× Banner
সর্বশেষ
ওভারথিংকিং ডিটক্স ব্লুপ্রিন্ট বইটির মোড়ক উন্মোচন করলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, অধিকাংশ জেলায় স্বাভাবিক অবস্থা ফিরছে প্রস্তাবিত কর্পোরেট গভর্ন্যান্স রুলস ২০২৬ নিয়ে আইসিএসবির সিপিডি প্রোগ্রাম মাগুরায় ১০ হাজার গাছের চারা রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন সংস্কৃতি মন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলনের আহ্বান পানি সম্পদমন্ত্রীর মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে ৬ জনকে পুশইন চেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি ঝিনাইদহে প্রথমবার পালিত হলো বিশ্ব পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস তথ্য ও উপাত্তের ভিত্তিতে নিরপেক্ষভাবে কাজ করাই পেশাদার সাংবাদিকতার মূল দর্শন – তথ্যমন্ত্রী Inner Wheel Club of Dhaka Cosmopolitan 2026–2027 Handover Ceremony & Collar Exchange Program ব্যবসা সম্প্রসারণেই অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব, ব্যবসায়ীদের প্রতি পরিবেশমন্ত্রীর আহ্বান

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, বরিশাল

বরিশালে অসহায় শিশুদের নিয়ে কাজ করতে আমেরিকান দম্পত্তি

Dutta
হালনাগাদ: সোমবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৩
agailjhara

আমেরিকান নাগরিক জ্যাকব বার্লিন ও জয়া বার্লিন দম্পত্তি তাদের এক ছেলে ও চার মেয়েকে নিয়ে ভ্রমনে এসে আতিথিয়তায় বরিশালের প্রেমে পরেছেন। তাই তারা বরিশালের অসহায় নারী-পুরুষদের স্বাবলম্ভী করার জন্য প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একটি হস্তশিল্প তৈরির কোম্পানী করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

জানা গেছে, আমেরিকার ‘অ্যাকশন জয় এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সিইও জয়া বার্লিন এবং জ্যাকব বার্লিন তার ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তারা অসহায়, দারিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের স্বাবলম্ভী করার জন্য প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন দফতরের সঙ্গে সমন্বয় করে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারই ধারাবাহিকতায় দেশের বিভিন্ন এতিমখানা, সেইফ হোম, সামাজিক প্রতিবন্ধী মেয়েদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রসহ বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছেন। এ কারণে বাংলাদেশের পঞ্চম জেলা হিসেবে তারা গত ৭ অক্টোবর বরিশাল ভ্রমন করেছেন।

বরিশালে এসে বেশ উচ্ছ্বাসিত জ্যাকব বার্লিন ও জয়া বার্লিন দম্পতি এবং তাদের সন্তানরা। জয়া বার্লিন বলেন, ২০১১ সালের দিকে আমার স্বামী বরিশাল বিভাগের পটুয়াখালীতে কাজের জন্য এসেছিলেন। তখন আমি আমেরিকার আলাক্সায় থাকতাম। আমাদের বিয়ের অনুষ্ঠানের পর স্বামীর কাছে বাংলাদেশের আতিথিয়তার সুনামের কথাশুনে আমি প্রথম এদেশে আসি। সেইসময় একটি সেইফ হোমের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। সেখানে অনেক ট্রাফিক ওমেন থাকতো। তারা অনেক অসহায় ছিল। তাদের পাশে দাঁড়ানোর চিন্তাভাবনা থেকেই আবার বাংলাদেশে এসেছি।

জয়া বার্লিন আরও বলেন, আমি যদি একদিন একজনের মুখেও হাঁসি ফোটাতে পারি তাহলেই আমি সন্তুষ্টি হবো। আমাদের মূলত কোন এনজিও নেই, এটা হচ্ছে আমাদের একটি সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ (সামাজিক উদ্যোগ)। এরমধ্যে আমার অনেক অপশন রয়েছে। আমি যখন কোনো অসহায় নারীর সামনে দাঁড়াই, তখন আমি তাদের বলি, আমি আপনাদের কোনো সাহায্য করবো না কিন্তু আপনাদের পাশে দাঁড়াব। আমরা তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সুতা ও কাপড় দেব। যেখানে আঁকা-বাঁকা স্ট্রিচিং করে তাদের কষ্ট ও দুঃখ প্রকাশ করবে। এভাবেই একদিন তারা স্বাভাবিক জীবনে চলে আসবে।

জয়ার স্বামী জ্যাকব বার্লিন বলেন, বরিশালে ভ্রমণ করতে এসে আমি খুবই খুশি ও আনন্দিত। ২০১১ সালে আমি প্রথম বাংলাদেশে আসি এবং বরিশালের পটুয়াখালীতে তিন মাস ছিলাম। তখন থেকেই মূলত এখানকার মানুষের আতিথিয়তায় আমি বরিশালের গভীর প্রেমে পড়েছি। তাই সব জায়গায় ভ্রমণে গিয়ে আমি আন্তরিকভাবে বলি-ধান, নদী, খাল এই তিনে বরিশাল।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে অনেক অসহায় ছেলে-মেয়ে ও নারী আছে। যেকারণে আমি আমার স্ত্রীর সাথে একটা পরিকল্পনা করেছি। প্রথমতো আমারা বরিশালে একটি কোম্পানি বানাবো। যেখানে অসহায় মানুষগুলো প্রশিক্ষণের মাধ্যমে হস্তশিল্প বানানোর মধ্যদিয়ে ভালো সম্মানী পাবে। প্রয়োজনে তাদের বানানো পণ্যগুলো আমরা আমেরিকায় রপ্তানি করবো।

আমেরিকান এই দম্পতির সন্তানদের মধ্যে একমাত্র ছেলে আনন্দ বার্লিন বাংলাদেশকে ভালোবাসে জানিয়ে বলেন, এখানে আমার অনেক বন্ধু হয়েছে। বরিশালে এসে এখানকার ছেলেদের সাথে আমি ফুটবল খেলেছি। আর মেয়ে হাসি বার্লিন জানান, তিনি বাংলা গানের সাথে নাচতে বেশি ভালোবাসেন।

সূত্রমতে, দেশের যেকোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে নাচ-গান পরিবেশনটা বাঙালিদের কাছে রীতির বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এই নাচ-গানে সচরাচর বাঙালিরা অংশ নিয়ে থাকেন। তবে এবার ভিন্নধর্মী আয়োজনে মুগ্ধ হলো বরিশালের সামাজিক প্রতিবন্ধী মেয়েদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের নিবাসীরা। যে আয়োজনে আমেরিকার এক দম্পতি ও তাদের সন্তানরা বাংলা ভাষায় গান গাওয়ার পাশাপাশি বাংলা গানের সাথে নৃত্য পরিবেশন করেছেন।

তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে পুনর্বাসন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক সাজ্জাদ পারভেজ বলেন, প্রথমবারের মতো কোনো বিদেশী দম্পতি নিজেদের ইচ্ছায় আমাদের কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন। বিদেশী ওই পরিবারের আগমন ঘিরে ছোট আয়োজনকে তারাই (বিদেশীরা) প্রাণবন্ত করেছে। তিনি আরও বলেন, ওই আয়োজনে কেন্দ্রের মেয়েদের সঙ্গে বিদেশী দম্পত্তির সন্তানদের বসিয়ে বাংলায় গান গেয়েছেন জ্যাকব বার্লিন ও তার স্ত্রী জয়া বার্লিন। এছাড়া তাদের তিন মেয়ে বাংলা গানের সঙ্গে একাধিক নৃত্য পরিবেশন করেছে। পুরো সময়টাতেই বার্লিন দম্পতি ও তাদের সন্তানরা বাংলায় কথা বলেছেন। এছাড়া তারা শাড়ি ও পাঞ্জাবিসহ বাংলার পোশাক পরে এসেছিলেন।

বরিশাল জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক একেএম আখতারুজ্জামান তালুকদার বলেন, জ্যাকব বার্লিন ও জয়া বার্লিন দম্পতি পজেটিভ চিন্তাভাবনার মানুষ। তারা অসহায়, দারিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের স্বাবলম্ভী করার মাধ্যমে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আমরা আশা করছি, যেসব ছেলে-মেয়েদের পুনর্বাসন করার সুযোগ ছিল না, এবার আমেরিকার এই দম্পত্তির সহযোগিতায় সেটি সম্ভব হবে।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..