কাজাখস্তানে বলখাশ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রোসাটম ও কাজাখস্তান নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টস এলএলপি (কেএনপিপি) একটি ইপিসি চুক্তি করেছে।
৩ সেপ্টেম্বর ইস্টার্ন ইকোনমিক ফোরামের সাইডলাইনে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানিয়েছে রোসাটম।
প্রস্তাবিত বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি পাওয়ার ইউনিট স্থাপন করা হবে। প্রতিটি ইউনিটের ক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট হওয়ায় কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন সক্ষমতা দাঁড়াবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।
রোসাটমের পারমাণবিক শক্তিবিষয়ক প্রথম উপ-মহাপরিচালক এবং অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেই পেত্রভ এবং কেএনপিপির মহাপরিচালক এরনাত বেরদিগুলভ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ এবং কাজাখস্তানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থার চেয়ারম্যান আলমাসাদাম সাতকালিয়েভ উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুনঃ রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর আজ প্রথমবার ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল
আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়ামের নেতৃত্বে থাকা রোসাটম প্রকল্পটির সার্বিক বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করবে। এর আওতায় থাকবে বিদ্যুৎকেন্দ্রের নকশা প্রণয়ন, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ, নির্মাণকাজ, কমিশনিং এবং প্রকল্পটি সম্পূর্ণ অবস্থায় গ্রাহকের কাছে হস্তান্তর।
বলখাশ কেন্দ্রটিতে ভিভিইআর-১২০০ ধরনের আধুনিক পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। রোসাটমের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রযুক্তি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণের জন্য তৈরি এবং বিভিন্ন দেশে এর ইউনিট চালু বা নির্মাণাধীন রয়েছে।
রাশিয়া, বেলারুশ, তুরস্ক, বাংলাদেশ, হাঙ্গেরি, মিসর ও চীনে ভিভিইআর-১২০০ প্রযুক্তির ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে অথবা নির্মাণ পর্যায়ে রয়েছে। এসব রিঅ্যাক্টরের নকশাগত আয়ুষ্কাল ৬০ বছর এবং প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হলে তা আরও ২০ বছর বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ বলেন, প্রকল্পটির প্রতিটি পর্যায়ে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও দক্ষতার সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ এবং ভবিষ্যৎ পরিচালনা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার।
রোসাটম জানিয়েছে, কেন্দ্রটির জন্য নির্ধারিত স্থানের উপযুক্ততা যাচাইয়ে ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। এসব কার্যক্রম ২০২৭ সালে শেষ হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এরপর নির্মাণের অনুমোদন পেতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুতের প্রক্রিয়া শুরু হবে।





