ভারতে আশ্রয় নিয়ে থাকা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ না করা হলে দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়বে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
তিনি বলেন, স্বৈরাচারী ফ্যাসিবাদ ও সাজাপ্রাপ্ত রাজনৈতিক নেতৃত্বকে প্রশ্রয় দেয়া হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত ভারতকেই নিতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় সেগুনবাগিচায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ভারতে পলাতক আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সম্প্রতি ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সংবাদ সম্মেলন করার ঘটনার পরপরই গত বুধবার রাতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করলেন শামা ওবায়েদ।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সাধারণ জনগণ এবং দুই দেশের সরকারই চায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটুক। কিন্তু ভারতে বসে আওয়ামী লীগের এমন কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কী হবে এবং সম্পর্কে কতটা টানাপোড়েন সৃষ্টি হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার জায়গা থেকেই যায়।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের দৃষ্টি আকর্ষণের উদ্দেশ্যে ‘জঙ্গি তত্ত্ব’ ব্যবহারের চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ। অথচ বাংলাদেশে এখন জনগণের নির্বাচিত সরকার ও বিরোধী দল রয়েছে এবং কোনো ধরনের জঙ্গিবাদ নেই।
প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, জুলাই অভ্যুত্থানে আহত ও শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে হওয়া পরিবর্তনের পর, ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ আবেগ ও অনুভূতিতে আঘাত হানে–এমন যে কোনো কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে ভারতকে আরও অনেক বেশি সংবেদনশীলতার পরিচয় দেয়া প্রয়োজন।
আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফর করবেন কি না–সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, এটি সম্পূর্ণভাবে প্রধানমন্ত্রীর নিজের সময়সূচি, ব্যস্ততা ও সিদ্ধান্তের বিষয়।
আওয়ামী লীগ ইস্যুকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যকার অন্যান্য বহুমুখী সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হবে কি না, জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বহুমুখী স্বার্থ ও সম্পর্কের ক্ষেত্র বিদ্যমান। তবে বিদ্যমান সমস্যা ও অমীমাংসিত বিষয়গুলো কূটনীতি ও আলোচনার পথেই সমাধান করতে হবে।