যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগে প্রশ্নফাঁস, আগের চক্রের সংশ্লিষ্টতাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগে প্রশ্নফাঁস, আগের চক্রের সংশ্লিষ্টতাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশ্নফাঁস

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আগের কোনো চক্র জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

এ ঘটনায় মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধেও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে ইয়্যুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আমিনুল হক জানান, প্রশ্নফাঁসের ঘটনার তদন্তে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই) কাজ করছে। পাশাপাশি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) একটি ফরেনসিক দল গঠন করে ঘটনার দিনের বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। প্রয়োজনীয় ফরেনসিক প্রতিবেদন তৈরির কাজও চলমান রয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার আগে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চায় না মন্ত্রণালয়। নিয়োগ কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি প্রশ্নপত্র ছাপানো, ফটোকপি করা এবং বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রে পাঠানোর কাজে বাইরে থেকে যাঁরা যুক্ত ছিলেন, তাঁদের ভূমিকাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

পাঁচ মিনিটের মধ্যে প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি নিশ্চিত

প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ১০ অক্টোবর সকাল ১১টায় সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ওই দিন সকাল ১০টা ৩ মিনিটের দিকে তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর পান। খবর পাওয়ার পরপরই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানান এবং ফাঁস হওয়া প্রশ্নের সঙ্গে মূল প্রশ্নপত্রের মিল যাচাই করতে বলেন।

তিনি জানান, মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যে প্রশ্নপত্রের সঙ্গে ফাঁস হওয়া প্রশ্নের মিল থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। এরপরই পরীক্ষা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পরীক্ষার্থীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ

দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে চাকরির আশায় এবং নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে অনেক পরীক্ষার্থী ওই পরীক্ষায় অংশ নিতে এসেছিলেন। পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় তাঁদের ভোগান্তি ও হতাশার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ঘটনার পরপরই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে নতুন পরীক্ষার তারিখও নির্ধারণ করা হয়েছে।

১৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে স্থগিত নিয়োগ পরীক্ষা

প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১৬ অক্টোবর শুক্রবার বিকেল ৩টায় সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের স্থগিত নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত কমিটিকে প্রথমে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল। তবে ঘটনার গভীরে গিয়ে তদন্তের স্বার্থে কমিটি আরও সময় চেয়েছে। এ কারণে আগামী রোববার পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়েছে বলে জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
ACP
সংবাদ প্রতিনিধি

ACP

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।