× Banner
সর্বশেষ
ধর্মমন্ত্রীর আশু আরোগ্য কামনায় দেশজুড়ে হেফাজতে ইসলামের বিশেষ দোয়া দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত ১১২ টাকায় সরকারি চাকরি পাওয়া স্বচ্ছ নিয়োগের প্রমাণ: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী বাংলাদেশে ২৫-২৬ জুলাই ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম ও বিআইইআর সামিট ২০২৬ বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন ২০২৬-এর খসড়া অনুমোদন, পরিকল্পিত আধুনিক নগর গঠনের উদ্যোগ বাজেট বাস্তবায়নেই সাফল্য, কক্সবাজারকে আধুনিক ডিজিটাল পর্যটন নগরী গড়ার পরিকল্পনা: অর্থমন্ত্রী FICCI FDI Conference 2026-এ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে FICCI FDI Conference 2026, উন্মোচিত হলো এফডিআই রিপোর্ট মাদারীপুরে বৈশাখী ভাতা ও ঈদ বোনাস না পাওয়ায় দপ্তরিদের শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাও কোটালীপাড়ায় উল্টো রথযাত্রায় ভক্তদের ঢল

আনসার ভিডিপিতে চরম নৈরাজ্য! পর্ব-২

admin
হালনাগাদ: মঙ্গলবার, ২৩ মে, ২০১৭

রাজিব শর্মা, চট্টগ্রাম :: চট্টগ্রাম আনসার ভিডিপির মধ্যে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির মহৌৎসব চলছে। এসব দুর্নীতি অনিয়ম করেও বহাল তবিয়তে রয়েছেন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা।

জানা যায়, প্রায় ২৫০ জন আনসার সদস্য অংগীভুত (নিয়োগ আদেশ) পাওয়ার পরও চাকুরীতে যোগদান করতে পারছেন না। সদ্য নিয়োগ প্রাপ্ত কয়েকজন আনসার এই অভিযোগ করেন। তারা বলেন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের আনসার ভিডিপির উপ- পরিচালক ও জোন অধিনায়ক (চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর জোন) মো.আমিন উদ্দিনের দূর্নীতির কারনে দিশেহারা আনসাররা।

নিয়োগ প্রাপ্ত আনসারেরা জানান, চট্টগ্রাম নগর আনসার উত্তর জোনের বিভিন্ন থানাধীন কেপিআই সংস্থায় নিয়োজিত অংগীভুত আনসারদের শুন্যপদের বিপরীতে নতুন নিয়োগের জন্য জোন অধিনায়ক কর্তৃক আনসার সদর দপ্তরে প্রয়োজনীয় সংখ্যক অফার প্রদান করা হয় চলতি বছরের এপ্রিলে।

শূন্যপদের প্রায় ১০ গুণের বেশি অফার প্রদান করেন বর্তমান দায়িত্বরত কর্মকর্তা মো. আমিন উদ্দিন। ফলে ফয়’সলেকস্থ উত্তর জোন অফিসে একই সাথে ১ সপ্তাহে প্রায় ২৫০ জন অফার প্রাপ্ত আনসার নতুন নিয়োগ পাওয়ার লক্ষ্যে চলে আসে বলে জানান নিয়োগ প্রাপ্তরা।

জানা যায়, শূন্যপদের বিপরীতে মাত্র ২০/২৫ জন আনসার নিয়োগ দেওয়ার পর অবশিষ্ট ২২৫ জন আনসারকে অনলাইনে অংগীভুত করে (ইনপুট দিয়ে) তাদের নিকট থেকে মাথাপিছু মোটা অংকের টাকা নিয়ে পাঠিয়ে দেন। মে, জুন, জুলাই (২০১৭) মাসে চাকুরীতে যোগদানের কথা বলেন জোন অধিনায়ক মো.আমিন উদ্দিন।

নতুন নিয়োগ প্রাপ্ত আনসারেরা বলেন, তাদের চাকুরী ৩ বছর। আনসার বাহিনীর আইন ১৯৯৫ খ্রি: এর ধারা ৬(৪),আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী সদর দপ্তরের স্বারক নং- আইন-৫১/আনস, তারিখ-২৪/০৩/১৯৯৬ খ্রি:, স্বারক নং-কেপি আই৮৮৩/৩০১১৯,আনস, তারিখ- ৩০/৩/ ২০০৯খ্রি: এর পরিপেক্ষিতে নিম্ন বর্ণিত আনসার সদস্যকে অংগীভুত করা হলো।
এদিকে আমরা অংগীভুত হয়ে যদি ২/৩ মাস পরে চাকুরীতে যোগদান করি, তা হলে ৩ বছরের মেয়াদ থেকে আমাদের চাকুরী ২/৩ মাস বাদ যাচ্ছে বলে আক্ষেপ করে বলেন তারা।

জানা যায়, এই ব্যাপারে আনসার মনিটরিং মাঠ কর্মীর দেয়া পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন সদর দপ্তরে গেলেও তাতে কোন প্রকার প্রতিকার পাচ্ছে না বলে ভুক্তভোগী আনসার সদস্যরা জানান। এই প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে আরো ব্যাপক দুর্নীতি, অনিয়ম, নিয়োগ ও বদলী বানিজ্য ব্যাপক বলে একাধিক সুত্র এ সব তথ্য প্রদান করেন।উত্তর জোনের বিভিন্ন থানায় সংস্থা কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে মোটা অংকের উতকোচ নিয়ে অবৈধ/অ-অনুমোদিত আনসার গার্ড স্থাপন করে বলে জানা যায়।

ভুক্তভোগী এক কর্মকর্তা জানান, চট্টগ্রামের স্থানীয় কর্মকর্তা, কর্মচারীদের নিকট হতে মাসিক মাসোহারা দাবী করলে, তা দিতে অসম্মতি জ্ঞাপন করলে, কথায় কথায় জোন অধিনায়ক মো. আমিন উদ্দিন শোকজ নোটিশ দিয়ে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। ডবলমুরিং থানা কর্মকর্তা মোস্তফা ফরিদুল আলম ভুক্তভোগীদের একজন।

তিনি বলেন, আনসারদের বেতন ভাতাদি অনলাইনে প্রদান করলেও ওভার টাইমের বিল হাতে হাতে প্রদান করতে হয় বলে জানা যায়। ওভার টাইমের বিল প্রতি ১০০ টাকা হারে কর্তন করা, অন্যথায় ওভার টাইমের বিল পাশ করা হয় না।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের পাঁচলাইশের পাহাড়তলী ব্রীক ফিল্ড, এয়াকুব আলো ব্রীক ফিল্ড, পাচলাইশ, কাস্টম একাডেমী। হাজী আ:গণি ওয়াকফ এষ্টেট, চান্দগাঁও সানোয়ারা গ্রুপ, ডবলমুরিং পদ্মা ভবন, বায়েজিদ এলাকায় আবুল খায়ের কন্ডেন্স মিল্ক, কেডিএস গার্মেন্টস ওভার টাইমগার্ড রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগে প্রতিয়মান যে, অংগীভুত পিসি/এপিসি ও আনসারদের নিকট থেকে উতকোচের বিনিময়ে নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে বদলী। নীতিমালায় এক গার্ড হতে অন্য গার্ডে এক বছর পর পর বদলীর নিদের্শনা থাকলেও ৪/৫ মাস পরে বদলী করা হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, উত্তর জোনে ৬ টি থানায়, তার নিজস্ব লোক দিয়ে উতকোচ, মাসোহারা ও বদলী নিয়োগ বানিজ্য পরিচালনা করেন বলে একাদিক সুত্রে জানা যায়। যেহেতু সরকারের সুশৃঙ্খল একটি বাহিনীর অফিস, তাই অফিসের সময়সুচি রয়েছে।

সরকারী অফিস আদেশে দেখা যায়,কর্মদিবসে অফিসের সময় হচ্ছে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা। অভিযোগ রয়েছে উক্ত কর্মকর্তা নাকি প্রায় সময় রাত ৮/৯ পর্যন্ত অফিসে বসে থাকেন।

এই সব তথ্যের ভিত্তিতে মো. আমিন উদ্দিনের সাথে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি একজন সৎ ও যথাযত দায়িত্ব পালনকারী হিসাবে নিজেকে গর্ব করতে পারি। আমার এই সুনাম কে নস্যাত করার জন্য কিছু মহল ষড়যন্ত্র করছে। আমি আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলতে পারি, আমি কোন অন্যায় অনিয়মের সাথে জড়িত নয়। ভুক্তভোগী ও সাধারণ আনসারদের দাবী, আমরা অসহায় কর্মজীবি। যে কর্মের উপর আমাদের পরিবার পরিজন ও সংসার চলে। তাই আমাদের সৎ উপর্জনের মাধ্যমে আমরা কোন ধরনের অন্যায় ও অবিচারের শিকার যেন না হই। এ জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..