ধানের উন্নত জাত নিতে ও সমঝোতা স্মারক করতে চায় নেপাল

ধানের উন্নত জাত নিতে ও সমঝোতা স্মারক করতে চায় নেপাল

বাংলাদেশ থেকে ধানের উন্নত জাত নিতে এবং কৃষিক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশের সাথে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করতে চায় নেপাল। কৃষিমন্ত্রী ড. মোঃ আব্দুর রাজ্জাক এর সাথে আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ডা. বানশিধর মিশ্র সাক্ষাৎকালে এ আগ্রহ ব্যক্ত করেন।

এসময় কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ রুহুল আমিন তালুকদার, উপসচিব মাকছুমা আকতার, ঢাকার নেপাল দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অভ্‌ মিশন কুমার রায় উপস্থিত ছিলেন।

কৃষিক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাফল্য তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে কৃষিক্ষেত্রে ও খাদ্য উৎপাদনে অভূতপূর্ব সাফল্য এসেছে। কৃষির অগ্রগতির ফলেই দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর খাদ্যের যোগান অব্যাহত রয়েছে। দেশে ১০০টির বেশি উন্নত জাতের ধান ও প্রযুক্তি রয়েছে; এর মধ্যে অনেকগুলো মেগা ভ্যারাইটি। নেপাল এজাতগুলো বাংলাদেশে থেকে নিতে পারে।  এছাড়া, দু’দেশের মধ্যে কৃষিক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য সমঝোতা স্মারকের বিষয়েও উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

ধান উৎপাদনে বাংলাদেশ অসামান্য অগ্রগতি অর্জন করেছে উল্লেখ করে নেপালের রাষ্ট্রদূত ডা. বানশিধর মিশ্র বলেন, নেপালের মানুষের প্রধান খাদ্য চাল। কিন্তু নেপাল চাল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয় বরং বছরে অনেক চাল আমদানি করতে হয়। সেজন্য, বাংলাদেশের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে চাল উৎপাদন বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশি ধানের জাত নেপাল নিতে চায়। এছাড়া, বিভিন্ন ফসল, বীজ, উন্নত জাত, প্রযুক্তি, গবেষণাসহ কৃষির বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সহযোগিতার জন্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা প্রয়োজন।

এছাড়া, রাষ্ট্রদূত ডা. বানশিধর মিশ্র আদা, এলাচিসহ গরম মসলা বাংলাদেশে সরাসরি রপ্তানির আগ্রহ ব্যক্ত করে বলেন, বর্তমানে ভারত হয়ে এসব পণ্য বাংলাদেশে আসে। ফলে বাংলাদেশে দাম অনেক বেড়ে যায়। সরাসরি বাংলাদেশে আসলে দাম অনেক কম পড়বে।

অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তির (পিটিএ) বিষয়ে রাষ্ট্রদূত জানান, আগামী ০২ মাসের মধ্যে বাংলাদেশের সাথে নেপালের পিটিএ চুক্তি স্বাক্ষর হয়ে যাবে। উল্লেখ্য, এর আগে নেপাল ভুটানের সাথে পিটিএ চুক্তি সই করেছে। দ্বিতীয় দেশ হিসাবে বাংলাদেশের সাথে চুক্তিটি সই হবে। এছাড়া, তিনি বাংলাদেশের সাথে চলমান কানেক্টিভিটিকে আরো শক্তিশালী করার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলেও জানান।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, নেপাল বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধুরাষ্ট্র। নেপালের সাথে বাংলাদেশের গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমাদের এ সম্পর্ক অটুট থাকবে। ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিকসহ সকল ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

Share this news

Brinda Chowdhury
Reporter

Brinda Chowdhury

Click the reporter name to read more stories.

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।