× Banner
সর্বশেষ
প্রাথমিক শিক্ষায় গুণগত পরিবর্তনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের ‘পুরস্কার ও তিরস্কার’ নীতি অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রকৃত দেশপ্রেমিক কখনো দুর্নীতিবাজ হতে পারেন না – বিমানমন্ত্রী চা শিল্পের উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়তে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে – আইনমন্ত্রী পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর স‌ঙ্গে আইএফআরসির প্রধানের বিদায়ী সাক্ষাৎ রপ্তানিতে ৬৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য নির্ধারণ, ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে কাজ করছে সরকার – ভারপ্রাপ্ত স্পিকার চাকরি না খুঁজে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী হোন – মির্জা ফখরুল দক্ষিণ কোরিয়া ও আরব আমিরাতের সঙ্গে এফটিএ আলোচনা শেষ পর্যায়ে – বাণিজ্যমন্ত্রী

ডেস্ক

ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম মহিলা মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ইলা ঘোষ মজুমদারের জন্মদিন

Brinda Chowdhury
হালনাগাদ: সোমবার, ২৪ জুলাই, ২০২৩
ইঞ্জিনিয়ার ইলা ঘোষ মজুমদারের জন্মদিন

আজ ২৪ জুলাই ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম মহিলা মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ইলা ঘোষ মজুমদারের জন্মদিন। তিনি ১৯৩০ সালের ২৪ জুলাই ইলা মজুমদার বাংলাদেশের মাদারীপুর জেলার পেয়ারপুর গ্রামে জন্মগ্রহন করেন।  ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে বিবাহের পর ঘোষ পদবি নেন।  তার পিতা  যতীন্দ্র কুমার মজুমদার ছিলেন বেঙ্গল সিভিল সার্ভিসের একজন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট।  ইলারা ছিলেন  ছয় বোন ও দুই ভাই পিতার বিভিন্ন স্থানে বদলির কারণে বিদ্যালয়ের পাঠ বিভিন্ন বিদ্যালয়ে। খুলনার এক স্কুলে নবম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। কিন্তু তিনি মুক্ত পরিবেশেই ছেলেবেলা অতিবাহিত করেছেন।

 ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে ধর্মীয় উত্তেজনার কারণে তারা কলকাতায় চলে আসেন। ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দে তিনি প্রাইভেটে ম্যাট্রিক পরীক্ষা দেন, কিন্তু পরীক্ষার ফল আশানুরূপ হয়নি। তিনি দ্বিতীয় বিভাগে ম্যাট্রিক পাস করেন। পরে আশুতোষ কলেজে ভর্তি হয়ে প্রথম বিভাগে ইন্টারমিডিয়েট (আই.এস.সি-তে) পাশ করেন। ছোটবেলা থেকেই তার কারিগরি বিদ্যায় আকর্ষণ ছিল। সংযোগবশত ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন বাংলার শিক্ষামন্ত্রী, নিকুঞ্জ বিহারী মাইতির উদ্যোগে মহিলাদের জন্য ইঞ্জিনিয়ারিং–সহ শিক্ষার সব ক্ষেত্রের পড়ার দরজা খুলে দেওয়া হলে, ইঞ্জিনিয়ারিং ও ডাক্তারির দুটি প্রবেশিকা পরীক্ষায় ভালো ফল করলে তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজেই ভর্তি হন। সহপাঠিনী হিসাবে ছিলেন অজন্তা গুহ, কিন্তু তিনি একবছর পরে বাদ পড়ে যান।তখন কলেজে ভারতীয় এবং ইউরোপীয়ান মিলিয়ে আট শতাধিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে, ভারতবর্ষের প্রথম মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর একমাত্র ছাত্রী ছিলেন ইলা মজুমদার।

সেসময় ছাত্রীদের জন্যে আলাদা হোস্টেল না-থাকায় ছাত্রী-অবস্থায় ইলা মজুমদার থাকতেন কলেজ লাইব্রেরির বাঁ দিকের একটি ঘরে। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান পুলিন বিহারী ঘোষ প্রথমা ছাত্রী ইলাকে শুরু থেকেই স্নেহ করতেন। প্রকৃতপক্ষে কলেজে পুলিন বিহারীই হয়ে উঠেছিলেন ইলার অভিভাবক। আর্থিক অসুবিধা যাতে পড়াশোনায় বিঘ্ন না ঘটায়,সেই ব্যাপারে কলেজের অধ্যাপক, অধ্যক্ষ সবাই ইলাকে উদারহস্তে সাহায্যের প্রস্তাব দিয়েছিলেন যদিও ইলার বাবাই সব দায়িত্ব বহন করেছিলেন। বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সব ধরনের খেলাধুলায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন ইলা।নিজে খুব ভালো তাসের খেলা ব্রিজ খেলতেন। কলেজের একমাত্র ছাত্রী হিসেবে সকলের প্রিয়প্রাত্রী ছিলেন এবং পঠনকালে সহপাঠীদের খুবই সহযোগিতা পেয়েছিলেন। ১৯৫১ সালে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বাংলা তথা সমগ্র ভারতের প্রথম স্নাতক হয়ে ইতিহাস গড়লেন ইলা।

স্নাতক হওয়ার পর শিক্ষানবিসির ও স্নাতকোত্তর স্তরে পড়াশোনার জন্য স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো যান এবং সেখানকার ‘বার অ্যান্ড স্টাইড’- সংস্থা থেকে স্নাতকোত্তর স্তরের শিক্ষা নেন। ভারতে ফিরে  ইলা মজুমদার দেরাদুনের ‘অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরি’ -এর ভারী যন্ত্রাংশ তৈরির কারখানাতে প্রথম  কর্মজীবন শুরু করেন। সেখানে ছয় মাস চাকরি করার পর ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে দিল্লি পলিটেকনিক কলেজে প্রভাষক হন। এখানে কর্মরত অবস্থায় অতি অল্প সময়ে তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং-এর উপর দুটি বই – “অ্যাপ্লায়েড মেকানিক্স থ্রু ওয়ার্কড একজাম্পেল্স” এবং “হাইড্রলিক্স থ্রু ওয়ার্কড একজাম্পেল্স” প্রকাশ করেন।  ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে বিবাহের পর তিনি স্থায়ীভাবে কলকাতায় চলে আসেন এবং ইন্সটিটিউট অব জুট টেকনোলজি-তে লেকচারার পদে যোগ দেন। এখানে কর্মরত অবস্থায় তিনি  কলকাতার প্রথম মহিলা পলিটেকনিক কলেজ প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট হন। ১৯৬৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর, তার উদ্যোগে কলকাতার গড়িয়াহাট রোডে বাংলার প্রথম মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট (Women’s Polytechnic College, Kolkata) প্রতিষ্ঠা হলে তিনি প্রথম অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন। প্রথমদিকে মেয়েদের উপযুক্ত আর্কিটেকচার এবং ইলেকট্রনিক্স নিয়েই পঠন পাঠন শুরু হয়। তাঁর বিস্তৃত এই কর্মকাণ্ডে মুগ্ধ হয়ে ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে ইউনেস্কোর পক্ষ থেকে তাদের প্রকল্পে বাংলাদেশের ঢাকাতেও একটি মহিলা পলিটেকনিক কলেজ খোলার দায়িত্ব তাঁকে দেওয়া হয়। প্রথম দিকে পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁকে অধ্যক্ষ পদ থেকে অব্যাহতি দিতে রাজি না হলেও পরবর্তীকালে তিনি বাংলাদেশে যান এবং তাঁরই তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশের প্রথম মহিলা পলিটেকনিক কলেজ ঢাকায় স্থাপিত হয় এবং এক বিরল কীর্তির অধিকারিণী হন।

ভারতের প্রথম মহিলা মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। তিনি হলেন শিবপুর বি.ই কলেজের (বর্তমানে IIEST) প্রথম ছাত্রী। শিক্ষানবিশ হিসেবে বিদেশে পড়তে যাওয়া ভারতের প্রথম মহিলা তিনি। শুধু তাই নয়, তিনি ভারতের সর্বপ্রথম মহিলা যিনি ভারী যন্ত্রাংশ তৈরির কারখানায় কাজ করেছেন এবং কলকাতার প্রথম (ভারতের দ্বিতীয়) মহিলা পলিটেকনিক কলেজের (Women’s Polytechnic , Kolkata) প্রতিষ্ঠাত্রী। শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয় বাংলাদেশেরও প্রথম মহিলা পলিটেকনিক কলেজের স্থাপনাটি শ্রীমতি ইলা মজুমদারের তত্ত্বাবধানেই হয়েছিল।

প্রথম দিকে পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁকে অধ্যক্ষ পদ থেকে অব্যাহতি দিতে রাজি না হলেও পরবর্তীকালে তিনি বাংলাদেশে যান এবং তাঁরই তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশের প্রথম মহিলা পলিটেকনিক কলেজ স্থাপনার গৌরব অর্জন করেন। এইসময়ে ঢাকায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগলে তিনি অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে বহু হিন্দু পরিবারকে সাহায্য করেছিলেন। কোকিলা সাহা নামক এক বিধবা সর্বহারা মহিলাকে সঙ্গী করে কলকাতা নিয়ে এসে নিজের আত্মীয়ের মতো আশ্রয় দিয়েছিলেন এবং আজীবন নিজের সঙ্গী করেই রেখেছিলেন।

ঘোষ দম্পতির দুই পুত্র (১৯৬০, ১৯৬৭) ও এক কন্যার জন্ম হয়েছিল, কিন্ত কন্যা ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দে মারা যায়। তাদের দুই পুত্রই আইআইটি ,খড়গপুরের প্রাক্তনী। ২০১৯ সালের ১১ ডিসেম্বর ইলা ঘোষ মজুমদারের মৃত্যু হয়।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..