× Banner
সর্বশেষ
ধর্মমন্ত্রীর আশু আরোগ্য কামনায় দেশজুড়ে হেফাজতে ইসলামের বিশেষ দোয়া দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত ১১২ টাকায় সরকারি চাকরি পাওয়া স্বচ্ছ নিয়োগের প্রমাণ: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী বাংলাদেশে ২৫-২৬ জুলাই ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম ও বিআইইআর সামিট ২০২৬ বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন ২০২৬-এর খসড়া অনুমোদন, পরিকল্পিত আধুনিক নগর গঠনের উদ্যোগ বাজেট বাস্তবায়নেই সাফল্য, কক্সবাজারকে আধুনিক ডিজিটাল পর্যটন নগরী গড়ার পরিকল্পনা: অর্থমন্ত্রী FICCI FDI Conference 2026-এ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে FICCI FDI Conference 2026, উন্মোচিত হলো এফডিআই রিপোর্ট মাদারীপুরে বৈশাখী ভাতা ও ঈদ বোনাস না পাওয়ায় দপ্তরিদের শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাও কোটালীপাড়ায় উল্টো রথযাত্রায় ভক্তদের ঢল

যশোরে বাজুয়াডাঙ্গা স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত তদন্ত রিপোর্ট গায়েব!

admin
হালনাগাদ: মঙ্গলবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৭

যশোর প্রতিনিধি: যশোর সদর উপজেলার বাজুয়াডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কয়েক লাখ টাকার সরকারি গাছ বিক্রির ঘটনায় সত্যতা পাওয়া গেলে ওই তদন্তু রিপোর্টের হদিস মিলছে না। দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলে ঐ রিপোর্ট খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে প্রচার করা হচ্ছে। ফলে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক। অভিযোগ রয়েছে, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে বিষয়টি ধামা চাপা দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে ব্যাপক তোড়পাড় চলছে।

সংশ্লিষ্ঠ একাধিক সুত্রে জানা গেছে, যশোর সদর উপজেলার বাজুয়াডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুদুর রহমান সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানের জমিতে থাকা মোট ৪টি মেহেগনি ও দেবদারু গাছ গোপনে বিক্রি করে দেন। ঐ গাছের আনুমানিক দাম প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা। এ বিষয়টি তখন এলাকাবাসী জানতে পেরে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। ঘটনা খতিয়ে দেখার জন্য উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার অফিসার রেহেনা বাবুকে আহবায়ক ও সহকারী শিক্ষা অফিসার গোলাম কিবরিয়া এবং সাজ্জাদ হোসেন নিয়ে ৩ সদস্য বিশিষ্ট বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত রিপোর্ট উপজেলা শিক্ষা অফিসার জামাল হোসেনের কাছে দাখিল করা হয়। জামাল হোসেন ঐ রিপোর্টটি জেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে পাঠান।

তদন্ত কমিটির একটি সুত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানের ৪টি গাছ চুরি করে মাসুদুর রহমান বিক্রির বিষয়ে তারা সত্যতা পায়। এছাড়া তারা ওই গাছ বিক্রির টাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসে জমা এবং মাসুদুর রহমানের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে সুপারিশ করে একটি রিপোর্ট প্রদান করেন। এর পর দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলে আজও পর্যন্ত মাসুদুর রহমানের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, ঐ তদন্ত রিপোর্ট শিক্ষা অফিস থেকে হারিয়ে গেছে বলে শিক্ষা অফিসার নিজেই প্রচার চালাচ্ছেন। এমনকি নার্সারী থেকে দুটি গাছ কিনে ঐ স্থানে রোপন করে মাসুদুর রহমান কোন গাছ কাটা হয়নি বলেও প্রচার করছেন। দায়িত্বশীল একটি সুত্র বলছে, প্রধান শিক্ষা অর্থের বিনিময়ে জেলা শিক্ষা অফিসারকে ম্যানেজ করে ফেলেছেন। ফলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো ঘটনাটি ধামা চাপা দেয়া হয়েছে।

এর আগও বাজুয়াডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুদুর রহমানের বিরুদ্ধে ঐ প্রতিষ্ঠানের দপ্তরী সাগর দত্তকে শ্বাসরোধ করে হত্যার সহযোগিতার করার অভিযোগ ওঠে। ঐ ঘটনায় সাগর দত্তের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনার পর থেকেই অসুস্থতার কথা বলে মাসুদুর রহমান আত্তগোপনে চলে যান। কিছুদিন পর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সহায়তায় বিদ্যালয়ে উপস্থিত না হয়েও অজ্ঞাত স্থান থেকে নিয়মিত হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতেন। এক পর্যায়ে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ময়না তদন্তু ও পুলিশ রিপোর্ট পক্ষে নিয়ে ঐ পর্বে রক্ষা পান। মজার ব্যাপার হচ্ছে, ঘটনার পর দপ্তরীদের সংগঠনের পক্ষ থেকে ঘটনার সঠিক তদন্তের জন্য জেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে একাধিকবার সুপারিশ করা হলেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এমনকি খুনের সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠার পরও বির্তর্কিত ঐ প্রধান শিক্ষককে শোকজ পর্যন্ত করা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, জেলা শিক্ষা অফিসারকে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করে ও রাজনৈতিক তদবীরে প্রধান শিক্ষক ঐ মামলা থেকে রেহাই পান রক্ষা পান। অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির আহবায়ক ও উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার অফিসার রেহেনা বাবু বিষয়টি স্বীকার-অস্বীকার কোনটাই করেননি। তিনি বলেন, ‘এটা অফিসিয়াল ব্যাপার। তাছাড়া তদন্ত কমিটিতে আমি একা ছিলাম না।’

তদন্ত কমিটির সদস্য ও সহকারী শিক্ষা অফিসার গোলাম কিবরিয়া গাছ কেটে বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘যেসব মিস্ত্রি গাছ কেটেছে আমরা তাদের স্টেটমেন্ট নিয়েছি। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণে জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।’ অভিযোগের ব্যাপারে বক্তব্য নেয়ার জন্য শিক্ষা অফিসার তাপস কুমার অধিকারীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায় নিই। জেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার আমজাদ হোসেনের সাথে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি এই মুহূর্তে বাঘারপাড়া অবস্থান করছি। বিষয়টি আমার নলেজে নেই। অফিসে ফিরে কাগজপত্র দেখে বলতে হবে।’#


এ ক্যটাগরির আরো খবর..