আজকের তরুণরাই আগামী দিনের বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে। তাই ভবিষ্যতের দায়িত্ব পালনের জন্য তরুণদের এখন থেকেই জ্ঞান, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও দায়িত্ববোধ দিয়ে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
তিনি বলেন, শুধু একাডেমিক ডিগ্রি অর্জন করলেই ভবিষ্যতের নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত হওয়া যায় না। বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন এবং পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতাও নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (UAP)-এর আইন ও মানবাধিকার বিভাগ এবং ইউনেস্কো মাদানজিত সিং সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড লিগ্যাল অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস স্টাডিজ (UMSAILS)-এর যৌথ আয়োজনে ‘৩য় UMSAILS-UAP আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় মুট কোর্ট প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইন পেশার নৈতিক ও পেশাগত দায়িত্বের বিষয়টি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো ব্যক্তির পক্ষে আইনজীবী হিসেবে দাঁড়ালে একজন আইনজীবীর ওপর গুরুত্বপূর্ণ পেশাগত ও নৈতিক দায়িত্ব বর্তায়। তাই আইন শিক্ষার্থীদের আইন ও বিধিবিধানের জ্ঞানের পাশাপাশি সততা, দায়িত্ববোধ, যুক্তিনির্ভর চিন্তা এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।
প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে ববি হাজ্জাজ বলেন, ভবিষ্যতের আইন পেশার ধরন বর্তমান সময়ের মতো থাকবে না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও ডিজিটাল প্রযুক্তি ইতোমধ্যে আইনগত গবেষণা, নথি বিশ্লেষণসহ পেশাগত কাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনছে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিকে ভয় পাওয়ার পরিবর্তে তা দায়িত্বশীল ও বিচক্ষণতার সঙ্গে ব্যবহারের দক্ষতা অর্জন করতে হবে। প্রযুক্তি মানুষের কাজ সহজ করতে পারে, কিন্তু মানুষের বিচার-বিশ্লেষণ, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের জায়গা কখনো নিতে পারে না।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে উচ্চপ্রযুক্তি, উদ্ভাবন, বিদেশি বিনিয়োগ, দক্ষ মানবসম্পদ এবং জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির বিকাশে গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি জানান, বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বিনিয়োগ ও সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক রূপান্তরে তরুণ প্রজন্মই সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রতিযোগিতায় জয়-পরাজয় স্বাভাবিক। তবে প্রত্যেক প্রতিযোগীর উচিত নিজের সর্বোচ্চ সক্ষমতা দিয়ে অংশ নেওয়া এবং প্রতিযোগিতা থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করা।
তিনি বলেন, “আপনারা এখন যে প্রস্তুতি নিচ্ছেন, সেটিই ভবিষ্যতে আপনাদের পেশাগত জীবনের ভিত্তি তৈরি করবে। নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করুন এবং ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করুন।”
ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের আইন বিভাগের চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান কে এম মজিবুল হক এবং ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. আবু সাইদ মোস্তাক আহমেদ।
অনুষ্ঠানে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ১৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ইউএপির বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন।





