× Banner
সর্বশেষ
ওভারথিংকিং ডিটক্স ব্লুপ্রিন্ট বইটির মোড়ক উন্মোচন করলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, অধিকাংশ জেলায় স্বাভাবিক অবস্থা ফিরছে প্রস্তাবিত কর্পোরেট গভর্ন্যান্স রুলস ২০২৬ নিয়ে আইসিএসবির সিপিডি প্রোগ্রাম মাগুরায় ১০ হাজার গাছের চারা রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন সংস্কৃতি মন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলনের আহ্বান পানি সম্পদমন্ত্রীর মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে ৬ জনকে পুশইন চেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি ঝিনাইদহে প্রথমবার পালিত হলো বিশ্ব পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস তথ্য ও উপাত্তের ভিত্তিতে নিরপেক্ষভাবে কাজ করাই পেশাদার সাংবাদিকতার মূল দর্শন – তথ্যমন্ত্রী Inner Wheel Club of Dhaka Cosmopolitan 2026–2027 Handover Ceremony & Collar Exchange Program ব্যবসা সম্প্রসারণেই অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব, ব্যবসায়ীদের প্রতি পরিবেশমন্ত্রীর আহ্বান

মাহমুদ খান, সিলেট প্রতিনিধি

খানাখন্দে ভরা সড়ক, সীমাহীন দুর্ভোগ

Dutta
হালনাগাদ: বৃহস্পতিবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৩
syleht

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সালুটিকর-গোয়াইনঘাট সড়ক অসংখ্য ছোট-বড় খানাখন্দে ভরা এর মধ্যে প্রায় ১০-১২ কিলোমিটার রাস্তার পিচ একেবারে উঠে গেছে। ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে সংস্কারের অভাবে সড়কটি যেন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সড়কটির জীর্ণদশার কারণে যাত্রী পরিবহণ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বর্তমানে ২৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সড়কটির প্রায় ১৫ কিলোমিটারই ভেঙ্গে গেছে। বর্ষা মৌসুম হওয়ায় সড়কে শতাধিক গর্তের সৃষ্টি হয়েছে তাই দুর্ভোগের শেষ নেই।

এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গোয়াইনঘাট উপজেলার পশ্চিম জাফলং, গোয়াইনঘাট সদর, লেঙ্গুড়া, বিছনাকান্দি, রুস্তুমপুর, তোয়াকুল ও নন্দিরগাওঁ ইউনিয়নের প্রায় আড়াই লক্ষাধিক মানুষের চলাচলের একমাত্র ও প্রধান রাস্তার নাম সালুটিকর-গোয়াইনঘাট সড়ক।

সরেজমিনে দেখা যায়, সালুটিকর-গোয়াইনঘাট সড়কের সালুটিকর বাজার থেকে তোয়াকুল ইউনিয়নের পেকেরখাল ব্রিজ পর্যন্ত ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। এখানে প্রায়ই ঘটছে ছোটবড় দুর্ঘটনা। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় লোকজন এ সড়ক সংস্কারের দাবি জানালেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

এলাকার লোকজন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ সড়কটির বেহাল অবস্থা। অনেকটা মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে এ সড়ক দিয়ে চলতে হচ্ছে। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন স্কুল, কলেজ, মাদরাসার হাজার হাজার শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের চলাচলের পাশাপাশি বিছনাকান্দি ও পান্তুমাই পর্যটনকেন্দ্রে দেশি-বিদেশি পর্যটকের আগমন ঘটে। কিন্তু চলার মতো কোনো অবস্থা নেই সড়কটির।

এ ব্যাপারে জমির মিয়া নামের একজন ব্যবসায়ী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বেহাল দশা। যানবাহনতো দূরে থাক, পায়ে হেঁটে চলাও দায়। এ সড়ক দিয়ে যানবাহনের চালকরাও সহজে যেতে চান না। এরমধ্যে বৃষ্টি হলেতো কথায় নেই। কাদা পানিতে পুরো সড়ক যেন চাষযোগ্য জমিতে পরিণত হয়।

এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ ২০১৬ সালে সালুটিকর-গোয়াইনঘাট সড়কটি সংস্কার করা হয়। সালুটিকর-গোয়াইনঘাট পুরো ২৪ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার শেষ না হতেই ভারত থেকে নেমে আসা উপুর্যুপরি পাহাড়ি ঢলে সড়কটির সিংহভাগ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত করে। এছাড়াও ২০২২ সালের স্মরণ কালের ভয়াবহ বন্যায় এ সড়কটি আবারো বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ২০২২ সালের প্রলয়ণকারী বন্যা পরবর্তী সময়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ সড়কটি পরিদর্শন করেন।

পরবর্তীতে এ সড়কটির গুরকচি-গোয়াইনঘাট উপজেলা সদর পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের জন্য সাড়ে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেন। এ অংশটির সংস্কার কাজ প্রায় সমাপ্তির পথে। অপর দিকে সালুটিকর – গোয়াইনঘাট সড়কে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নয়াবাজার সংলগ্ন হাটগাং সেতু, তোয়াকুল সিএনজি স্টোপেজ সংলগ্ন ২ কোটি টাকা ব্যয়ে তোয়াকুল সেতু এবং বঙ্গবীর পয়েন্ট সংলগ্ন আরো ২ কোটি টাকা ব্যয়ে বঙ্গবীর সেতুর বরাদ্দ দেন। যে সেতু গুলোর নির্মাণ কাজ কিছু দিন আগে সমাপ্ত হয়েছে। তবে নবনির্মিত ওই ৩ টি সেতুর এপ্রোসের কাজ এখনো সম্পন্ন হয়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী (স্থানীয় সরকার বিভাগ) রফিকুল ইসলাম বলেন, ইতিমধ্যে সালুটিকর-গোয়াইনঘাট সড়কের গুরকচি থেকে গোয়াইনঘাট উপজেলা সদর পর্যন্ত ৬ কিলোমিটারের সংস্কার কাজ শেষ হয়েছে। এছাড়াও সকটির তোয়াকুল অটোরিকশা সিএনজি স্টপেজ থেকে বঙ্গবীর পয়েন্ট পর্যন্ত সংস্কার কাজে টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন। সালুটিকর হতে তোয়াকুল পর্যন্ত বাকি রাস্তা টেকসই ও মজবুত করার লক্ষ্যে সংশোধিত প্রাক্কলন নির্বাহী প্রকৌশলীর মাধ্যমে ঢাকায় এলজিইডির এডিবি প্রকল্প অফিসে পাঠানো হয়েছে। সংশোধিত প্রাক্কলন অনুমোদিত হলেই রাস্তার বাকি কাজ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শুরু করবেন।

এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাহমিলুর রহমান বলেন, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও স্থানীয় বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যায় প্রতিবছর সালুটিকর-গোয়াইনঘাট সড়কের সিংহভাগ অংশ তলিয়ে যায়। ফলে বন্যার পানি সড়ক থেকে নামার পর ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়। উক্ত রাস্তাটি সংস্কারের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..