× Banner
সর্বশেষ
কোটালীপাড়ায় পল্লী উন্নয়ন একাডেমি’র ১৮’শ শিক্ষার্থীদের মাঝে ফলদ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে দুর্নীতি বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না -বিরোধী দলীয় নেতা রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত দেশের প্রান্তিক পর্যায় থেকে উদীয়মান খেলোয়াড়দের বাছাই করে ক্রীড়া অঙ্গনের সমৃদ্ধি ঘটাতে চাই – প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল কোটালীপাড়ায় ১০ম উপজেলা স্কাউটস সমাবেশের উদ্বোধন আসামের বন্যার্তদের জন্য বাংলাদেশ হাইকমিশনের ত্রাণ সহায়তা বৃষ্টি ও বন্যার প্রভাবে বাজারে অস্থিরতা, কাঁচামরিচ ৪০০ টাকা কেজি মতিঝিলে ৪৬৪ দেশীয় অস্ত্রসহ ৩ বিক্রেতা গ্রেফতার অর্থ সংকটে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন – বেতনহীন কর্মীরা, থমকে আহতদের চিকিৎসা সহায়তাও নৌপথের সুরক্ষায় বাংলাদেশসহ ১৩ দেশ নিয়ে সৌদির নতুন জোট

নবীগঞ্জে একটি সেতুর অভাবে ভোগান্তিতে ১০ গ্রামবাসী

admin
হালনাগাদ: মঙ্গলবার, ৪ অক্টোবর, ২০১৬

উত্তম কুমার পাল হিমেল, নবীগঞ্জ(হবিগঞ্জ)থেকেঃ  একটি সেতুর অভাবে নবীগঞ্জ উপজেলার কালিয়ারভাঙ্গা ইউনিয়নের লহরজপুর, খলিলপুর, সৈয়দাবাদসহ ১০টি গ্রামের লোকজনকে অন্তহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অথচ প্রতিবারই প্রার্থীরা সেতু নির্মাণের প্রতিশ্র“ত দিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হন।

নির্বাচিত হওয়ার পর সেই প্রতিশ্র“তি আর মনে থাকে না। যুগ যুগ ধরে এভাবেই চলছে। সেতুর অভাবে ওই গ্রামগুলোর প্রায় ১৫ হাজার মানুষকে বাঁশের সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। ভয়ে অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত স্কুল-কলেজেও যাতায়াত করে না। এছাড়া রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে স্বজনদের কষ্ট তো আছেই।

লহরজপুর গ্রামের বাসিন্দা বৃদ্ধ সাবু মিয়া জানান, এ সাঁকো দিয়ে প্রায় ১০টি গ্রামের অন্তত ১৫ হাজার মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করেন। অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে সবাইকে যাতায়াত করতে হয়। কখন যে এটি ভেঙে পড়ে। ভয়ও হয়। সব সময়ই এমপি, চেয়ারম্যান, মেম্বার নির্বাচন এলে এখানে সেতু করে দেয়ার প্রতিশ্র“তি দেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমাদের দুঃখ কেউ দেখে না।  স্কুলছাত্র শিবলু জানায়, সাঁকোর অবস্থা নড়বড়ে। তাই ভয়ে বই নিয়ে স্কুলে যেতে মন চায় না। কৃষক ময়না মিয়া বলেন, এখানকার উৎপাদিত ধান, শাক,  সবজি কোনো কিছুই বাজারে নিয়ে যেতে পারি না একটি সেতুর অভাবে।

সরেজমিন ঘুরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কুশিয়ারা নদীর একটি শাখা ‘শাখা বরাক’ নদী। এটি নবীগঞ্জ, বাহুবল, হবিগঞ্জ সদর ও বানিয়াচং উপজেলার হাওর দিয়ে বয়ে গেছে। এ নদীটি যেমন হাওরবাসীর সুখের সাথী তেমনি এ নদীর কারণে দুঃখেরও অন্ত নেই। এ নদীর বেশির ভাগ অংশই পড়েছে নবীগঞ্জ ও বানিয়াচং উপজেলায়। যদিও বানিয়াচংবাসীর যাতায়াতে এ নদীর তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। কিন্তু নবীগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামকে নানাভাবে ঘিরে রেখেছে এ নদী। তেমনি ওই উপজেলার কালিয়ারভাঙ্গা ইউনিয়নবাসীরও সুখ-দুঃখেরও সাথী হয়ে আছে এ নদীটি। নদীর পূর্বপাড় দিয়ে রয়েছে হবিগঞ্জ-নবীগঞ্জ সড়ক।

আর পশ্চিমে রয়েছে লহরজপুর, খলিলপুর, সৈয়দাবাদসহ অন্তত ১০টি গ্রাম। গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের শাখা বরাক নদী পেরিয়েই জেলা ও উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে হয়। শিক্ষার্থীদেরও প্রাইমারি স্কুল, হাইস্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজে যেতে হয়। তাই যাতায়াতের জন্য এ এলাকার বাসিন্দারা নদীর ওপর বাঁশ-কাঠ দিয়ে নির্মাণ করেছেন একটি সাঁকো। অন্যথায় তাদের হাওরের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে শ্রীমতপুর গ্রামে নির্মিত পাকা সেতু দিয়ে পারাপার হতে হয়। এদিকে গ্রামের পাশেই রয়েছে জেলার বৃহৎ হাওর ঘুঙ্গিয়াজুরী। নদীতে সেতু না থাকায় ওই হাওরে উৎপাদিত ধান নৌকা দিয়ে বহন করতে হয়। এতে সময়, শ্রমিকের মজুরি ও দুর্ভোগ বাড়ছে। তাই জনগণের দুঃখ দুর্দশা লাগবে সেখানে একটি পাকা সেতু নির্মাণ জরুরি বলে মনে করেন স্থানীয়রা।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..