাদ্য সংকটে পড়েছে পানিবন্দি মানুষ।
তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, সাত দিন ধরে প্রবল বর্ষণ হচ্ছে। আর ভারত বিভিন্ন ব্যারাজ খুলে দিয়ে অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দিয়েছে। এর ফলে করতোয়া ও মহানন্দা নদীর পানি আকস্মিক বেড়ে গেছে। এতে তেঁতুলিয়া উপজেলার দেবনগর, ভজনপুর, তেঁতুলিয়া ও তীরনইহাট ইউনিয়নের সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তিনি আরো বলেন, ‘তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানসহ আমরা পানিবন্দি এলাকা পরিদর্শন করেছি। পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। উপজেলা পরিষদ থেকে প্রায় ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন থেকে চাল ও টাকা বরাদ্দ করা হলে সেগুলোও বিতরণ করা হবে।’