আজ ২৭ অক্টোবর, বিশ্ব পেশাগত থেরাপি দিবস (World Occupational Therapy Day)। শারীরিক, মানসিক, বুদ্ধিবৃত্তিক বা বিকাশজনিত সীমাবদ্ধতা থাকা মানুষকে দৈনন্দিন কাজকর্মে আরও স্বাবলম্বী করে তোলা এবং সমাজে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে পেশাগত থেরাপির গুরুত্ব তুলে ধরতে বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালন করা হয়। বিশ্ব ফেডারেশন অব অকুপেশনাল থেরাপিস্টস (WFOT) প্রতিবছর এ দিবস পালনের মাধ্যমে এই পেশা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে কাজ করে।
২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য: অংশগ্রহণই গুরুত্বপূর্ণ
এ বছরের প্রতিপাদ্য “Participation Matters”, যার বাংলা ভাবার্থ—“অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ”। প্রতিপাদ্যটি মনে করিয়ে দেয়, দৈনন্দিন কাজ, ব্যক্তিগত ভূমিকা ও নিয়মিত জীবনযাপনে অংশ নিতে পারা মানুষের স্বাস্থ্য, সুস্থতা, আত্মবিশ্বাস ও জীবনমানের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।
পেশাগত থেরাপি কী?
পেশাগত থেরাপি বা অকুপেশনাল থেরাপি হলো এমন একটি স্বাস্থ্যসেবামূলক পদ্ধতি, যার মাধ্যমে মানুষকে নিজের দৈনন্দিন কাজ আরও স্বাধীনভাবে সম্পন্ন করতে সহায়তা করা হয়। এখানে ‘পেশা’ বলতে শুধু চাকরি বা জীবিকা বোঝায় না; বরং খাওয়া, পোশাক পরা, গোসল করা, পড়াশোনা, কাজ করা, খেলাধুলা, অবসরযাপন এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মতো দৈনন্দিন কাজকেও বোঝায়।
প্রশিক্ষিত অকুপেশনাল থেরাপিস্ট ব্যক্তির শারীরিক সক্ষমতা, চিন্তাশক্তি, মানসিক অবস্থা, পরিবেশ ও ব্যক্তিগত প্রয়োজন বিবেচনা করে পুনর্বাসন পরিকল্পনা তৈরি করেন। লক্ষ্য থাকে ব্যক্তিকে যতটা সম্ভব স্বাধীনভাবে জীবনযাপনে সক্ষম করা।
আরও পড়ুনঃ আজ বিশ্ব অডিওভিজুয়াল ঐতিহ্য দিবস: ইতিহাস ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের আহ্বান
কারা পেতে পারেন এই সেবা?
বিভিন্ন বয়সের মানুষ পেশাগত থেরাপি থেকে উপকৃত হতে পারেন। যেমন—
- স্ট্রোকের পর হাত-পায়ের কার্যক্ষমতা ও দৈনন্দিন দক্ষতা ফিরে পেতে সহায়তা।
- দুর্ঘটনা বা আঘাতের পর স্বাভাবিক কাজকর্মে ফেরার প্রস্তুতি।
- প্রতিবন্ধী শিশুদের দৈনন্দিন দক্ষতা, খেলাধুলা ও শিক্ষায় অংশগ্রহণে সহায়তা।
- অটিজম বা বিকাশজনিত সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদের ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষতা উন্নয়ন।
- বয়স্ক ব্যক্তিদের নিরাপদে চলাফেরা ও দৈনন্দিন কাজ সম্পন্ন করার সক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়তা।
- দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা বা শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে দৈনন্দিন কাজে সমস্যায় পড়া ব্যক্তিদের পুনর্বাসন।
কোন ব্যক্তির জন্য কী ধরনের থেরাপি প্রয়োজন, তা তাঁর অবস্থা ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়।
বাংলাদেশে পেশাগত থেরাপির গুরুত্ব
বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, স্ট্রোক থেকে সেরে ওঠা রোগী, দুর্ঘটনায় আহত মানুষ এবং বিকাশজনিত সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদের পুনর্বাসনে পেশাগত থেরাপির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। হাসপাতাল, পুনর্বাসনকেন্দ্র, বিশেষায়িত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটিভিত্তিক সেবায় এ ধরনের থেরাপি মানুষের দৈনন্দিন সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
আরও পড়ূনঃ শিক্ষা সংস্কারের প্রস্তাবে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীরা, ফ্রান্সে ছাত্র আন্দোলন চলবে
তবে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এ সেবা সম্পর্কে সচেতনতা, প্রশিক্ষিত জনবল এবং সহজলভ্য সেবাকেন্দ্র বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। পরিবার, স্বাস্থ্যকর্মী, শিক্ষক ও সামাজিক সংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বয় তৈরি করা গেলে প্রয়োজনীয় মানুষকে উপযুক্ত সেবার আওতায় আনা সহজ হবে।
মর্যাদা, স্বাধীনতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ
বিশ্ব পেশাগত থেরাপি দিবসের মূল বার্তা হলো—শারীরিক বা মানসিক সীমাবদ্ধতা যেন কাউকে সমাজের বাইরে ঠেলে না দেয়। প্রত্যেক মানুষের নিজস্ব সামর্থ্য, পছন্দ ও স্বপ্নকে সম্মান করে তাকে দৈনন্দিন জীবন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া জরুরি।
আরও পড়ুনঃ পশ্চিম এশিয়ায় শান্তির উদ্যোগ: তেহরানে ইরান-সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্কের বৈঠক
সচেতনতা বৃদ্ধি, সেবার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং প্রতিবন্ধীবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার মধ্য দিয়েই দিবসটির তাৎপর্য বাস্তবে প্রতিফলিত হতে পারে।





