সৈকত দত্ত, শরীয়তপুর থেকে: শরীয়তপুর জেলা শহরের পালং তুলাসার গুরুদাস সরকারী (পিটিজিডি) উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অসন্তোষ প্রকাশ করে ক্লাশ বর্জন করেছে। দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত শ্রেনী কক্ষে প্রবেশ করবে না বলে জানিয়েছে ছাত্র নেতারা। বৃহস্পতিবার বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক মোঃ মাহমুদুল হোসাইন খান এর কার্যালয়ের সামনে ফেস্টুন নিয়ে দাড়িয়ে দাবি প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থীরা। এ সময় প্রধান শিক্ষকের অপসারণও দাবী করা হয়। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারক লিপি প্রদান করেছে শিক্ষার্থীরা।
জেলার একমাত্র সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয় পালং তুলাসার গুরুদাস সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি প্রধান শিক্ষক সহ কয়েক জন সিনিয়র সহকারী শিক্ষকের অসৎ উদ্দেশ্য হাসিল ও অবহেলার কারণে দিন দিন সুনাম হারাচ্ছে। এমনই জানালেন শিক্ষার্থী অভিভাবকগণ।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে আলাপ কালে জানা যায়, বিদ্যালয়ে পড়া-লেখার পরিবেশ নাই। দুই শিফটে ৫৪ জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও কর্মরত শিক্ষক রয়েছে ২৫ জন। বিগত ৮ মাস যাবত বাণিজ্যিক শাখায় শিক্ষক নাই। হোয়াইট বোর্ড, বিদ্যুৎ বিল, ইন্টারনেট, দরিদ্র তহবিল, ম্যাগাজিন, লাইব্রেরীসহ বিবিধ বিষয়ের জন্য আলাদা আলাদা ফি পরিশোধ করতে হয় তবে কোন সুবিধা পায় না শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থী আইডি কার্ডের জন্য ৫ বছর যাবত ফি দিয়ে চলতি বছর প্রথম আইডি কার্ড পেয়েছে। প্রতি ৩ মাস অন্তর ২২৫ টাকা টিফিন ফি দিতে হয় কিন্তু বছরে সর্বোচ্চ ৩০ দিনের বেশি টিফিন দেওয়া হয় না। সকল টাকা প্রধান শিক্ষক আত্মসাৎ করে। প্রতিবাদ করলে তেড়ে আসে মারতে।
দশম শ্রেনীর বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র প্রান্ত কুমার মল্লিক, নবম শ্রেনীর বানিজ্য শাখার ছাত্র মেহেদী হাসান হৃদয় জানায়, আামরা শিক্ষা বান্ধব পরিবেশ চাই। বুধবার আমরা ক্লাশ বর্জন করেছি। আজ (বৃহস্পতিবার) সকল শিক্ষার্থীরা ফেস্টুন নিয়ে জেলা প্রশাসক মোঃ মাহমুদুল হোসাইন খানের সাথে দেখা করব। আমাদের দাবী জানাব। আমাদের দাবী মেনে না নিলে পরবর্তী কর্মসূচী আহ্বান করব।
বিদ্যালয় শাখা নির্বাচিত কেবিনেট সভাপতি আরিফ হোসেন জানায়, আমাদের শ্রেণী কক্ষে কোন হোয়াইট বোর্ড নাই। প্রতি মাসে বেতনের সাথে আলাদা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হয় কিন্তু শ্রেনী কক্ষে কোন ফ্যান নাই। দিবা শাখায় গরমের কারণে কোন ক্লাশই হয় না। আমাদের বানিজ্য শাখায় কোন শিক্ষক নাই। প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ শুধু টাকা আত্মসাতের যোগ্য বিদ্যালয় পরিচালনার জন্য শতভাগ অযোগ্য। আমরা এ প্রধান শিক্ষকের অপসারণ চাই।
শিক্ষক মিলনায়তন কক্ষে গিয়ে দেখা হয় জীব বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী শিক্ষক মোঃ ফিরোজ মাতুব্বর এর সাথে। তিনি জানায়, শিক্ষার্থীদের দাবী যুক্তিযুক্ত। ৫৪ জন শিক্ষকের স্থলে ২৫ জন শিক্ষক পাঠদান দেই। বানিজ্য বিভাগে শিক্ষক নাই প্রায় ১ বছর। এমনে বিদ্যালয় চলতে পারে না।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ’র সাথে ছাত্র অসন্তোষের বিষয়ে আলাপ করতে বিদ্যালয়ে গিয়ে তার কক্ষ তালাবদ্ধ দেখা যায়। তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হয়। মোবাইলে রিং বাজলেও ফোন তুলেননি প্রধান শিক্ষক।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক মোঃ মাহমুদুল হোসাইন খান বলেন, ছাত্ররা আমার কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেছে। তাতে বিভিন্ন অনিয়মের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এরমধ্যে শিক্ষক স্বল্পতাই প্রধান। সামনে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা তাই প্রধান শিক্ষককে বলা হয়েছিল অস্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার জন্য। সেক্ষেত্রে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে অবহেলা রয়েছে। আগামী শনিবার বিদ্যালয়ে জরুরী মিটিং ডেকেছি। যে সকল শিক্ষকগন আবেদন করেছে তাদের ওই দিনই পরীক্ষা নেয়া হবে।