× Banner
সর্বশেষ
পেটে ঢুকিয়ে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা,আটক গাজীপুরের তরুণী টেপ বল ক্রিকেটকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে – যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী সাত মন্ত্রণালয়ের তিন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী বগুড়ায় আসছেন শনিবার চট্টগ্রাম আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি দুর্ঘটনায় পেহেলির অকাল মৃত্যুতে মা-বাবার ভবিষ্যৎ স্বপ্নের সমাধি জুলাই আন্দোলনের ত্যাগকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে – তথ্যমন্ত্রী পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে অপপ্রচার, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি শিগগিরই শুরু হবে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ – পানি সম্পদ মন্ত্রী সংবাদপত্র সমাজের দর্পণ – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী শেখ হাসিনা কি বেঁচে আছেন, না কি মারা গেছেন- রাশেদ খাঁন

ব্রাজিলের রাজধানীতে বাণিজ্যিক শাখাসহ বাংলাদেশ জেনারেল অফিসের প্রয়োজন অনুভূত

Kishori
হালনাগাদ: বুধবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

মাননীয় বাণিজ্যমন্ত্রীর মার্কোসুর (Mercosur) দেশসমূহে (ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে এবং উরুগুয়ে) সফল সফর, ১৭–২৫শে আগষ্ট ২০১৯: ব্রাজিলের বাণিজ্যিক রাজধানী সাঁও পাওলোতে বাণিজ্যিক শাখাসহ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল অফিস স্থাপনের প্রয়োজন অনুভূত

মাননীয় বাণিজ্যমন্ত্রী জনাব টিপু মুনশি, এমপি, গত ১৭ থেকে ২৫ শে আগষ্ট ২০১৯ মার্কোসুর (Mercosur) দেশসমূহে এক সরকারি সফরে আসেন। এই সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল দুইটি:

১. মার্কোসুর/Mercosur (Southern Common Market)-এর সাথে বাংলাদেশের প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ব্যাপারে মার্কোসুর-এর সদস্য দেশসমূহ তথা আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, প্যারাগুয়ে ও উরুগুয়ের সমর্থন আদায়ের প্রচেষ্টা। চিলিসহ আরো আটটি দক্ষিণ আমেরিকার দেশ মার্কোসুর-এর সহযোগী সদস্য। এবং

২. ঐ চারটি দেশের সাথে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও পারস্পরিক বিনিয়োগ উন্নয়নের উপায়সমূহ পর্যালাচনা।

মার্কোসুর দেশগুলো দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের সমগ্র অর্থনীতির ৭৬%; মোট জিডিপি ৩.৪ ট্রিলিয়ন ডলার (পিপিপি ৪.৬ ট্রিলিয়ন ডলার); মার্কোসুর দেশগুলোর মোট জনসংখ্যা ৩০০ মিলিয়ন অৰ্থাৎ দক্ষিণ আমেরিকার ৭০% জনগনের বাস এই চারটি দেশে); মার্কোসুর -এর দেশগুলোর গড় মাথাপিছু আয় ১২,০০০ ডলার (পিপিপি ২০,০০০ ডলার), যেটি তাদের উচ্চ ক্রয়ক্ষমতার নির্দেশক।

বর্তমানে মার্কোসুর দেশগুলোর মোট আমদানি ১৬৬ বিলিয়ন ডলার (রপ্তানি ২০৩ বিলিয়ন ডলার)। এই বিশাল আমদানি বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি মাত্র ২০০ মিলিয়ন ডলারের কিছু বেশী। অথচ ঐ মার্কোসুর দেশগুলি থেকে বাংলাদেশের আমদানি ২ বিলিয়ন ডলারেরও বেশী। অৰ্থাৎ মার্কোসুর দেশগুলোর সাথে বাংলাদেশের বর্তমান বাণিজ্যঘাটতি ১.৮ বিলিয়ন ডলার! প্রধানতঃ উচ্চমাত্রার ট্যারিফ বাধার কারণে বাংলাদেশের পণ্য মার্কোসুর দেশগুলোতে প্রবেশ করতে পারে না।

বাংলাদেশ-মার্কোসুর  মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি:

সার্বিক বিষয়াদি পর্যালাচনা করে মূলতঃ বাংলাদেশের সাথে মার্কোসুর দেশগুলোর বাণিজ্যে ভারসাম্য আনার লক্ষ্যে গত বছর ব্রাজিলে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোঃ জুলফিকার রহমান মার্কোসুর-এর সাথে একটি মুক্তবাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তাব করেন। বাংলাদেশ সরকার এবিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করে সিদ্ধান্তে আসে যে, এধরণের একটি চুক্তি বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে। গত নভেম্বরে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা জানিয়ে মার্কোসুর-কে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের সাথে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তাব দেয়া হয়।

মাননীয় বাণিজ্যমন্ত্রী মহোদয়ের এ সফরকালে চারটি দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীবর্গ ও ব্যবসাখাতের নেতৃবৃন্দের সাথে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এক সপ্তাহের এ সফরে তিনি মোট ১৭টি আলোচনা সভায় অংশগ্রহন করেন। দক্ষিণ আমেরিকার সর্ববৃহৎ অর্থনীতি তথা বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম অর্থনীতি ব্রাজিলের বাণিজ্যিক রাজধানী সাঁও পাওলোতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিষয়ে একটি সেমিনারেও তিনি প্রধান অতিথি হিসাবে অংশগ্রহন করেন।

প্রতিটি দেশের নেতৃবৃন্দই (পররাষ্ট্র মন্ত্রী, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী, কৃষিমন্ত্রী ইত্যাদি) বাংলাদেশের এ প্রস্তাবকে স্বাগতঃ জানান এবং যথাসময়ে এ বিষয়ে কারিগরি আলোচনা শুরুর প্রস্তাব দেন । সম্পাদিত হলে এই বাংলাদেশ- মার্কোসুর মুক্তবাণিজ্য চুক্তির আওতায় মার্কোসুর দেশসমূহে বাংলাদেশের রপ্তানী উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। এটি বাংলাদেশের রপ্তানীবাজার সম্প্রসারণে বিশাল একটি মাইলফলক হবে, এটা নিশ্চিত করেই বলা যায়।

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সহযোগিতাঃ

মার্কোসুর-এর সাথে মুক্তবাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি মাননীয় বাণিজ্যমন্ত্রী সফরকালে দ্বিপাক্ষিক পর্যায়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা করেন। এসব আলোচনায় তিনি ব্যবসাবাণিজ্যের পাশাপাশি মার্কোসুর দেশগুলোর বিনিয়োগকারীদেরকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহবান জানান। তিনি বাংলাদেশের বিনিয়োগবান্ধব আইনকানুন ও বিভিন্ন বড় বড় বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। একইভাবে মার্কোসুর দেশগুলোতে বিনিয়োগ করে বাংলাদেশের বিনিয়োগকারীরাও মার্কোসুর-এর বিশাল বাজারের সুবিধা নিতে পারে মর্ম্মে তিনি মত প্রকাশ করেন। বাংলাদেশ ও মার্কোসুর দেশগুলো এসব পারস্পরিক বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করবে বলে উভয়পক্ষে মতৈক্য প্রতিষ্ঠিত হয়।

দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে এই চারদেশ সফরের অৰ্জনগুলো:

ব্রাজিলঃ

১. বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানীপণ্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানীকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও ব্রাজিলের সর্ববৃহৎ ব্যবসাসংগঠন সাঁও পাওলো চেম্বার অব কমার্সের মধ্যে একটি সহযোগিতা স্মারক (memorandum of understanding) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

২. মার্কোসুর-এর সাথে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য-বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য দুই দেশের সরকার “ধারণাপত্র” (concept paper) বিনিময় করবে এবং সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রসমুহ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহন করবে।

৩. বিজিএমইএ ও ব্রাজিলের তুলা রপ্তানীকারকদের সংগঠন ABRAPA-র সাথে পারস্পরিক সহযোগিতামূলক স্মারক (MOU) স্বাক্ষরের বিষয়ে মতৈক্য প্রতিষ্ঠা।

৪. বাংলাদেশের পাট ও পাটজাত পণ্যের উপর ১৯৯২ সালে ব্রাজিল-আরোপিত এন্টিডাম্পিং শুল্ক (anti-dumping duty) পর্যালোচনার উদ্যোগ নেয়া হবে।

৫. ব্রাজিল ও বাংলাদেশের মধ্যে পারস্পরিক বিনিয়োগ সহজতর করার উদ্দেশ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা পর্যালোচনা করা হবে। এবিষয়ে ব্রাজিল একটি Model Investment Treaty বাংলাদেশের মতামতের জন্য প্রেরণ করবে। দুপক্ষে মতৈক্য হলে বিনিয়োগ বিনিময় চুক্তিটি স্বাক্ষর করা যেতে পারে।

৬. বাংলাদেশের ও ব্রাজিলের বেসরকারী খাতের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়েছে । একে অপরের বাণিজ্যমেলাগুলোতে অংশগ্রহন করার বিষয়ে বাণিজ্যিক সংগঠনগুলোকে তাগিদ দেয়া হবে।

৭. বিজিএমইএ বাংলাদেশের পোশাকপণ্য ব্রাজিলে পরিচিতিকরণ ও ব্রাজিলের বাজারের চাহিদা বোঝার জন্য আগামী নভেম্বর মাসে একটি Single Country RMG Exhibition and Fashion Show করবে। ব্রাজিলিয়ান ডিজাইনারদের সাথে কাজ করারও প্রয়াস নেয়া হবে যাতে ব্রাজিলিয়ান জনগণের চাহিদামত পোশাকপণ্য সরবরাহ করা সম্ভব হয়।

আর্জেন্টিনাঃ

১. বাণিজ্য সহযোগিতা বিষয়ে যৌথ কমিশন গঠনে মতৈক্য হয়। এ বিষয়ে প্রটোকল স্বাক্ষরিত হবে। কমিশন দ্বিপাক্ষিক ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আওতায় পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট খাতগুলো চিহ্নিত করবে।

২. আর্জেন্টিনা চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশের ফেড়ারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির (FBCCI) বা সমপর্যায়ের ব্যবসায়ী সংগঠনের সাথে সহযোগিতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরে আগ্রহী, যার আওতায় বাণিজ্য প্রতিনিধিদল বিনিময় হবে।

প্যারাগুয়েঃ

১. বাণিজ্য বিষয়ে যৌথ কমিশন গঠনে মতৈক্য হয়েছে। এ বিষয়ে সহযোগিতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষর করা যেতে পারে বলে উভয়পক্ষ মত প্রকাশ করেছে ।

২. দু’দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সংগঠনের মধ্যে সহযোগিতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরে আগ্রহ প্রকাশ।

উরুগুয়েঃ

১. উরুগুয়ে বাংলাদেশের সাথে কুটনৈতিক ও অফিসিয়াল পাসপোর্টধারীদের ভ্রমন সহজতর করার উদ্দেশ্যে পারস্পরিক ভিসা ছাড় (visa exemption) চুক্তি স্বাক্ষরে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ।

২. উরুগুয়ে বাংলাদেশের সাথে সাংষ্কৃতিক সহযোগীতা বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তাব করেছে।

৩. দু’দেশের মধ্যে দ্বৈত্বকর পরিহার চুক্তি স্বাক্ষরেও উরুগুয়ে বাংলাদেশের কাছে প্রস্তাব করেছে।

৪. দু’দেশের শীর্ষ চেম্বারের মধ্যে সহযোগিতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরের প্রস্তাব করা হয়েছে।

সপ্তাহব্যাপী এ সফরে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশ ও মার্কোসুর তথা দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্কে বৈপ্লবিক উন্নয়ন ঘটবে একথা নিঃসন্দেহে বলা যায়। সেক্ষেত্রে বাণিজ্যমন্ত্রীর এ সফর বাংলাদেশ-দক্ষিণ আমেরিকা সম্পর্কে একটি মাইলফলক হিসাবে চিহ্নিত হবে।

এসব কার্য্যক্রম সফলভাবে সম্পাদনে ব্রাজিলিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাসকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের জন্য ব্রাজিলের তথা এতদঞ্চলের বাণিজ্যিক রাজধানী সাঁও পাওলোতে বাণিজ্যিক শাখাসহ একটি বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল অফিস খোলার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ বিষয়টি বাংলাদেশের যথাযথ কর্তৃপক্ষের বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..