আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে কোনো শিশুর শিক্ষাজীবন যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সরকার গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। তিনি বলেন, দরিদ্র ও অসচ্ছল পরিবারের সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকারি সহায়তা ও বিভিন্ন কল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
আজ মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার ১ নম্বর বেতিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, একটি শিক্ষিত, মানবিক ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় শিক্ষার্থীদের যথাযথ শিক্ষা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। বর্তমান সরকার সামাজিক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে। এরই অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় উৎসাহিত করা, শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ এবং তাদের শিক্ষা জীবনকে সহজ ও সুন্দর করতে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, শিক্ষার মান উন্নত হলে দেশের অগ্রগতিও ত্বরান্বিত হয়। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে দেশ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাই তাদের জন্য মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি এবং মেধা ও মননের বিকাশে সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
খাদ্যমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শিক্ষকদের আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। বক্তব্য শেষে তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ করেন। নতুন পোশাক পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকরা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা। এ সময় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম বিপিএম, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
খাদ্যমন্ত্রীকে গণসংবর্ধনা
স্কুল ড্রেস বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে ১ নম্বর বেতিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বেতিলা ইউনিয়ন বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানমকে গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সৈয়দ মাকসুদুল হাসান চৌধুরী।
গণসংবর্ধনায় বক্তারা মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসব পুনরায় আয়োজন এবং বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশের লেকটি সংস্কারের দাবি জানান। খাদ্যমন্ত্রী এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে মানিকগঞ্জের উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মানিকগঞ্জবাসী ভোট দিয়ে আমাকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছে। তাদের কল্যাণে কাজ করা এবং সবসময় তাদের পাশে থাকা আমার দায়িত্ব।’ তিনি মানিকগঞ্জবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং আগামী স্থানীয় নির্বাচনেও দলীয় বিভেদ ও মতপার্থক্য ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।





