× Banner
সর্বশেষ
ওভারথিংকিং ডিটক্স ব্লুপ্রিন্ট বইটির মোড়ক উন্মোচন করলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, অধিকাংশ জেলায় স্বাভাবিক অবস্থা ফিরছে প্রস্তাবিত কর্পোরেট গভর্ন্যান্স রুলস ২০২৬ নিয়ে আইসিএসবির সিপিডি প্রোগ্রাম মাগুরায় ১০ হাজার গাছের চারা রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন সংস্কৃতি মন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলনের আহ্বান পানি সম্পদমন্ত্রীর মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে ৬ জনকে পুশইন চেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি ঝিনাইদহে প্রথমবার পালিত হলো বিশ্ব পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস তথ্য ও উপাত্তের ভিত্তিতে নিরপেক্ষভাবে কাজ করাই পেশাদার সাংবাদিকতার মূল দর্শন – তথ্যমন্ত্রী Inner Wheel Club of Dhaka Cosmopolitan 2026–2027 Handover Ceremony & Collar Exchange Program ব্যবসা সম্প্রসারণেই অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব, ব্যবসায়ীদের প্রতি পরিবেশমন্ত্রীর আহ্বান

দেশে এখন কোন সুশাসন নেই চট্টগ্রাম লালদিঘীতে এরশাদ

admin
হালনাগাদ: শনিবার, ৭ এপ্রিল, ২০১৮

রাজিব শর্মা(চট্টগ্রাম ব্যুরো) : চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দানে সম্মিলিত জাতীয় জোটের মহাসমাবেশে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদ বলেছেন, দেশে এখন সুশাসন নেই।

১৬ কোটি মানুষের জীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আমরা মাঠে নেমেছি। আবশ্যই আমরা জয়ী হবো। দেশের মানুষ শান্তিতে নাই। দুর্নীতির মহাসড়কে আমরা হাবুডুবু খাচ্ছি। আমরা একজনের শাসন চাইনা। নির্বাচন পদ্ধতির পরিবর্তন চাই। প্রাদেশিক পদ্ধতির শাসন আমাদের সুশাসন দিতে পারে। দেশের ৮টি প্রদেশের চট্টলা হবে একটি প্রদেশ। প্রাদেশিক সরকার এ অঞ্চলের মানুষ শাসন করবে। বাংলার মানুষকে বাঁচাতে হবে। সর্বস্তরে নিরাপত্তা চাই। খুন হয় তা সরকার জানে।
আজ ৭ এপ্রিল শনিবার বিকেলে সমাবেশে তিনি আরো বলেন, আগে আগে ঢাকা-চট্টগ্রাম কিংবা ঢাকা-রংপুর যাতায়তে সময় লাগতো ৫ ঘন্টা। এখন লাগে ১৫ ঘন্টা। অনেক পরিবর্তন হয়েছে। সড়ক-মহাসড়কে বড় বড় গর্ত। মহাসড়কে হাবুডুবু খাচ্ছি। আমাকে বলত স্বৈরাচার। এখন আন্তর্জাতিকভাবে বলেছে বাংলাদেশের সরকার প্রধানের কথা। গত দুই সরকারের সময় ৫ বার বাংলাদেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ান হয়েছে। আমার সরকারের সময়তো তা ছিলনা। আমি ৪৬০টি উপজেলা, ৬৪টি জেলা, ১০ হাজার কি:মি: রাস্তা পাকাসহ বিভিন্ন ধরণের উন্নয়নের কাজ করেছি। যা বলে শেষ করা যাবেনা। কাফকো, সিইউএফএল করেছি। সিইউএফএল এ আমার সময়ে সার উৎপাদন হত, এখন সেখানে ১০ ট্রাক অস্ত্র খালাস হয়। চট্টগ্রামকে দ্বিতীয় রাজধানী করার চেষ্টা করেছি। হাইকোর্টের বেঞ্চ স্থাপন করেছি।
প্রদান অতিথির বক্তব্যে সাবেক এই রাষ্ট্রপতি তিনি বলেন, উপজেলাগুলোতো আমার বাবার নয়, নিয়ে যাইনি। তা বন্ধ করা হলো কেন। সরকার ক্ষমতায় আসার আগে বলেছিল ১০ টাকায় চাউল খাওয়াবেন। ঘরে ঘরে চাকুরী দিবেন। এখন মানুষ ৬০/৭০ টাকায় চাউল খায়। গরীব মানুষের কষ্ট হয়। আর ঘরে ঘরে চাকুরীর খবর নেই। দেশে এখন ৪ কোটি ৮৬ লক্ষ বেকার যুবক। তারা এখন দেশের বোঝা। যুবকরা এখন ইয়াবায় আসক্ত হয়। যেখানে সেখানে ইয়াবা পাওয়া যায়। এখন বাল্যকালেই বাবা-মা ১৪ বছর বয়সেই মেয়ে বিয়ে দিয়ে দেন। কখন তার মেয়ে ধর্ষিত হয় এই ভয়ে। রাস্তার পাশে তার বাবা বসে থাকেন কখন তার মেয়ে বাড়ি ফিরবে। কিন্তু ফিরে না, ধর্ষিত হয়ে পড়ে থাকে ধানক্ষেতে।
তিনি বলেন, ব্যাংকের টাকা লুটপাট হলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা চলে গেল, নাম প্রকাশ হলোনা। নিজেদের লোক জড়িত থাকলে নাম প্রকাশতো হবেনা। বাংলাদেশের যারা প্যারাডাইস পেপারস কেলেংকারীর সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছেনা।
তিনি আরো বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক দুর্নীতির কথা বলে শেষ করা যাবেনা। সংসদে শিক্ষামন্ত্রী যখন বলেন, ঘুষ খান সহনীয় পর্যায়ে, তারপরও তিনি মন্ত্রী থাকেন। জিপিএ-৫ পাশ করে নিজের নাম ঠিকমত লিখতে পারেনা। আগে পাশ করা ছিল কঠিন। এই পদ্ধতির শিক্ষা ব্যবস্থা দেশকে ভালকিছু দিতে পারেনা। এ সকল কিছুর জন্য আমাদের নির্বাচন পদ্ধতির পরিবর্তন প্রয়োজন। সরকারের পরিবর্তন প্রয়োজন। জনগন সীল দিতে পারলে, দেখবেন ঠিকই সরকার পরিবর্তন হবে। জানিনা আমরা সীল দিতে পারবো কিনা। অনেক কথা বলেছি। জানিনা আবার জেলে যেতে হয় কিনা। গরীব কৃষকরা টাকা না দিলে ধরে নিয়ে যায়। অথচ বড় বড় ঋনখেলাপীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। মানুষ একটু নিঃশ্বাস নিতে চায়। ইরান, সিরিয়া, লিবিয়া, আফগানিস্থানের মানুষকে সন্ত্রাসী বলছে পশ্চিমারা, ইসলামে সন্ত্রাসী বলতে কিছু নাই, আছে জিহাদ। তারা সন্ত্রাসী বলে নিরীহ মানুষকে হত্যা করছে। আমি যতদিন বেঁচে থাকবো ইসলামের কথা বলে যাবো।
সমাবেশে চট্টগ্রাম ৯ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুকে আলহাজ্ব হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদ পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলেন, আগামী নির্বাচনেও জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুকে ভোট দিবেন আপনারা।
সমাবেশে বাংলাদেশের মানুষ পরিবর্তন চায় মন্তব্য করে জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেছেন, দেশের মানুষ দুই নেত্রীকে চায়না। খালেদা, হাসিনাকে চায় না।
সম্মিলিত জাতীয় জোটের শীর্ষনেতা ও ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান আল্লামা এম এ মান্নানের সভাপতিত্বে সমাবেশে জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু আরও বলেন, দেশের মানুষ পরির্তন চায়। ২৮ বছর ধরে দেশে হত্যা, খুন বেড়ে চলেছে। দেশে চলছে লুঠপাট। আজকের মহাসমাবেশের জনস্রোত প্রমাণ করে দেশের মানুষ সাবেক সফল রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে ক্ষমতায় চান। আগামী নির্বাচনে লাঙ্গল-মোমবাতি মার্কায় জোটবদ্ধ হয়েছে। আমাদের ক্ষমতায় আসতে হবে। দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনতে হবে।
সমাবেশে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব এম এ মতিন, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক সিটি মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, মহানগর জাতীয় পার্টির আহবায়ক সোলেমান আলম শেঠ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..