× Banner
সর্বশেষ
গত ছয় মাসে ৮২৪টি সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা নথিভুক্ত -এইচআরসিবিএম আজ শনিবার (২৫ জুলাই) সকালেই রাশিফল ও গ্রহদোষ প্রতিকারের উপায় আজ ২৫ জুলাই (শনিবার) দিনের শুরুতে পঞ্জিকা ও ইতিহাসের এইদিনে জাতিসংঘে বাংলাদেশের শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি প্রস্তাব গৃহীত ৯০ দিনের মধ্যেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: নির্বাচন কমিশনার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে -শিক্ষামন্ত্রী প্রতিশ্রুতির প্রত্যেকটি কাজ শুরু করে দিয়েছে সরকার -এমপি খোকন তাালুকদার সবার আগে বাংলাদেশ সেটা মাথায় রেখে সকলের কাজ করতে হবে -এমপি খোকন তালুকদার পাইকগাছায় জগন্নাথদেবের উল্টোরথযাত্রা উৎসব সম্পন্ন  লক্ষ্মীপুরে উন্নয়ন কাজে অনিয়ম বরদাশত করা হবে না: পানিসম্পদ মন্ত্রী এ্যানি

ডেস্ক

সরকারি কর্মচারীদের শৃঙ্খলা জোরদারে নতুন আইন পাস

Kishori
হালনাগাদ: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬
জোরদারে নতুন আইন পাস

দেশে সরকারি কর্মচারীদের জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ এবং কর্মস্থলে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। নতুন আইনে কর্তৃপক্ষের বৈধ আদেশ অমান্য করা বা সম্মিলিতভাবে কর্মবিরতি দেওয়া হলে তা ‘সরকারি কর্মে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য হবে এবং এর জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে বিলটি উত্থাপন করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।

নতুন ধারা ৩৭ক যুক্ত

সংশোধিত আইনে মূল আইনের ধারা ৩৭-এর পর ৩৭ক নামে নতুন ধারা যুক্ত করা হয়েছে। এ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারী যদি—

  • ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বৈধ আদেশ অমান্য করেন
  • সরকারি পরিপত্র বা নির্দেশ বাস্তবায়নে বাধা দেন
  • যুক্তিযুক্ত কারণ ছাড়া অন্য কর্মচারীদের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে কর্মে অনুপস্থিত থাকেন বা কর্মবিরতি পালন করেন
  • অন্য কোনো কর্মচারীকে দায়িত্ব পালনে বাধা দেন

তবে তা ‘সরকারি কর্মে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী অসদাচরণ’ হিসেবে বিবেচিত হবে।

কঠোর শাস্তির বিধান

এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে তিন ধরনের প্রধান শাস্তির প্রস্তাব রাখা হয়েছে—

  1. নিম্ন পদ বা নিম্ন বেতন গ্রেডে অবনমিতকরণ
  2. বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান
  3. চাকরি থেকে বরখাস্ত

দ্রুত তদন্ত সম্পন্নের বিধান

আইনে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিল অনুযায়ী—

  • অভিযুক্ত কর্মচারীকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শাতে হবে
  • অভিযোগের প্রাথমিক ভিত্তি থাকলে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে
  • তদন্ত কমিটিকে ১৪ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে, বিশেষ প্রয়োজনে সময় আরও ৭ দিন বাড়ানো যাবে

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হলে তা কমিটির সদস্যদের অদক্ষতা হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তাদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

তথ্য সংরক্ষণ ও আপিলের সুযোগ

অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট তথ্য সরকারি কর্মচারী বাতায়ন (জিইএমএস)-এর পিএমআইএস ও ডোসিয়ারে সংরক্ষণ করা হবে। দণ্ডপ্রাপ্ত কর্মচারী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে আপিল করতে পারবেন। তবে রাষ্ট্রপতির আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না; সেক্ষেত্রে কেবল পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করা যাবে।

আইনের উদ্দেশ্য

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা, আনুগত্য প্রতিষ্ঠা এবং প্রশাসনে বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধের লক্ষ্যেই এই সংশোধনী আনা হয়েছে। এর মাধ্যমে ২০২৫ সালে জারি করা দুটি অধ্যাদেশ বাতিল করে সেগুলোকে স্থায়ী আইনি কাঠামোর আওতায় আনা হলো।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..