× Banner
সর্বশেষ
ধর্মমন্ত্রীর আশু আরোগ্য কামনায় দেশজুড়ে হেফাজতে ইসলামের বিশেষ দোয়া দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত ১১২ টাকায় সরকারি চাকরি পাওয়া স্বচ্ছ নিয়োগের প্রমাণ: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী বাংলাদেশে ২৫-২৬ জুলাই ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম ও বিআইইআর সামিট ২০২৬ বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন ২০২৬-এর খসড়া অনুমোদন, পরিকল্পিত আধুনিক নগর গঠনের উদ্যোগ বাজেট বাস্তবায়নেই সাফল্য, কক্সবাজারকে আধুনিক ডিজিটাল পর্যটন নগরী গড়ার পরিকল্পনা: অর্থমন্ত্রী FICCI FDI Conference 2026-এ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে FICCI FDI Conference 2026, উন্মোচিত হলো এফডিআই রিপোর্ট মাদারীপুরে বৈশাখী ভাতা ও ঈদ বোনাস না পাওয়ায় দপ্তরিদের শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাও কোটালীপাড়ায় উল্টো রথযাত্রায় ভক্তদের ঢল

এক কোটির বেশি নাগরিক ইতোমধ্যে ই-নামজারি সেবা পেয়েছেন – ভূমিমন্ত্রী

admin
হালনাগাদ: সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

২০১৯ এর ১ জুলাই থেকে সারাদেশে ই-নামজারি কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বর্তমানে ৪৮৫টি উপজেলা ভূমি অফিস ও সার্কেল অফিসে এবং ৩৬১৭ টি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ই-নামজারি কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়েছে। ই-নামজারি কার্যক্রমের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ১ কোটির অধিক নাগরিককে সেবা প্রদান করা হয়েছে। বলেছেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ।

ভূমি মন্ত্রণালয় এবং এটুআই-এর যৌথ আয়োজনে আজ সোমবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ তারিখে বাংলাদেশ সচিবালয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘ই-নামজারির সক্ষমতা মূল্যায়নে গবেষণালব্ধ ফলাফল’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী  এমপি,  এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, এমপি, সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, প্রতি বছর দেশে প্রায় ৪২ লক্ষ ভূমি রেজিস্ট্রেশন হয় এবং উত্তরাধিকার সূত্রে আরও ২০-২৫ লক্ষ নামজারির ক্ষেত্র সৃষ্টি হয়। কিন্তু মালিকানা হালনাগাদ হয় ৩০-৩৫ লক্ষ। প্রচলিত পদ্ধতিতে, প্রায় ৩০ লক্ষ ভূমি হস্তান্তর নামজারি/ রেকর্ড হালনাগাদ এর বাইরে থেকে যায়। ই-নামজারির মাধ্যমে জনগণ সহজেই এখন সহজে, দ্রুততম সময়ে ও নির্ভুলভাবে অনলাইনে নামজারি করতে পারছেন।

ভূমিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ে নিরবচ্ছিন্ন ব্রডব্যান্ড চালু না হলে পুরোপুরি ই-নামজারির সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এছাড়া নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে সৌর বিদ্যুৎ সংযোগের কথাও চিন্তা করা হবে।

জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রকৃত লক্ষ্য পূরণে ভূমিমন্ত্রী সফলতার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মচারীদের কর্মকাণ্ডের রেটিং সিস্টেম করা গেলে আরও ভালো ভাবে সেবা দেওয়া যাবে। দেশে ডিজিটাল পরিষেবা বাড়ানোর লক্ষ্যে আমরা বিদ্যুত সংযোগ নিশ্চিতকরণে, ইন্টারনেট সংযোগ বৃদ্ধি করাতে, সফটওয়্যার সিস্টেমের সল্যুশন উন্নয়নে ও ক্যাপাসিটি ডেভলপমেন্ট আধুনিকায়নে কাজ করছি।

সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল ইউনিভার্সিটি’র একটি গবেষক টিম ই-নামজারি সেবা প্রদান বিষয়ে একটি গবেষণালব্ধ ফল তুলে ধরেন। গবেষকবৃন্দ তাঁদের গবেষণায় এপ্রিল/১৮ থেকে জুন/১৯ পর্যন্ত সময়ে প্রদত্ত ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে নামজারি সেবা ও ই-নামজারি সেবা প্রদানের বিষয়ে ১৫৫টি উপজেলায় প্রদত্ত নামজারি সেবা প্রদানের বিষয়ে গবেষণা করেছেন।

গবেষণালব্ধ ফলাফলে দেখা গিয়েছে – ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে সেবা প্রদানের হার ই-নামজারির মাধ্যমে নামজারি সেবা প্রদানে কর্মকর্তা-কর্মচারিদের ৪৫ দিনের ক্ষেত্রে ৩৬ শতাংশ সেবা প্রদানের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বর্তমান ২৮ দিনের ক্ষেত্রে নামজারি সেবা প্রদানের হার ২০ শতাংশ সেবা প্রদানের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। উল্লেখ্য, নামজারি সেবা প্রদানের সময়সীমা ৪৫ দিন থেকে বর্তমানে ২৮ দিনে নামিয়ে আনা হয়েছে।

গবেষণায় আরও দেখা গিয়েছে, ‘ই-নামজারি পদ্ধতি’তে সেবা গ্রহণে, ‘সনাতন পদ্ধতি’র চেয়ে উপজেলা ভূমি অফিস ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সেবা প্রার্থীদের গমনের হার ১৭ শতাংশ কম এবং ভূমি অফিসে সময় ব্যয় করার হার ৭ শতাংশ কম। উল্লেখ্য, প্রান্তিক অঞ্চলে অনেক সময় সেবা গ্রহীতাগণ ভূমি অফিসে গিয়ে বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা গ্রহণ করেন। তাই আশা করা যাচ্ছে ডিজিটাল আনুষাঙ্গিক পরিষেবা এবং নাগরিকদের মধ্যে আইসিটি সাক্ষরতার হার বৃদ্ধি পেলে  সময় কমে আসবে। অর্থাৎ, ভূমি সেবা গ্রহণে সময় (Time) ও পরিদর্শন (Visit) কমে যাবার ফলে ব্যয় (cost) কমে যাচ্ছে। এর ফলে নাগরিক সন্তুষ্টি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

নাগরিক সেবা গ্রহণ করার পর সেবা প্রদানের মান নিয়ে সেবা গ্রহীতাগণ তাঁদের সন্তুষ্টি বা অসন্তুষ্টি বিষয়ক প্রতিক্রিয়া যাতে জানাতে পারেন সেজন্য ওয়েবসাইটে সেই ব্যবস্থা রাখা হবে। ফলশ্রুতিতে, পরবর্তীতে মূল্যায়ন করে ভূমি সেবার মান বৃদ্ধি করার ক্ষেত্র সৃষ্টি হবে।

ভূমি মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে মনিটরিং ও বহুমাত্রিক বিশ্লেষণের জন্য ডেটা প্রস্তুত করতে পারছে। ভূমি তথ্য ও সেবা কাঠামোতে যুক্ত থাকায় অন্যান্য ভূমি সেবার সঙ্গে আন্তঃসংযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে, উত্তরাধিকার ক্যালকুলেটরের মাধ্যমে নির্ভুলভাবে সম্পত্তির হিসাব করা যাচ্ছে। ই-নামজারির ওয়েবসাইট-এর (www.land.gov.bd) মাধ্যমে ঘরে বসে অথবা নিকটস্থ ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে নামজারির নতুন এই পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে জনগণের সময়, খরচ ও ভোগান্তি বহুগুণে কমে এসেছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যেগ ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ এর আওতায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, আইসিটি বিভাগ, ইউএসএইড এবং ইউএনডিপি এর সহায়তায় পরিচালিত এটুআই-এর কারিগরি সহযোগিতায় ভূমি মন্ত্রণালয় ও ভূমি সংস্কার বোর্ড এর সরাসরি তত্ত্বাবধানে উক্ত ই-নামজারি কার্যক্রম সারাদেশে  বাস্তবায়িত হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য প্রদান করেন ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান উম্মুল হাছনা ও এটুআই-এর প্রকল্প পরিচালক জনাব ড. মোঃ আবদুল মান্নান, পিএএ।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন  এটুআই-এর পলিসি অ্যাডভাইজর জনাব আনীর চৌধুরী, ইন্টারন্যাশনাল গ্রোথ সেন্টার এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. ইমরান মতিন, কান্ট্রি ইকোনমিস্ট ফারিয়া নাইম, ইয়েলে ইউনিভার্সিটি’র পিএইচডি গবেষক মার্টিন মাটসন এবং ভূমি মন্ত্রণালয় ও এটুআই এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ। এছাড়া প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকগণ এসময় উপস্থিত ছিলেন।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..