রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের ঠাকুড়াদহ গ্রামে সঠিক দেখভাল ও সংরক্ষণের অভাবে ধসে পড়তে বসেছে প্রায় ৪০০ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক ‘জোড় মন্দির’।
একসময় পূজা-পার্বণ, রাসলীলা ও মেলার কলতানে মুখরিত থাকা ঐতিহ্যবাহী এই স্থাপনাটি এখন পরিণত হয়েছে ঝোপঝাড় ও আগাছার জঙ্গলে।
স্থানীয় ইতিহাসগ্রন্থ ‘গঙ্গাচড়া উপজেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য’ সূত্রে জানা যায়, মন্দিরটি অষ্টাদশ শতক বা তারও আগে নির্মিত। তবে এর সঠিক নির্মাণকাল ও ইতিহাস অনুসন্ধানে গবেষণার প্রয়োজন বলে মনে করছেন গবেষকরা।
ধ্বংসাবশেষ পর্যবেক্ষণ করে ধারণা করা হয়, এটি প্রাচীন ‘নবরত্ন’ শৈলীর স্থাপত্যে নির্মিত হয়েছিল। মন্দিরে আগে দুটি দোতলা ও চারটি ছোট চূড়াসহ মোট ছয়টি চূড়া এবং প্রবেশদ্বারে সিংহের মূর্তি থাকলেও বর্তমানে মাত্র একটি চূড়া দৃশ্যমান রয়েছে। ইটের গাঁথুনি ও পোড়ামাটির নকশা এখনও কালের সাক্ষী হয়ে টিকে রয়েছে। মন্দির প্রাঙ্গণে পূর্বে ‘শেখ কুয়া’ ও তিনতলা মঠের উপস্থিতি ছিল বলে প্রবীণদের সূত্রে জানা যায়, যা পাকিস্তান আমলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ঐতিহাসিক এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন রক্ষায় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ফিল্ড অফিসার আবু সাইদ ইনাম তানভিরুল জানান, মন্দিরটির গুরুত্ব যাচাইয়ে তথ্য সংগ্রহ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হচ্ছে।
রংপুর প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক ড. আহমেদ আবদুল্লাহ বলেন, উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণ ও নথি প্রস্তুত করে দ্রুত এটি সংরক্ষণের সুপারিশ প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হবে।





