কালীগঞ্জে প্রতিবন্ধী অর্নবের চিকিৎসার জন্য সকলের সহযোগিতা চান তার পিতা-মাতা 

কালীগঞ্জে প্রতিবন্ধী অর্নবের চিকিৎসার জন্য সকলের সহযোগিতা চান তার পিতা-মাতা 
কালীগঞ্জে প্রতিবন্ধী অর্নবের চিকিৎসার জন্য সকলের সহযোগিতা চান তার পিতা-মাতা 
সকাল হলেই স্কুল গেটের সামনে সিঙ্গাড়া-পুরি বানিয়ে বিক্রি করেন অনিমেষ। রোজগারের টাকায় কোন দিন বাজার করেন আবার কোন দিন জমা রাখেন।
প্রতিদিনের জমানো আর ধারদেনায় জোগাড় হওয়া টাকায় চলে তার প্রতিবন্ধী একমাত্র সন্তান অর্নবের চিকিৎসার ব্যয়। সে ছোটবেলা থেকে শারিরীক প্রতিবন্ধী। একদিকে ঠিকমত কথা বলতে পারে না, অন্যদিকে পায়ের শিরার সমস্যায় দুই পায়ে ভর করে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। এভাবে চলছে প্রায় ৮ বছরের অধিক সময়।
বাবা হতদরিদ্র হয়েও একমাত্র সন্তানের চিকিৎসায় সারাদেশে ছুটেছেন। তারপরও সুস্থ হয়নি অর্নব। এখন চিকিৎসকেরা বলেছেন, অস্ত্রপোচার করা হলে সে সুস্থ হয়ে যাবে। সে কারনে ব্যয় হবে প্রায় ৩ লক্ষাধিক টাকা। যা তার পরিবার কোন ভাবেই জোগাড় করতে পারছে না। তাদের বাড়ি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ শহরের নিশ্চিন্তপুর গ্রামে। অর্নবের বাবা অনিমেষ অধিকারী জানান, অর্নব তার একমাত্র সন্তান।
শিশু অবস্থায় বোঝা যায়নি যে সে শারিরীক প্রতিবন্ধী। যখন তার বয়স দেড় বছর তখন তারা বুঝতে পারেন তার পায়ে সমস্যা আছে। এরপর থেকে তিনি ধারদেনার মাধ্যমে অনেক ডাক্তার দেখিয়েছেন। তারা বলেছেন অর্নবের শিরার সমস্যা আছে। এখন অর্নবের বয়স ৯ বছর। সে উঠে দাঁড়াতে পারে কিন্ত কিছু সময় পরে শরীরের ভারসাম্য ধরে রাখতে না পারায় আছড়ে পড়ে।
অনিমেষ অধিকারী আরও বলেন, ৫ সদস্যের সংসার তাদের। নিজে শহরের সরকারী নলডাঙ্গা ভূষন হাইস্কুলের সামনে সড়কের পাশে টোঙ দোকান দিয়েছেন। যেখানে নিজে সিঙ্গাড়া পুরি তৈরী করে বিক্রি করেন। সারাদিন কঠোর পরিশ্রম করে যা আয় হয় তা দিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি ছেলের চিকিৎসায় ব্যয় করতে হয়।
কোন কোন সময় ছেলের পেছনে ব্যয় একটু বেশি হয়ে যায়। তখন আর সংসারের বাজার করতে পারেন না। ফলে তখন অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটে তাদের। এই ছোট্ট সিঙ্গাড়ার দোকান ছাড়া তাদের রোজগারের আর কোন জায়গা নেই।
অনিমেষ অধিকারী চোখ মুছতে মুছতে বলেন, নিজেরা যত কষ্টই করি না কেন শুধু কলিজার টুকরা সন্তান যদি সুস্থ হয়ে অন্য বাচ্চাদের মত হাটা চলা করতে পারতো এমনটা দেখতে পারলে শত অভাবের মধ্যেও তারাই হতেন সবচেয়ে সুখী মানুষ। তিনি বলেন, টাকার অভাবে ছেলের চিকিৎসা করাতে পারছিনা বাবা হয়ে এটা ভাবতেও কষ্ট লাগছে। মা অনিমা অধিকারী জানান, অর্নবের জন্মের পর থেকে তাকে ছেড়ে এক মুহুর্তও বাইরে থাকতে পারি না।
তিনি বলেন, ছোটো সিঙ্গাড়া পুরির দোকানে যা আয় হয়েছে তার বেশিরভাগই ব্যয় হয়েছে ছেলের চিকিৎসায়। অনেক দায়দেনাও হয়ে গেছি। তারপরও যদি ছেলেটা সুস্থ স্বাভাবিক হয়ে যেতো তাহলে আমার পরিবার সবচেয়ে সুখী হতো।
তিনি বলেন, ছেলের মুখের দিকে তাকালে মা হয়ে সহ্য করতে পারি না। আমাদের এমন অসহায় অবস্থার দিকে তাকিয়ে সামর্থবানদের এগিয়ে আসার অনুরোধ করছি।
প্রতিবেশী ঋষিকেশ সাহা জানান, প্রতিবন্ধি বাচ্চাটা নিয়ে পরিবারটি খুব কষ্ট করে থাকে। কোন কোন সময় ছেলের চিকিৎসার জন্য তাদের বাড়িতে চুলা জ্বলে না। আর অনিমেষের রোজগারের বেশিরভাগই ছেলের জন্য ব্যয় করে। এরপরও যদি ছেলেটি সুস্থ হয়ে যেতো তাহলে সবারই ভালো লাগতো।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
সংবাদ প্রতিনিধি

আরিফ মোল্ল্যা,  ঝিনাইদহ

এই সংবাদটি The News-এর সংবাদ প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।