সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড থেকে শ্রীলঙ্কান নাগরিক শিবরাজার রেহাই: নেপথ্যের কূটনৈতিক চর্চা নিয়ে নানা আলোচনা
কলম্বো / রিয়াদ:
সৌদি আরবের আদালতে মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে শ্রীলঙ্কার নাগরিক শিবরাজাস আনজোন (Sivarasa Anojan)-এর মুক্তি পাওয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এবং সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। ফেসবুকের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে এই কঠোর রায় দেওয়া হয়েছিল। তবে ভারতীয় কিছু সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই মামলার আইনি লড়াই এবং কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।
পরিবারের আকুতি ও স্থানীয় উদ্যোগ:
প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, শিবরাজার মৃত্যুদণ্ডের দিন-তারিখ নির্ধারিত হয়ে যাওয়ার পর তার পরিবার ও মা স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার শরণাপন্ন হন। এরপর বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যদের (এমপি) পর্যন্ত গড়ায়। প্রাথমিক পর্যায়ে সরকারিভাবে তেমন কোনো বড় উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব না হলেও, পরবর্তীতে কয়েকজন এমপি বিকল্প কূটনৈতিক যোগাযোগের পথ খোঁজেন।
কূটনৈতিক লিয়াজোঁ ও নরেন্দ্র মোদির ভূমিকা:
ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, শ্রীলঙ্কার সংসদ সদস্যদের মধ্যে কেউ কেউ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সৌদি যুবরাজের সুসম্পর্কের বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন। এ সময় মোদির ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে যোগাযোগ করে বিষয়টি সৌদি যুবরাজের নিকট পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। পরবর্তীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী তার দাপ্তরিক মাধ্যম ব্যবহার করে সৌদি যুবরাজকে সাজা পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে সৌদি পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, বিষয়টি সরাসরি সংশ্লিষ্ট দেশের কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে হওয়া উচিত।
আইনি নিষ্পত্তি ও প্রত্যাবর্তন:
পরবর্তীতে শ্রীলঙ্কার পক্ষ থেকে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বা কমিটি সরাসরি সৌদি আরব সফর করেন এবং সেখানে রাজকীয় কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করেন। এই উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আপিল আদালত মামলাটি খারিজ করে দেয় এবং শিবরাজার মৃত্যুদণ্ড বাতিল হয়। পরবর্তীতে তিনি বিশেষ ব্যবস্থায় নিজ দেশে ফিরে আসেন বলে প্রতিবেদনে প্রকাশ পায়।
বিশ্লেষকদের মতামত:
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে একে আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও ব্যক্তিগত প্রভাবের বড় সাফল্য হিসেবে দেখলেও, বিশেষজ্ঞরা মনে করেন—সংবেদনশীল এবং আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর এসব ঘটনায় আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক রুট, কনসুলার সেবা এবং আইনি প্রক্রিয়া সবসময়ই সবচেয়ে বড় ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। তবে এ ধরনের ঘটনা প্রবাসে বিপদে পড়া নাগরিকদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নিজ দেশের সরকারের পক্ষ থেকে আরও জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতার প্রত্যাশা বাড়িয়ে দেয়।





