কর্ণফুলীর দুই তীরের অবৈধ স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে দায়ের করা এক রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে আজ মঙ্গলবার বিচারপতি এম আর হাসান ও বিচারপতি কাশেফা হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন।

রায়ে কয়েক দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়েছে, আগামী সাতদিনের মধ্যে জেলা প্রশাসককে চট্টগ্রামের দুটি আঞ্চলিক পত্রিকায় অবৈধ স্থাপনাগুলো সরাতে বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে। স্থাপনা সরাতে ৯০ দিন সময় দেওয়া হবে।

এই ৯০ দিন পার হওয়ার পরও যদি নদীর দুই তীরে কোনো অবৈধ স্থাপনা থাকে তবে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে তা উচ্ছেদ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বিআইডব্লিউটিএ) সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের পর উচ্ছেদের বিষয়ে উচ্চ আদালতে অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত নৌবাহিনীর তিনটি ও চট্টগ্রাম বন্দরের তিনটিসহ ছয়টি স্থাপনাকে উচ্ছেদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তরের নো অবজেকশন সার্টিফিকেট নিতে এ দুটি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রায়ে বলা হয়েছে, এই ছয়টি স্থাপনা যদি জনস্বার্থে বা রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যবহৃত হয় তাহলে পরিবেশ অধিদপ্তরকে বলা হচ্ছে যেন তাদের নো অবজেকশনের আবেদনটি বিবেচনা করা হয়।

শুনানিতে রিটকারীর পক্ষে অংশ নেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জহিরুল হক।

মনজিল মোরসেদ জানান, প্রশাসনকে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। কর্ণফুলী নদীর তীর অবৈধভাবে দখল করে দোকান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বাসাবাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে যা জেলা প্রশাসকের প্রতিবেদনের মাধ্যমে উঠে এসেছে। আদালত তা গ্রহণ করে আজ রায় ঘোষণা করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, কর্ণফুলীর দুই পাড় অবৈধ দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের কথা বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়। ২০১০ সালে এসব স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশনা চেয়ে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ একটি রিট করে। রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে ওই বছরের ১৮ জুলাই হাইকোর্ট রুল জারি করেছিলেন। রুলে কর্ণফুলী রক্ষায় কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়। সেই সঙ্গে জেলা প্রশাসককে কর্ণফুলী নদীর তীরে কী পরিমাণ অবৈধ স্থাপনা রয়েছে তা তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়।

চার বছর পর ২০১৫ সালের ৯ জুন জেলা প্রশাসক প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে কর্ণফুলীর দুই তীরে চট্টগ্রাম বন্দর ও নৌবাহিনীর ছয়টি স্থাপনাসহ মোট দুই হাজার ১৮৭টি স্থাপনা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। আদালত রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে আজ রায় ঘোষণা করেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
সংবাদ প্রতিনিধি

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।