রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিকল্প নেই: তারেক রহমান

রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিকল্প নেই: তারেক রহমান

বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর টেকসই, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ওপর জোর দিয়ে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) বারহাম সালিহের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দীর্ঘায়িত রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে নিরাপদ প্রত্যাবর্তনই একমাত্র পথ।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে নিউইয়র্কের হাইয়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল হোটেলে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ইউএনএইচসিআর প্রধান।

বৈঠক শেষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে আলোচনার মূল বিষয়বস্তু তুলে ধরা হয়।

বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ দিকসমূহ:

* প্রত্যাবাসনে জোর: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উল্লেখ করেন, মানবিক কারণে বাংলাদেশ ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। তবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা জরুরি।

* আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির আহ্বান: মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে এবং সেখানে সহায়কমূলক পরিবেশ তৈরিতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

* মানবিক তহবিল সংকট: আশ্রয়শিবিরগুলোতে রোহিঙ্গাদের মূল চাহিদা পূরণে আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রবাহ অব্যাহত রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈশ্বিক অন্যান্য সংকটের কারণে রোহিঙ্গা তহবিলে যাতে টান না পড়ে, সে বিষয়ে ইউএনএইচসিআর-এর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

* বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা: ইউএনএইচসিআর প্রধান বারহাম সালিহ বাস্তুচ্যুত এই বিপুল জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোর জন্য বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, রোহিঙ্গাদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং টেকসই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘ বাংলাদেশের পাশে থাকবে।

উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান এবং বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল ও জাতিসংঘের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
সংবাদ প্রতিনিধি

বিশেষ প্রতিনিধি

এই সংবাদটি The News-এর সংবাদ প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।