শিক্ষা সংস্কারের প্রস্তাবে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীরা, ফ্রান্সে ছাত্র আন্দোলন চলবে

শিক্ষা সংস্কারের প্রস্তাবে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীরা, ফ্রান্সে ছাত্র আন্দোলন চলবে
শিক্ষা সংস্কারের প্রস্তাবে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীরা, ফ্রান্সে ছাত্র আন্দোলন চলবে

প্যারিস, ২৭ অক্টোবর ২০২৬: ফ্রান্সে ছাত্র আন্দোলন । শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারে সরকারের প্রস্তাবিত পদক্ষেপকে অপর্যাপ্ত আখ্যা দিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ফ্রান্সের শিক্ষার্থীরা। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের সংকট সমাধানে সরকার কিছু উদ্যোগের কথা বললেও শিক্ষার্থীদের সব দাবি পূরণ হয়নি। তাই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন ছাত্রনেতারা।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) ফরাসি সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন শিক্ষার্থী আন্দোলনের নেতারা। বৈঠক শেষে তাঁরা জানান, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়নে অর্থায়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার মতো কিছু প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। তবে এসব উদ্যোগ তাঁদের প্রত্যাশা পূরণে যথেষ্ট নয়।

আরও পড়ুনঃ পশ্চিম এশিয়ায় শান্তির উদ্যোগ: তেহরানে ইরান-সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্কের বৈঠক

ছাত্রনেতা লুই লেতুবলন বলেন, তাঁদের সব দাবি মেনে নেওয়া হয়নি। প্রয়োজনীয় পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তাঁরা।

শিক্ষক সংকট ও জরাজীর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে ক্ষোভ

ফ্রান্সে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা শিক্ষার্থী আন্দোলনের পেছনে রয়েছে শিক্ষকসংকট, অতিরিক্ত শিক্ষার্থী নিয়ে শ্রেণিকক্ষ পরিচালনা, পুরোনো ও জরাজীর্ণ স্কুল ভবন, গরমের সময় অসহনীয় পরিবেশ এবং শিক্ষার সুযোগে বৈষম্যের অভিযোগ। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনও এসব সমস্যার সমাধান দাবি করছে।

প্যারিসের আশপাশের এলাকা থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ধীরে ধীরে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের দাবি, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে শুধু আশ্বাস নয়, পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ, নিরাপদ ও আধুনিক শ্রেণিকক্ষ এবং উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের ক্ষেত্রে ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পদ্ধতি পরিবর্তনের প্রস্তাব

শিক্ষার্থীদের অসন্তোষের অন্যতম কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রচলিত ব্যবস্থা। তাঁদের অভিযোগ, বর্তমান পদ্ধতিতে উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ ও প্রক্রিয়া নিয়ে অস্পষ্টতা এবং সামাজিক বৈষম্যের সমস্যা রয়েছে।

আরও পড়ূনঃ ২৫ বছরের অপেক্ষার অবসান, প্রথমবার ব্যালন ডি’অর জিতলেন হ্যারি কেন

সরকারের প্রস্তাবের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পদ্ধতিতে পরিবর্তন, শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত আসন সৃষ্টি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়নে অর্থায়নের বিষয় রয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের সময়সীমা, অর্থের পরিমাণ ও কার্যকারিতা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে অপেক্ষা করছেন আন্দোলনকারীরা।

অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে সরকার

শিক্ষা খাতে সংস্কারের দাবি এমন এক সময়ে জোরালো হয়েছে, যখন ফ্রান্সের সরকার বাজেট ঘাটতি ও ক্রমবর্ধমান সরকারি ঋণ নিয়ে চাপের মুখে রয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির সরকারি ঋণ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১২০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

এ পরিস্থিতিতে শিক্ষা খাতে বাড়তি ব্যয় নির্বাহ এবং একই সঙ্গে সরকারি অর্থব্যবস্থার ভারসাম্য বজায় রাখা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তবে অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা দেখিয়ে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিকে উপেক্ষা করা যাবে না—এমন অবস্থানেই অনড় আন্দোলনকারীরা।

শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ৫ নভেম্বর দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আন্দোলনের সঙ্গে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের সমর্থকদেরও যুক্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

শিক্ষা সংস্কারের প্রস্তাব নিয়ে সরকার ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা চললেও সংকটের স্থায়ী সমাধান এখনো অনিশ্চিত। সরকারের ঘোষিত পদক্ষেপ বাস্তবে কতটা কার্যকর হয় এবং শিক্ষার্থীদের দাবির কতটা পূরণ হয়, তার ওপরই নির্ভর করছে ফ্রান্সের চলমান আন্দোলনের পরবর্তী গতিপথ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
সংবাদ প্রতিনিধি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এই সংবাদটি The News-এর সংবাদ প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।