× Banner
সর্বশেষ
সাংবাদিকতা পেশা নির্ধারণে যথাযথ কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি -তথ্যমন্ত্রী বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে দেশব্যাপী কর্মসূচির প্রস্তুতি, গুরুত্ব পাচ্ছে ডিজিটাল রূপান্তর ও এআই যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি: বেসামরিক কর্মসূচির আড়ালে বাড়ছে কৌশলগত উদ্বেগ বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা নতুন উচ্চতায় নেওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে আলোচনা, সম্ভাব্য উত্তরসূরি ঘিরে জল্পনা ফিলিপাইনে শুরু ৩৩তম আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের বৈঠক এলএনজি টার্মিনালে ত্রুটি, দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট নয়াদিল্লিতে ফের উত্তেজনা, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে আহত ৫ মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনায় ফের বাড়ল তেলের দাম, ব্রেন্ট ছাড়াল ৯৬ ডলার হাম ও ডেঙ্গুর দ্বৈত আতঙ্কে দেশ, বাড়ছে শিশু ও সাধারণ মানুষের ঝুঁকি

আবুল কালাম আজাদ: যশোর

শত বছরের ঐতিহ্য হা ডু ডু খেলার আয়োজন যশোরের বাঘারপাড়ায়

Ovi Pandey
হালনাগাদ: শনিবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০২৩
hadudu khela

শত বছরের বেশি সময় ধরে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার পাঠান পাইকপাড়া স্কুল মাঠে আয়োজন করা হয় গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এবং দেশের জাতীয় খেলা হা ডু ডু।
শুক্রবার সকালে খেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ জাকির হাসান।  বেলা ১১টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও পায়রা অবমুক্ত করে দু’দিনব্যাপী এ টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ জাকির হাসান।
স্থানীয় পাঠান পাইকপাড়া আদর্শ সমাজ কল্যাণ সমবায় সমিতি আয়োজিত ১৬ দলীয় হাডুডু টুর্নামেন্টে। এবারের আসর হচ্ছে ১০৭তম।
দুপুর গড়াতেই দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষের ঢল নামে। বিদ্যালয়ের আশপাশে বসেছিল নানা মুখরোচক খাবারের দোকান। টুর্নামেন্টকে ঘিরে পাঠান পাইকপাড়া গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে মেয়ে জামাইসহ নিকটাত্মীয়-স্বজনরা এসেছেন খেলা দেখতে। পুরো গ্রামজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবের আমেজ।
হাডুডু খেলা দেখতে আসা পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান বলে, ‘জীবনে প্রথমবার এমন খেলা দেখতে এসে আমি খুব খুশি। প্রতিবছর যেন এই আয়োজন অব্যাহত থাকে। স্থানীয় বাসিন্দা খায়রুল হাসান খান হীরা বলেন, হা ডু ডু খেলা আমাদের ঐতিহ্য। শত বছরের বেশি সময়কাল ধরে শীতকালে আমাদের এইমাঠে খেলা আয়োজন করা হয়।
১২ বছরের নাতি সুমাইয়াকে নিয়ে হা ডু ডু খেলা দেখতে এসেছিলেন মাগুরার শালিখা উপজেলার পিয়ারপুর গ্রামের ইজ্জত আলী মোল্লা (৮৫)। তিনি বলেন, ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে আমি এখানে খেলা দেখতে আসি। একসময় এখানে লাঠি খেলা করতাম; লাঠিয়াল দলের সরদার ছিলাম। এসব খেলা আমাদের প্রিয়, তাই দেখতে আসছি।
একই উপজেলার ভরতপুর গ্রামের বাসিন্দা মোসলেম আলী (৭২) বলেন, পাইকপাড়ায় আমার নানাবাড়ি। ছোটবেলায় এই গ্রামেই থাকতাম। খুব ছোটকাল থেকেই হা ডু ডু খেলা দেখে আসছি এই গ্রামে। এখন নানা নানি নেই, মামাত ভাই, ভাইপোরা রয়েছে। প্রতিবছরই আসি খেলা দেখতে।
টুর্নামেন্টের প্রধান পৃষ্ঠপোষক বন্দবিলা ইউপি চেয়ারম্যান সবদুল হোসেন খান বলেন, এখন সচরাচর আর হাডুডু খেলা দেখা যায় না। প্রায় হারিয়েই যেতে বসেছে। আমাদের গ্রামের পূর্বপুরুষেরা ১০৭ বছর আগে এই খেলার প্রথম আয়োজন করে। বর্তমান প্রজন্ম আমরা সেই ধারাবাহিকতা এখনও ধরে রেখেছি।
বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সৈয়দ জাকির হাসান বলেন, খেলাধুলার প্রতি সরকার বিশেষ নজর দিয়েছে। জাতীয় এই খেলা যে কতটুকু জনপ্রিয়, তা আজকের এই আয়োজন প্রমাণ করছে। প্রত্যেকটি ইউনিয়নে যেন আমাদের হারিয়ে যাওয়া খেলাগুলো আবারও জনপ্রিয় হয়- সেদিকে আমরা বিশেষ নজর রাখবো।
এদিকে, নকআউট ভিত্তিক এ টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী খেলায় যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার ধলগ্রাম হা ডু ডু দল ২-০ গোলে মাগুরার শালিখা উপজেলার পিয়ারপুর হা ডু ডু দলকে পরাজিত করে। টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন দলকে ট্রফিসহ নগদ ৭০ হাজার ও রানার্সআপ দলকে ট্রফিসহ নগদ ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে আয়োজক কমিটি।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..