৭ মাসে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ, জিডির তথ্য জানালেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

৭ মাসে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ, জিডির তথ্য জানালেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
৭ মাসে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ, জিডির তথ্য জানালেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

গত সাত মাসে শিশু নিখোঁজের ঘটনায় ১৫ হাজার ৭১৭টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি আরও বলেছেন, এর আগে ২০২৫ সালের জুন থেকে ডিসেম্বরে এমন জিডির সংখ্যা ছিল ১৩ হাজার ৮৭৬টি

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি।

তবে প্রতিটি জিডির অর্থ শিশু আর ফিরে আসেনি এমন নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, নিখোঁজ শিশুদের একটি বড় অংশ পরবর্তী সময়ে ফিরে আসে। ঠিক কত শিশু আর ফিরে আসেনি, তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য সরকারের কাছে নেই বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, আমরা হিসাব করতে পারি এর বিরাট একটা অংশ ফেরত আসে। কোনো কোনো পত্রিকা পরে ফলোআপ রিপোর্ট করেছে এবং আসলে এটা মিডিয়ার কাজ।

প্রাপ্তবয়স্ক নিখোঁজের জিডির সংখ্যাও তুলে ধরে তিনি বলেন, গত সাত মাসে প্রাপ্তবয়স্ক ১৩ হাজার ৫৮০ জনের বিষয়ে জিডি হয়েছে। আগের সাত মাসে এ সংখ্যা ছিল ১৩ হাজার ৩ জন। অর্থাৎ দুই সময়ের পরিসংখ্যান তুলনামূলকভাবে কাছাকাছি।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, শিশু নিখোঁজের ঘটনা অবশ্যই উদ্বেগের বিষয়, তবে এটিকে বাংলাদেশের একেবারে নতুন সংকট হিসেবে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, শুরু থেকেই সংকট মোকাবিলায় কিছু ভুলের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। একে আন্তর্জাতিক ইস্যু হিসেবে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার সুযোগ থাকলেও তৎকালীন সরকার বিষয়টিকে দ্বিপক্ষীয়ভাবে সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছিল।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও এ বিষয়ে আশাব্যঞ্জক কথাবার্তা হলেও কার্যকর অগ্রগতি তেমন হয়নি। তবে বর্তমান সরকার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, সিগনিফিকেন্ট কোনো উন্নতি যে হয়েছে এই মুহূর্তে সেটা বলতে আমি পারছি না, সেটা হয়নি এখনো, কিন্তু এটা নিয়ে কাজ চলছে। আমরা নিশ্চয়ই সমস্যাটা সমাধানের জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি।

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সঙ্গে সাংবাদিকদের সুবিধাও দেখা হবে

নতুন জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের সঙ্গে সাংবাদিকদের সুযোগ-সুবিধার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।

বেসরকারি সংবাদপত্র ও টেলিভিশনে কর্মরত সাংবাদিকদের জন্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং নবম ও দশম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের বিষয়ে জানতে চাইলে জাহেদ উর রহমান বলেন, সাংবাদিকদের বিষয়টি ‘রিয়েল প্রবলেম’। ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংকটসহ এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

একপর্যায়ে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, অষ্টম ওয়েজ বোর্ডের পর নবম ওয়েজ বোর্ডের আলোচনা হলেও এর বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে দাবি থাকা দশম ওয়েজ বোর্ডও বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। জবাবে উপদেষ্টা বলেন, অবশ্যই, আমি দ্বিমত করছি না।

নবম ও দশম ওয়েজ বোর্ড একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা হবে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একসঙ্গে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, আমরা যদি সাংবাদিকদের চাকরি এবং তাদের জীবিকাকে সঠিকভাবে নিশ্চয়তা দিতে না পারি, আমরা বেটার জার্নালিজম পাবো না। এ বিষয়ে দ্রুত কাজ করার কথাও জানান তিনি।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
ACP
লেখক / প্রতিবেদক

ACP

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।