মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার মাদবরের চর ইউনিয়নের বাসিন্দা শেখ ফরিদ। তাঁর বাবা হিরু শেখ। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) একজন সাধারণ কর্মচারী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও বর্তমানে তাঁর বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সামান্য চাকরির আয় থেকে কীভাবে তাঁর এই সম্পদ অর্জিত হয়েছে, তা নিয়ে স্থানীয়ভাবে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, মাদারীপুরের বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণের অর্থ ছাড়কে কেন্দ্র করে একটি দালালচক্র সক্রিয় রয়েছে।
এই চক্রের সঙ্গে শেখ ফরিদের সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের অসহায়ত্বকে কাজে লাগিয়ে ক্ষতিপূরণের অর্থ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে অর্থ আদায় এবং কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে।
এ ছাড়া, মাদারীপুর জেলা প্রশাসনের দালালের তালিকায় শেখ ফরিদের নাম রয়েছে। তাঁর সম্পদের উৎস ও ভূমি অধিগ্রহণকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ড নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একাধিক লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে বলেও জানা গেছে।
অন্যদিকে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় দায়ের করা দুটি হত্যা মামলায় শেখ ফরিদ আসামি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে মিরপুরে শিক্ষার্থী সাগর হত্যা মামলায় তাঁকে ১৪২ নম্বর এবং শাহবাগের একটি হত্যা মামলায় ২৬২ নম্বর আসামি ।
একজন সরকারি কর্মচারীর বৈধ আয়ের সঙ্গে তাঁর অর্জিত সম্পদের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা যাচাই করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। একই সঙ্গে ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা জরুরি।





