ইউরোপের সংকট কাটাতে ত্রাণকর্তা ভারত

ইউরোপের সংকট কাটাতে ত্রাণকর্তা ভারত

ইউরোপের জ্বালানি সংকট কাটাতে ত্রাণকর্তা ভারত । ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মধ্য দিয়ে নতুন রূপ নিচ্ছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজার। এশিয়ার বৃহত্তম শোধন হাব হিসেবে ভারত এখন ইউরোপের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ডিজেল সরবরাহকারী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

আন্তর্জাতিক এনার্জি অ্যানালিটিক্স প্রতিষ্ঠান ‘ভোরটেক্সা’ (Vortexa)-র তথ্যমতে, আগস্ট মাসে লোহিত সাগরের বাব-এল-মান্দেব প্রণালী অতিক্রম করে ইউরোপে পাঠানো মোট ডিজেল ও গ্যাসঅয়েলের প্রায় ৬০ শতাংশই গেছে ভারতের শোধনাগারগুলো থেকে।

প্রতিদিন প্রায় দুই লাখ ব্যারেল পরিশোধিত জ্বালানি এই পথ দিয়ে ইউরোপে প্রবাহিত হচ্ছে, যা অঞ্চলটির শক্তি নিরাপত্তায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হয়ে উঠেছে।

রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ ঘাটতি

ইউরোপমুখী জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতির মূল কারণ দুটি প্রধান সরবরাহকারী দেশের বর্তমান পরিস্থিতি:

* রাশিয়ার অবকাঠামোগত বিপর্যয়: ড্রোন হামলা ও অব্যাহত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়া থেকে সেবোর্ন ডিজেল রপ্তানি আশঙ্কাজনকভাবে কমে গড়ে প্রতিদিন ১.৫ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে, যা সাম্প্রতিক বছরের পঞ্চবার্ষিক গড়ের চেয়ে ৮০ শতাংশেরও বেশি কম।

* মার্কিন রপ্তানি হ্রাস: আগস্টের প্রথমার্ধে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দিনে ৫ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল পর্যন্ত তেল আসলেও, দ্বিতীয়ার্ধে তা প্রায় ৩৫ শতাংশ কমে দৈনিক ৩ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলে ঠেকেছে।

একই সময়ে হরমুজ প্রণালী ও ওমান উপকূলে জাহাজ থেকে জাহাজে জ্বালানি স্থানান্তরের (Ship-to-ship transfer) গতি কমে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের বিকল্প সরবরাহ পথগুলোও আশানুরূপ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না।

বৈশ্বিক বাণিজ্যে ভারতের আধিপত্য

বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম তেলের শোধন ক্ষমতার অধিকারী ভারতের বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা ২৫৮.১ মিলিয়ন টন। সমাপ্ত অর্থবছরে দেশটি সর্বমোট ৬১.৫ মিলিয়ন টন পেট্রোলিয়াম পণ্য রপ্তানি করে বিশ্ববাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। এই বিশাল শোধন সক্ষমতার কারণেই পশ্চিমা দেশগুলোর কঠোর অবরোধ থাকা সত্ত্বেও ভারত বিশ্ববাজারে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে পারছে।

উদীয়মান চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকি

ইউরোপের বাজার সামাল দিলেও ভারতের সামনে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ স্পষ্ট হয়ে উঠছে:

১. কাঁচামাল আমদানিতে মন্থরতা: আগস্ট মাসে ভারতের অপরিশোধিত তেল ও কনডেনসেট আমদানি কমে দিনে ৩.৮ মিলিয়ন ব্যারেলে পৌঁছেছে, যা এক বছর আগে ছিল ৪.৮ মিলিয়ন ব্যারেল।

২. শীতকালীন তেলের চাহিদা: ইউরোপে শীতের আগমনের পাশাপাশি আটলান্টিক অঞ্চলের তেল শোধনাগারগুলোতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজ (Autumn Maintenance) শুরু হতে যাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপে বর্তমান ডিজেলের মজুত প্রয়োজনের তুলনায় সীমিত। শীতকালীন বাড়তি চাহিদার সময় যদি ভারত তাদের কাঁচামাল সংকট বা অভ্যন্তরীণ শোধন সমস্যার কারণে সরবরাহ সচল রাখতে ব্যর্থ হয়, তবে বৈশ্বিক বাজারে পেট্রোলিয়াম পণ্যের দাম আরেক দফা আকাশচুম্বী হতে পারে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।