আজ ২৫ অক্টোবর, বিশ্ব অপেরা দিবস। বিশ্বজুড়ে অপেরা শিল্পের ঐতিহ্য, সৌন্দর্য ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব তুলে ধরতে প্রতিবছর এ দিনটি পালন করা হয়। সংগীত, নাটক, অভিনয়, মঞ্চসজ্জা ও দৃশ্যশিল্পের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা অপেরা মানুষের আবেগ, জীবনসংগ্রাম এবং সমাজের নানা গল্পকে শিল্পের ভাষায় প্রকাশ করে।
বিশ্ব অপেরা দিবসের উদ্যোগ নেওয়া হয় অপেরা শিল্পের ইতিবাচক ভূমিকা তুলে ধরার উদ্দেশ্যে। ২০১৮ সালে স্পেনের মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত প্রথম বিশ্ব অপেরা ফোরামে এ দিবস পালনের ধারণা নিয়ে আলোচনা হয়। পরে OPERA America, Opera Europa এবং Ópera Latinoamérica যৌথভাবে উদ্যোগটি এগিয়ে নেয়। দিবসটি পালনের তারিখ ২৫ অক্টোবর—প্রখ্যাত সংগীতকার জর্জেস বিজে ও ইয়োহান শ্ট্রাউস দ্বিতীয়ের জন্মদিনের সঙ্গে মিল রেখে নির্ধারণ করা হয়েছে।
অপেরা মূলত পাশ্চাত্য সংগীতনাট্যের একটি বিশেষ ধারা। এতে কাহিনি উপস্থাপনের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয় সংগীত ও কণ্ঠশিল্পীর পরিবেশনা। এর সঙ্গে যুক্ত থাকে অভিনয়, অর্কেস্ট্রা, পোশাক, মঞ্চসজ্জা এবং আলোক পরিকল্পনা। প্রেম, বিরহ, বীরত্ব, সামাজিক দ্বন্দ্ব, ক্ষমতা ও মানবিক অনুভূতির নানা দিক অপেরার কাহিনিতে উঠে আসে।
বিশ্ব অপেরা দিবস শুধু একটি শিল্পমাধ্যমের উদ্যাপন নয়; বরং বিভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি ও দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানোরও একটি উপলক্ষ। এ শিল্প মানুষের অনুভূতিকে স্পর্শ করার পাশাপাশি সহনশীলতা, সৃজনশীলতা এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখে।
২০২৬ সালের বিশ্ব অপেরা দিবসের প্রতিপাদ্য ‘Opera Connects’। এর মূল ভাবনা হলো—অপেরা কীভাবে ভৌগোলিক সীমানা, ভাষা ও সংস্কৃতির পার্থক্য অতিক্রম করে মানুষকে সংযুক্ত করতে পারে। দিবসটি উপলক্ষে অপেরা সংগঠন, শিল্পী ও দর্শকদের পরিবেশনা, শিল্পীদের অভিজ্ঞতা এবং অপেরার সাংস্কৃতিক অবদান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশ্বের নানা দেশে অপেরা মঞ্চায়ন, উন্মুক্ত মহড়া, আলোচনা, শিল্পীদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং অনলাইন প্রচারের মাধ্যমে দিবসটি উদ্যাপন করা হয়। নতুন প্রজন্মের কাছে অপেরা পরিচিত করা এবং এই শিল্পের প্রতি আগ্রহ বাড়ানোও দিবসটির অন্যতম লক্ষ্য।
বিশ্ব অপেরা দিবসে শিল্প-সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা মনে করিয়ে দেন, সংগীত ও নাট্যকলার শক্তি মানুষের মধ্যে দূরত্ব কমাতে পারে। বৈচিত্র্যের মধ্যেও মানবিক সংযোগ তৈরি করে অপেরা বিশ্বসংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে।





