× Banner
সর্বশেষ
হবিগঞ্জে চোখ হারানো আলিফকে দেখতে হাসপাতালে জামায়াতের আমির পরিবার জানে মৃত, সেই আলমগীর বাড়ি ফিরলেন ১৮ বছর পর,স্ত্রী আমেনা বেগম অন্যত্র বিয়ে ডিসি লেক পরিচ্ছন্নতায় মাঠে নামলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ধর্মের নামে বিভাজনের কোনো সুযোগ নেই – স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ধর্ম নয়, বাংলাদেশি পরিচয়ই সবার আগে: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন কোটালীপাড়ায় পল্লী উন্নয়ন একাডেমি’র ১৮’শ শিক্ষার্থীদের মাঝে ফলদ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে দুর্নীতি বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না -বিরোধী দলীয় নেতা রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত দেশের প্রান্তিক পর্যায় থেকে উদীয়মান খেলোয়াড়দের বাছাই করে ক্রীড়া অঙ্গনের সমৃদ্ধি ঘটাতে চাই – প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল কোটালীপাড়ায় ১০ম উপজেলা স্কাউটস সমাবেশের উদ্বোধন

ডেস্ক

সংরক্ষিত নারী আসন: প্রতিনিধিত্বের বিস্তার, নাকি প্রতীকী অন্তর্ভুক্তি?

Kishori
হালনাগাদ: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬
সংরক্ষিত নারী আসন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিসরে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই শপথের মধ্য দিয়ে সংসদে নারীর অংশগ্রহণের সাংবিধানিক কাঠামো আরও একবার সক্রিয় হলো। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—এই প্রতিনিধিত্ব কতটা কার্যকর, আর কতটা প্রতীকী?

সংরক্ষিত নারী আসন ব্যবস্থা মূলত নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশের মতো একটি সমাজে, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে পুরুষের আধিপত্য বিদ্যমান, সেখানে নারীদের জন্য নির্দিষ্ট আসন রাখা তাদের কণ্ঠস্বরকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই আসনগুলোতে সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচন হয় না; বরং রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনয়নের ভিত্তিতেই প্রতিনিধিরা নির্বাচিত হন। ফলে অনেক সময় এসব আসনের প্রতিনিধিদের জনসম্পৃক্ততা ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন সামনে আসে।

বর্তমান সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের বড় অংশ একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের দখলে থাকা রাজনৈতিক ভারসাম্যের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে। এটি একদিকে দলীয় শক্তির প্রতিফলন হলেও, অন্যদিকে বহুমাত্রিক নারী প্রতিনিধিত্বের সীমাবদ্ধতাও তুলে ধরে। নারীদের ভিন্ন সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পেশাগত অভিজ্ঞতা সংসদে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে কি না—এ প্রশ্নও তাই প্রাসঙ্গিক।

তবে শুধুমাত্র প্রতিনিধিত্বের সংখ্যা বাড়ানোই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন কার্যকর অংশগ্রহণ। নারী সংসদ সদস্যদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে—তারা কীভাবে সংসদে নিজেদের অবস্থানকে দৃঢ় করবেন এবং নারীর অধিকার, সমতা, নিরাপত্তা ও উন্নয়নসংক্রান্ত ইস্যুগুলোকে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রভাবিত করবেন। তাদের সক্রিয়তা, বক্তব্যের দৃঢ়তা এবং কমিটি কার্যক্রমে অংশগ্রহণই নির্ধারণ করবে এই প্রতিনিধিত্ব কতটা অর্থবহ হয়ে উঠবে।

এছাড়া, দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষিত আসনের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও ভাবনার অবকাশ রয়েছে। একটি আদর্শ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নারীরা সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে সাধারণ আসনেই সমানভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন—এটাই প্রত্যাশা। সংরক্ষিত আসন তখন একটি অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে ধীরে ধীরে অপ্রয়োজনীয় হয়ে উঠবে।

সবশেষে বলা যায়, সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিদের শপথ গ্রহণ কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের একটি সুযোগ। এই সুযোগকে কতটা বাস্তব পরিবর্তনে রূপ দেওয়া যাবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। সংসদে তাদের উপস্থিতি যেন কেবল সংখ্যার হিসাব না হয়ে, বরং নীতি ও নেতৃত্বের শক্তিশালী প্রকাশ হয়ে ওঠে—এটাই সময়ের দাবি।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..