৫ নভেম্বর শুরু হচ্ছে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসর

৫ নভেম্বর শুরু হচ্ছে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসর
৫ নভেম্বর শুরু হচ্ছে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসর

তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করার লক্ষ্যে আয়োজিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে আগামী ৫ নভেম্বর।

উদ্বোধনী আয়োজনের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন করতে রোববার বিকেলে খুলনা জেলা স্টেডিয়াম ঘুরে দেখেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী ৫ নভেম্বর বিকেল ৩টায় খুলনা জেলা স্টেডিয়াম থেকে প্রধানমন্ত্রী দেশের ৫০৩টি উপজেলার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়ে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-সিজন ২’-এর উদ্বোধন করবেন।

আমিনুল হক বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করে তাদের জাতীয় পর্যায়ে নিয়ে আসাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। প্রথম আসরের মাধ্যমে উঠে আসা অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় বর্তমানে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

তিনি বলেন, এসব উদীয়মান ক্রীড়াবিদকে হারিয়ে যেতে দেওয়া হবে না। তাদের ক্রীড়াক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি পড়াশোনার দায়িত্বও সরকার বহন করবে।

তরুণ সমাজকে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার গুরুত্ব তুলে ধরে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তোলা, মাদকমুক্ত সমাজ তৈরি এবং শিশু-কিশোরদের ডিজিটাল ডিভাইসের অতিরিক্ত আসক্তি থেকে দূরে রাখাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

প্রধানমন্ত্রীর বিশ্বাসের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্রীড়াঙ্গনের বিস্তার এবং ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর মতো আয়োজনের মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে ঐক্য ও সম্প্রীতি বাড়ানো সম্ভব। এর মধ্য দিয়ে হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে একটি ঐক্যবদ্ধ সমাজ গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।

দ্বিতীয় আসরে অংশগ্রহণের ব্যাপক সাড়া পাওয়ার কথা জানিয়ে আমিনুল হক বলেন, এবার অনলাইনে রেকর্ড ১৬ লাখ ২৩ হাজার নিবন্ধন হয়েছে। প্রথম আসরে নিবন্ধনের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৬৮ হাজার।

তিনি জানান, এবার ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে দল গঠন করা হবে। সারা দেশ থেকে প্রায় ১৪ লাখ খেলোয়াড় এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন। ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শেষে উপজেলা ও বিভাগীয় পর্যায় পেরিয়ে আগামী বছরের মে বা জুনে জাতীয় পর্যায়ের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

খুলনার ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, খুলনা জেলা স্টেডিয়ামের অর্ধেকেরও বেশি গ্যালারি বর্তমানে নেই। স্টেডিয়ামটিকে পূর্ণাঙ্গ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ ক্রীড়া কমপ্লেক্স হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং খুব শিগগিরই কাজ শুরু হবে।

এ ছাড়া খুলনা বিকেএসপি, বিভাগীয় স্টেডিয়াম এবং মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আগামী জানুয়ারি থেকে খুলনার বিকেএসপির শিক্ষার্থীরা সেখানে পড়াশোনা ও খেলাধুলার সুযোগ পাবেন বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পর্কে আমিনুল হক বলেন, এসএসএফসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত নিরাপত্তাব্যবস্থায় পুরো আয়োজন নিরাপদ ও সফল করতে প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

স্টেডিয়াম পরিদর্শনের সময় জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল, খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, খুলনা জেলা পরিষদ প্রশাসক মনিরুল হাসান বাপ্পী, বিসিবি পরিচালক শফিকুল আলম তুহিন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মোল্লা খায়রুল ইসলামসহ স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
সংবাদ প্রতিনিধি

নিজস্ব প্রতিবেদক

এই সংবাদটি The News-এর সংবাদ প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।