খুলনার পাইকগাছায় বিশ্বজিৎ দেউড়ি (২৫) নামের আরএফএল (RFL) কোম্পানির এক কর্মকর্তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত বিশ্বজিৎ আরএফএল-এর পাইকগাছা শাখায় সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ (এসআর) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনার পর থেকে তার সহকর্মী ও রুমমেট অন্তর সরকার (২৩) ব্যবহৃত মোটরসাইকেলসহ লাপাত্তা রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাসপাতাল রোড এলাকার রাম প্রসাদ মণ্ডলের দোতলা বাড়ির নিচতলার একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে থাকেন তারা। গত দুই মাস ধরে ঝালকাঠি সদরের বেতরা গ্রামের হিরালাল দেউড়ির ছেলে বিশ্বজিৎ দেউড়ি এবং মাদারীপুরের কালকিনী উপজেলার লক্ষ্মীপুর ফাঁসিয়াতলা গ্রামের লিটন সরকারের ছেলে অন্তর সরকার (২৩) একসঙ্গে বসবাস করে আসছিলেন। অভিযুক্ত অন্তর সরকার আরএফএল-এর সহকারী টেকনিশিয়ান হিসেবে কর্মরত।
গত সোমবার (২০ জুলাই) রাত আনুমানিক ৯:৪০ মিনিটের দিকে দুজনে স্থানীয় একটি দোকান থেকে নাস্তা করেন। পরবর্তীতে আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুর ১টা পর্যন্ত তাদের দুজনেরই ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এতে সন্দেহ হলে তাদের সহকর্মী নয়ন রায় (২৬) খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাসায় যান। সেখানে গিয়ে তিনি ঘরের দরজার সামনে রক্ত এবং একটি রক্তমাখা ছুরি পড়ে থাকতে দেখে তাৎক্ষণিকভাবে পাইকগাছা থানা পুলিশে খবর দেন।
সংবাদ পেয়ে পাইকগাছা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জনাব আমীর হামজা এবং পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) জুলফিকার আলী সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। কক্ষটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ থাকায় পুলিশ তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং মেঝেতে বিশ্বজিৎ দেউড়ির রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ব শত্রুতা বা অভ্যন্তরীণ কোনো বিরোধের জেরে সোমবার রাত ১০টা থেকে মঙ্গলবার দুপুর ১টার মধ্যে যেকোনো সময়ে বিশ্বজিৎকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর লাশ ঘরের ভেতর ফেলে রেখে বাইর থেকে তালা আটকে মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যান সহকর্মী অন্তর সরকার।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পাইকগাছা থানা পুলিশ জানিয়েছে, লাশের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনসহ পলাতক অভিযুক্ত অন্তর সরকারকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
এ ক্যটাগরির আরো খবর..