× Banner
সর্বশেষ
আগস্টের শেষে খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার: সর্বনিম্নে নামবে অভিবাসন ব্যয় পাকিস্তানের কোয়েটার কয়লাখনিতে বিস্ফোরণ: নিহত ১৮, আটকা আরও ২৪ শ্রমিক পাকিস্তানে সহিংসতা বৃদ্ধি: প্রাণহানি ও নিরাপত্তা সংকট ঘিরে উদ্বেগ বিশ্ব রেঞ্জার দিবস ২০২৬: ইতিহাস, প্রতিপাদ্য, গুরুত্ব ও রেঞ্জারদের অবদান আজ ৩১ জুলাই বৈদিক জ্যোতিষে রাশিফল ও গ্রহদোষ প্রতিকারের উপায় ৩১ জুলাই শুক্রবার পঞ্জিকা ও ইতিহাসের এইদিনে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে এনসিপির বিক্ষোভ মিছিলে হামলার অভিযোগ, আহত বেশ কয়েকজন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগে জনপ্রশাসন হবে অধিকতর জনবান্ধব – জনপ্রশাসন উপদেষ্টা স্বাস্থ্য খাতকে আরও শক্তিশালী করতে চিকিৎসকদের সহযোগিতা অপরিহার্য – স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সুদের টাকার জন্য বিধবার গাভী নিয়ে গেলেন দাদন ব্যবসায়ী

মরা মেয়ের লাশের পাশে মা সাত দিন

admin
হালনাগাদ: রবিবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০১৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: শনিবার দুপুরে পশ্চিমবঙ্গের টালিগঞ্জের নেতাজিনগর এলাকায় সকাল থেকেই দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ পড়শিরা। গন্ধের উৎস খুঁজতে নেমে তারা বুঝতে পারেন, বন্ধ ফ্ল্যাটেই কিছু রয়েছে। যার ভাঙা জানালার ফাঁক দিয়ে দুর্গন্ধ আসছে। সন্দেহ হওয়ায় খবর দেন পুলিশে। পুলিশ এসে ফ্ল্যাটের দরজা খুললে দেখা যায়, ঘরের মেঝেতে পড়ে পচাগলা এক নারীর দেহ। আর তার সামনে বসে হাত জোড় করে কেঁদে চলেছেন এক বৃদ্ধা। কোনো প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন না তিনি। খবর আনন্দবাজার অনলাইনের।

পুলিশ জানায়, মৃত নারীর নাম মাম্পি নাথ (৪৩)। মায়ের নাম জলি নাথ। মা ও মেয়ে নেতাজিনগরের এক তিনতলা আবাসনের দোতলায় থাকতেন। পড়শিরা জানান, জলি নাথকে মাঝেমধ্যে রাস্তায় দেখা গেলেও পাঁচ বছরে কোনো দিন তার মেয়ে মাম্পিকে দেখা যায়নি। তদন্তকারীদের অনুমান, অন্তত দিন সাতেক আগেই মৃত্যু হয়েছে মাম্পির।

পড়শিরা জানান, বছর দশেক আগে নেতাজিনগরে ফ্ল্যাট কিনে বসবাস শুরু করেন জলি নাথরা। মা-মেয়ে নিজেদের মতোই থাকতেন। পাড়ায় বা নিজেদের আবাসনের বাসিন্দাদের সঙ্গেও মিশতেন না। তার স্বামীকেও কোনো দিন দেখা যায়নি। স্থানীয় একজন বাসিন্দা জানান, পাঁচ দিন ধরে একবারের জন্য জলি নাথ ঘর থেকে বের হননি। পুলিশ আসার পর দরজা খোলেন। মাস ছয়েক আগে তাদের ঘরে আগুন লেগেছিল। তখন পুলিশ ও দমকলকর্মীরা এসে একইভাবে দরজা খুলেছিলেন বলে জানান বাসিন্দারা।

এ ঘটনার তদন্তকারীরা জানান, ঘরের মেঝেতে ছিল মাম্পির দেহ। তার একটি চোখ খোবলানো ছিল। দেহ ফুলে গিয়েছিল। দেহের চারপাশে মাছি আর পোকা কিলবিল করছিল। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, মা-মেয়ে দুজনেই মানসিক ভারসাম্যহীন।

আবাসনের বাসিন্দা রেখা বলেন, ‘১০ বছর ধরে এক বাড়িতে আছি। অথচ মা-মেয়ের সঙ্গে এক দিনও কথা হয়নি। সব সময় ঘরের দরজা বন্ধ থাকত।’

নীলাঞ্জনা সান্যাল নামে একজন মনোবিদ জানান, ‘মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এই ধরনের সম্পর্ককে বলা হয় “সিমবায়োটিক রিলেশন”। মা এই ক্ষেত্রে সন্তানের থেকে নিজের অস্তিত্বকে আলাদা করে ভাবতে পারেন না। দুজনের মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে পৃথক অস্তিত্ব গড়ে না ওঠার জন্যই এই ধরনের সমস্যা হয়।’


এ ক্যটাগরির আরো খবর..