আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পাওয়া কুরআন হাফেজ ও শিক্ষার্থীদের সম্মানিত করার পাশাপাশি দেশে কুরআন শিক্ষা ও চর্চায় মানুষকে আরও উৎসাহিত করতে সরকার কাজ করবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কুরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী বাংলাদেশি প্রতিযোগীরা বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইংয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্বের ১৩৩টি দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বাংলাদেশি প্রতিযোগীদের এমন সাফল্য দেশের জন্য অত্যন্ত গর্ব ও আনন্দের। তিনি বিজয়ী হাফেজ ও শিক্ষার্থী, তাদের শিক্ষক-উস্তাদ, অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সবাইকে অভিনন্দন জানান।
ধর্মীয় শিক্ষা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, দেশে ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার এবং হাফেজ-আলেমদের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকারও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সাক্ষাৎকালে বিজয়ী প্রতিযোগীরা তাদের অভিভাবক ও শিক্ষক-উস্তাদদের বঙ্গভবনে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য রাষ্ট্রপতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, মাদ্রাসা-মক্তবসহ ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মেধাবী শিক্ষার্থী, হাফেজ ও আলেমদের সম্মানিত করা হলে কুরআন শিক্ষা ও ধর্মীয় চর্চায় মানুষের আগ্রহ আরও বাড়বে। এ বিষয়ে সরকারের উদ্যোগ কামনা করেন তারা।
আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনা হাফেজদের যথাযথ মর্যাদা দেওয়ারও দাবি জানান বিজয়ীরা।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ এবং দেশের অধিকাংশ মানুষ মুসলিম। ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায় দেশের মানুষ অতীতেও নানা ত্যাগ স্বীকার করেছে। পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নতুন অভিযাত্রায় প্রবেশ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার ও মানোন্নয়নে সরকার গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাবে।
কুরআন শিক্ষা মিশন, বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাওলানা মো. বিল্লাল হোসেনের নেতৃত্বে বিজয়ীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ১৫ পারা হিফজ, তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে প্রথম স্থান অর্জনকারী আর রায়হান ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী হাফেজ মোহাম্মদ জাকারিয়া এবং তৃতীয় স্থান অর্জনকারী তানযীমুল উম্মাহ গার্লস হিফয মাদ্রাসার শিক্ষার্থী হাফেজা রাবেতা বিনতে রমজান।
এ ছাড়া ৩০ পারা হিফজ, তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জনকারী মারকাযুল মদীনা মাদ্রাসার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী হাফেজ শেখ মো. মাহমুদুল হাসান (আশরাফী) এবং সাউদা বিনতে জামআ’হ রা. আন্তর্জাতিক বালিকা মাদ্রাসার শিক্ষার্থী হাফেজা মুসফিরা বিনতে মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বিজয়ী প্রতিযোগীদের অভিভাবক, উস্তাদ এবং কুরআন শিক্ষা মিশন, বাংলাদেশের পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি বিজয়ী হাফেজদের হাতে রাষ্ট্রপতির ক্রেস্ট তুলে দেন এবং তাদের পরিবারের সদস্য ও উস্তাদদের সৌজন্য উপহার প্রদান করেন।
এ সময় রাষ্ট্রপতির সচিব ও বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।





