× Banner
সর্বশেষ
জগন্নাথদেবের পুনর্যাত্রা আজ: উল্টো রথযাত্রার ধর্মীয় তাৎপর্য, ইতিহাস ও আধ্যাত্মিক বার্তা সোনম ওয়াংচুক অনশন প্রত্যাহার, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত আজ ২৪ জুলাই বৈদিক জ্যোতিষে রাশিফল ও গ্রহদোষ প্রতিকারের উপায় সকাল ৯টার মধ্যে ১০ অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়ার আশঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত ২৪ জুলাই শুক্রবার পঞ্জিকা ও ইতিহাসের এইদিনে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আজ পদত্যাগ করতে পারেন, দাবি রয়টার্সের ধর্মমন্ত্রীর আশু আরোগ্য কামনায় দেশজুড়ে হেফাজতে ইসলামের বিশেষ দোয়া দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত ১১২ টাকায় সরকারি চাকরি পাওয়া স্বচ্ছ নিয়োগের প্রমাণ: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী বাংলাদেশে ২৫-২৬ জুলাই ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম ও বিআইইআর সামিট ২০২৬

দলিল লেখক খান রাজ্জাকের বিরুদ্ধে শ্রেণী পরিবর্তন ও বিপুল রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ

admin
হালনাগাদ: বুধবার, ২০ জুলাই, ২০১৬

এস.এম মফিদুল ইসলাম, পাটকেলঘাটা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: তালার ইসলামকাটি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক খান আব্দুর রাজ্জাক ও গ্রহীতা ইকবাল হোসাইনের বিরুদ্ধে ভূয়া রেকর্ড দাখিলা ও শ্রেণীর পরিবর্তন সহ সীমাহীন দূর্নিতী ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তথ্যানুসন্ধান করে জানা গেছে, তালা উপজেলার লালচন্দ্রপুর গ্রামের মৃত দুলাল চন্দ্র বিশ্বাসের পুত্র দাতা মিল্টন ও টিটু কুমার বিশ্বাসের নিকট থেকে বিগত ২০১৪ সালের ২৪ নভেম্বর ৪৯৮৪ নং কোবলা মুলে ৯৯ শতক (১একর) জমি পা র্শ্ববর্তী গ্রাম আচিমতলায় বসবাসরত মৃত শাহাজান মোল্ল্যার পুত্র একাধিক অপকর্মের হোতা বহুরুপী ইকবাল হোসাইন কোবলা রেজিস্ট্রি মুলে খরিদ করেন। সু-চতুর দলিল লেখক ও বহুরুপী গ্রহীতা যোগসাজশ করে এস এ রেকর্ড ও ভূমি উন্নয়ন কর (দাখিলা) সৃজনের মাধ্যমে শ্রেণী পরিবর্তন করে সরকারী নির্ধারিত মুল্যের অর্ধেকেরও কম মুল্যে দলিল রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করেন। প্রকৃতপক্ষে ২০১৪ সালের নির্ধারিত সরকারি মুল্য ৭৯ হাজার ৭’শ ৬০ টাকার পরিবর্তে শ্রেণী ডাঙ্গার পরিবর্তে বিলান দেখিয়ে অর্ধেকের কম মুল্য ৩৫ লাখ টাকা পণে রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করে নেন। এতে সরকারকে ৫ লক্ষাধিক টাকার রাজস্ব থেকে প্রতারিত ও বঞ্চিত করা হয়। নিয়মানুযায়ী সরকার প্রদেয় লাইসেন্স প্রাপ্ত দলিল লেখক হস্তান্তরিত জমির সঠিকতা যাচাই, বাজার মুল্য সম্পর্কে সম্যক ধারণা নিয়ে দলিল প্রস্তুত বা মুসাবিদা করার কথা। এছাড়া ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সেকশন ৫৩ (ই) রেজিষ্ট্রেশন আইন ১৯০৮ এবং মুল্য সংযোজন কর ১৯৯১ কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দলিল রেজিস্ট্রির মাধ্যমে সরকারের ৫ লক্ষাধিক টাকার রাজস্ব ফাকি দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া দলিল প্রস্তুতের পূর্বে লেখকদের অন্যতম শর্ত যথাযথভাবে সম্পাদন করা। যাতে করে দাতা-গ্রহীতা বা সরকার প্রতারিত অথবা ক্ষতিগ্রস্থ না হয়। রেজিষ্ট্রেশন আইনানুযায়ী সরকারী মুল্যের কম পণে দলিল প্রস্তুত পূর্বক রেজিস্ট্রি করা হলে সরকারী রাজস্ব ক্ষতির দায়-দায়িত্ব দলিল লেখক কে বহন করতে হবে। ঐ আইনে আরও উল্লেখ রয়েছে কোনো দলিল লেখক আইন বিরুদ্ধ বা নীতি বিরুদ্ধ দলিল প্রস্তুত করলে দায়-দায়িত্ব তাকেই বহন করতে হবে।

এদিকে ঐ দলিলের গ্রহীতা একসময়ের মসজিদের ইমাম বহুরুপী ইকবাল হোসাইন ইমামতি লেবাস ছেড়ে নিজেকে ডিজিটালাইজড করে নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছেন। দলিল রেজিস্ট্রি পর থেকে দাতাদের নিখোজ হওয়া ঘটনার নেপথ্যের হোতা তিনি নিজেই। গতকাল ঐ দাতাদের বাড়ি লালচন্দ্রপুর গ্রামে গিয়ে কাউকে না পেয়ে প্রতিবেশী গোপাল রায় দলিল সনাক্তকারী কোমর উদ্দীন, ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন সহ ১০/১২ জনের সাথে কথা হলে সকলেই জানালেন, ইকবালের কাছে জমি বিক্রি করার পর তাদের আর কোনো খোজ মিলছে না। কোথায় থাকতে পারে এমন প্রশ্নে অনেকে অভিযোগ করে বলেন, যে গ্রহীতা জমি রেজিস্ট্রি করে নিয়েছে তাকেই জিঙ্গেস করুন। এসব বিষয়ে গ্রহীতা ইকবাল হোসাইনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি এ প্রতিনিধিকে জানান, জমি ক্রয়ের পর দাতাদের থাকা না থাকার দায়িত্ব গ্রহীতার না। দাতাদের গুম বা পাচার করা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি উত্তেজিত সুরে বলেন, কোথায় আছে তা আপনারা খুজে দেখেন। দলিল লেখক খান আব্দুর রাজ্জাকের কাছে শ্রেণী পরিবর্তন ও ভূয়া রেকর্ড পত্রের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, দাতা গ্রহীতা যে কাগজপত্র দিয়েছে তা দিয়েই দলিল প্রস্তুত করেছি। শ্রেণী পরিবর্তন, অনিয়ম ও জালিয়াতির কথা তিনি অস্বীকার করেন। এ বিষয়ে বর্তমান সাব-রেজিষ্টার গোলাম এলাহীর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বিষয়টি খতিয়ে গত ২৭ জুলাই ২২১ নং স্মারকে গ্রহীতাকে জবাব দাখিলের জন্য ৭ দিন সময় দিয়ে নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..