× Banner
সর্বশেষ
ওভারথিংকিং ডিটক্স ব্লুপ্রিন্ট বইটির মোড়ক উন্মোচন করলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, অধিকাংশ জেলায় স্বাভাবিক অবস্থা ফিরছে প্রস্তাবিত কর্পোরেট গভর্ন্যান্স রুলস ২০২৬ নিয়ে আইসিএসবির সিপিডি প্রোগ্রাম মাগুরায় ১০ হাজার গাছের চারা রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন সংস্কৃতি মন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলনের আহ্বান পানি সম্পদমন্ত্রীর মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে ৬ জনকে পুশইন চেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি ঝিনাইদহে প্রথমবার পালিত হলো বিশ্ব পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস তথ্য ও উপাত্তের ভিত্তিতে নিরপেক্ষভাবে কাজ করাই পেশাদার সাংবাদিকতার মূল দর্শন – তথ্যমন্ত্রী Inner Wheel Club of Dhaka Cosmopolitan 2026–2027 Handover Ceremony & Collar Exchange Program ব্যবসা সম্প্রসারণেই অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব, ব্যবসায়ীদের প্রতি পরিবেশমন্ত্রীর আহ্বান

স্টাফ রিপোর্টার বেনাপোল

শার্শায় ওষুধি গুন সম্পন্ন ব্লাক ও বেগুনী ধানের চাষ

Dutta
হালনাগাদ: সোমবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩
benapol

যশোরের শার্শায় সড়কের পাশে মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহ। মাঝে খণ্ড খণ্ড জমিতে কালো ও বেগুনী জাতের ধান। দূর থেকে দেখে মনে হচ্ছে ধান গুলো হয়তো পুড়ে ছায় হয়ে গেছে। ধানের এমন বর্নে মানুষের মাঝে তৈরী হয়েছে নানান কৌতুহল।কাছে গেলে বোঝা যায় এ ধানের রঙটাই এমন।
শার্শায় প্রথমবারের মতো আবাদ হচ্ছে ক্যানসার প্রতিরোধী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পুষ্টি সমৃদ্ধ উচ্চ ফলনশীল ধান।ভিয়েতনাম ব্ল্যাক রাইস, চায়না ব্ল্যাক এবং বেগুনি জিঙ্ক জাতের এসব ধান চাষ করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন জিয়াউর রহমান নামের এক কৃষক। তার এসব প্রজাতির ধান চাষ দেখে আগ্রহী হচ্ছেন অন্য অনেক কৃষক। এ ধরণের ধান চাষে তেমন কোনো রোগবালাই না থাকায় ভালো ফলনের আশা কৃষক জিয়াউর রহমানের।
জানা গেছে, ইউটিউব দেখে কৃষক জিয়াউর রহমান সুদূর চট্টগ্রাম, বগুড়া ও ফেনী থেকে ঔষধি গুণসম্পন ধানবীজ সংগ্রহ করে চাষ শুরু করেন। ঔষধি গুণসম্পন্ন এই ধানগাছ দেখতে দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন প্রতিদিনই অসংখ্য শার্শার ধান চাষী জিয়াউর রহমান কাছে। কৌতূহল জাগানো এই কালো প্রজাতির ধান বিষয়ে জানার জন্য।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যশোরের শার্শা উপজেলা সদরের বাসিন্দা জিয়াউর রহমান তিনি বাহাদুরপুর ইউনিয়নের লটাদিঘা গ্রামের মাঠে ঔষধি গুণসম্পন এসব ধান চাষ শুরু করেছেন। সুদূর চট্টগ্রাম, বগুড়া ও ফেনী থেকে ভিয়েতনামের বেগুনী রাইচ, ব্লাক রাইচ ও চায়না ব্লাক রাইচ নামক এর ধানবীজ সংগ্রহ করে প্রায় ৬ বিঘা জমিতে চাষ করেন। আর এতেই মানুষের মাঝে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়। কালো জাতের এই ভিন্ন ধরনের ধানগাছ দেখতে প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। ঔষধি গুণের কথা এবং এই ধান চাষে খরচও কম এবং বেশি হওয়ার কথা জানতে পেরে অগ্রিম ধানবীজ কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। এছাড়াও ছবি তুলে ফিরছেন তাঁরা বাড়িতে।
উল্লেখ্য, কালো চালের যত গুণাগুণ বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বছর ব্যাপী ফল প্রকল্পের পরিচালক ও ধান গবেষণায় বিশেষজ্ঞ ড. মেহেদী মাসুদ বলেছেন, কালো চালে অ্যাসায়ানিন বেশি থাকে যা একটি ক্যান্সার প্রতিরোধী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এতে ফাইবার অনেক বেশি থাকে। ফলে এ চালের ভাত শরীরে গ্লুকোজ তৈরি করে খুব ধীর গতিতে। ফলে শরীরে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। এ কারণে এ চাল’কে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খুব কার্যকর বলা হয়”। এছাড়া আমীষ, ভিটামিন, জিংক, খনিজ পদার্থসহ অন্য উপাদানগুলো সাধারণ চালের চেয়ে অড়ত তিনগুণ বেশি থাকে বলে দাবি করেন এ গবেষক। এছাড়াও তিনি আরও জানান, কালো চালের ভাত সাধারণ ভাতের অর্ধেক খেলে পেট ভরে যাবে। ফাইবার বেশি থাকায় তা সময় নিয়ে হজম হবে। যা ডায়াবেটিস রোগীর জন্য উপকারী। এদিকে যাদের পেটে চর্বি রয়েছে তাদেরও উপকার হবে।
কালো চালে গাইসেমিক ইনডেক্স (জিআই) অনেক কম। জিআই যত কম হয় সেই খাবার শরীরে জন্য তত উপকারী। গ্লুকোজের জিআই ১০০ ভাগ, চিনির ৮০ ভাগ, সাদা চালের ভাতের ৭২ ভাগ, গমের আটার রুটিতে ৬৫ ভাগ আর কালো চালের জিআই মাত্র ৪২ ভাগ। কালো চাল ভালো উৎপাদন হলে রোগ প্রতিরোধের সাথে তা কৃষি অর্থনীতিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অনেকে।
এবিষয়ে উক্ত ধান চাষী জিয়াউর রহমান জানান, সুদূর চট্টগ্রাম, বগুড়া ও ফেনী থেকে ঔষধি গুণসম্পন্ন ভিয়েতনামের বেগুনী রাইচ, রাক রাইচ ও চায়না ব্লাক রাইচ এর ধানবীজ সংগ্রহ করে এই প্রথম ৬ বিঘা বন্ধকী জমিতে চাষ করি। আর এতেই মানুষের মাঝে কৌতুহলের উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। কালো প্রজাতির এই ভিন্ন ধরনের ধানগাছ দেখতে প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। ইউটিউব দেখে ঔষধি গুণের কথা ও এই ধান চাষে খরচও কম জানতে পেরে উৎসাহিত হয়ে ধানবীজ সংগ্রহ। এ ধানবীজ অগ্রিম কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। আর আমিও অনেকের অনুরোধে ও আমার এলাকার মানুষের কথা চিন্তা করে, এই ধান থেকে বীজধান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যারা এই ধানবীজ সংগ্রহ করার ইচ্ছা পোষণ করবেন তারা আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।
এ ব্যাপারে শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা জানান,এ উপজেলায় এ ধানের চাষ এটা প্রথম। এটি ক্যানসার প্রতিরোধে এন্টি অক্সিডেন্ট পুষ্টি সমৃদ্ধ ধান।যদিও বৈজ্ঞানিক  ভাবে আমাদের কোন ধারনা দেওয়া হয়নি।যদি কোনদিন সরকারি ভাবে এ সম্পর্কে কোন ধারনা পায় তাহলে কুষকদের এ ধান চাষে সার্বিক সহযোগীতা করা হবে বলে তিনি জানান।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..