× Banner
সর্বশেষ
ওভারথিংকিং ডিটক্স ব্লুপ্রিন্ট বইটির মোড়ক উন্মোচন করলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, অধিকাংশ জেলায় স্বাভাবিক অবস্থা ফিরছে প্রস্তাবিত কর্পোরেট গভর্ন্যান্স রুলস ২০২৬ নিয়ে আইসিএসবির সিপিডি প্রোগ্রাম মাগুরায় ১০ হাজার গাছের চারা রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন সংস্কৃতি মন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলনের আহ্বান পানি সম্পদমন্ত্রীর মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে ৬ জনকে পুশইন চেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি ঝিনাইদহে প্রথমবার পালিত হলো বিশ্ব পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস তথ্য ও উপাত্তের ভিত্তিতে নিরপেক্ষভাবে কাজ করাই পেশাদার সাংবাদিকতার মূল দর্শন – তথ্যমন্ত্রী Inner Wheel Club of Dhaka Cosmopolitan 2026–2027 Handover Ceremony & Collar Exchange Program ব্যবসা সম্প্রসারণেই অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব, ব্যবসায়ীদের প্রতি পরিবেশমন্ত্রীর আহ্বান

মাহমুদ খান, সিলেট

সিলেটে আমনের বাম্পার ফলন, মূল্য নিয়ে হতাশ কৃষকরা

Kishori
হালনাগাদ: সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫
আমনের বাম্পার ফলন, মূল্য নিয়ে হতাশ কৃষকরা

অনুকূল আবহাওয়া ও সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় এ বছর সিলেটে আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। সোনালি ধানের সারিতে মাঠজুড়ে বইছে উৎসবের আমেজ। তবে আনন্দের মাঝেই লুকিয়ে আছে হতাশা। ফলন ভালো হলেও ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না বলে জানান কৃষকরা। এবার মণপ্রতি ধান ৯২০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে কৃষকদের। এতে উৎপাদন খরচ তুলে কাঙ্খিত লাভ হচ্ছে না তাদের।
প্রতি কাঠায় গড়ে চার থেকে সাড়ে চার মণ ধান উৎপাদন হয়েছে বলে জানাচ্ছেন কৃষকরা। কিন্তু সার, বীজ, কীটনাশক, শ্রমিক মজুরি-সবকিছুর দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে প্রায় দ্বিগুণ। ফলে মাঠে সোনালি ধানের ফলনে চোখ জুড়ালেও খরচের হিসাব মেলাতে পারছেন না কৃষকেরা।
সদর উপজেলার ধূপাগোল ইউনিয়নের কৃষক মুহিবুর রহমান সোয়াইব জানান, প্রতি বিঘা জমি চাষ করতে তাদের খরচ হয় ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা। নিজস্ব কৃষিযন্ত্র থাকায় খরচ কিছুটা কমছে। কিন্তু যাদের যন্ত্রপাতি ভাড়া করতে হয়-তাদের ক্ষেত্রে ব্যয় আরও বাড়ে। তিনি বলেন, যেই ধান উৎপাদন হয় সেই ধান বিক্রি করে লাভ খুবই অল্প থাকে।
আরেক কৃষক মুক্তার হোসেন মান্না জানান, প্রতি বিঘা জমি চাষাবাদ করে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা লাভ হচ্ছে। চালের দামের সাথে সমন্বয় করে ধানের দাম নির্ধারণ করলে ভালো হয়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জেলায় রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩১০ হেক্টর। আবাদ হয়েছে আরও বেশি-১ লাখ ৪৫ হাজার ৯২০ হেক্টর। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় চাল হিসেবে ৩ লাখ ৯৬ হাজার ১৮৮ মেট্রিক টন।
সদর উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে-লক্ষ্য ছিল ৯ হাজার ১২০ হেক্টর, আবাদ হয়েছে ৯ হাজার ১৬০ হেক্টর। দক্ষিণ সুরমায় লক্ষ্যমাত্রা ৮ হাজার ২৪০; আবাদ হয়েছে একই পরিমাণ। গোয়াইনঘাটে লক্ষ্য ছিল ১৭ হাজার ৯৭০, আবাদ হয়েছে ১৮ হাজার ১৮০ হেক্টর। বালাগঞ্জে ৭ হাজার ৬২১ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আবাদ হয়েছে ৭ হাজার ৬৩০ হেক্টর। ওসমানীনগরে লক্ষ্যমাত্রা ৮ হাজার ৭২৫ হলেও আবাদ হয়েছে ৮ হাজার ৭৪০ হেক্টর।
কোম্পানীগঞ্জে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০ হাজার ৮৯০, আবাদ হয়েছে ১০ হাজার ৯১০ হেক্টর। বিশ্বনাথে লক্ষ্য ১৩ হাজার ২৫৫ হলেও আবাদ ১৩ হাজার ২৬০ হেক্টর। ফেঞ্চুগঞ্জে লক্ষ্য ৫ হাজার ৮৩৫, আবাদ ৫ হাজার ৮৪০ হেক্টর। গোলাপগঞ্জে লক্ষ্যমাত্রা ১১ হাজার ৭২৮, আবাদ ১১ হাজার ৮২০ হেক্টর।জৈন্তাপুরে ১১ হাজার ২৩০ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আবাদ হয়েছে ১১ হাজার ২৪০ হেক্টর। কানাইঘাটে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৫ হাজার ৯৭৫, আবাদ হয়েছে ১৫ হাজার ৬৪০ হেক্টর। জকিগঞ্জে লক্ষ্য ১৪ হাজার ৯৭৫, আবাদ ১৪ হাজার ৯০০ হেক্টর। বিয়ানীবাজারে ৭ হাজার ৯৬০ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আবাদ হয়েছে ৮ হাজার ৪৮০ হেক্টর। আর মহানগরে ১ হাজার ৮৭৫ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৮৮০ হেক্টর।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেটের উপপরিচালক মো. শামসুজ্জামান বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর ফলন ভালো হয়েছে। পাশাপাশি এ বছর আবাদও বেশি হয়েছে। ব্রি-৫১, ব্রি-৫২ ও ব্রি-৭৫ জাতের ধানে ফলন বেশি হয়েছে। “আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সময়মতো বৃষ্টি হয়েছে, আলাদা করে সেচের প্রয়োজন হয়নি। এতে ফলন আরও বেড়েছে।
মূল্য নিয়ে তিনি বলেন, ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না বলে আশা করছি। প্রতি মণ ধানের দাম ১ হাজার ১০০ টাকার ওপরেই থাকবে।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..