× Banner
সর্বশেষ
ধর্মমন্ত্রীর আশু আরোগ্য কামনায় দেশজুড়ে হেফাজতে ইসলামের বিশেষ দোয়া দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত ১১২ টাকায় সরকারি চাকরি পাওয়া স্বচ্ছ নিয়োগের প্রমাণ: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী বাংলাদেশে ২৫-২৬ জুলাই ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম ও বিআইইআর সামিট ২০২৬ বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন ২০২৬-এর খসড়া অনুমোদন, পরিকল্পিত আধুনিক নগর গঠনের উদ্যোগ বাজেট বাস্তবায়নেই সাফল্য, কক্সবাজারকে আধুনিক ডিজিটাল পর্যটন নগরী গড়ার পরিকল্পনা: অর্থমন্ত্রী FICCI FDI Conference 2026-এ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে FICCI FDI Conference 2026, উন্মোচিত হলো এফডিআই রিপোর্ট মাদারীপুরে বৈশাখী ভাতা ও ঈদ বোনাস না পাওয়ায় দপ্তরিদের শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাও কোটালীপাড়ায় উল্টো রথযাত্রায় ভক্তদের ঢল

৬ হাজার কোটি টাকার খাস জমি বে-দখল

admin
হালনাগাদ: রবিবার, ১ অক্টোবর, ২০১৭

শেখ মামুন-উর-রশিদ, রংপুর ॥  রংপুরের ৮ জেলায় প্রায় ১ লাখ ৭ হাজার একরের বেশি খাস জমি রয়েছে। এর অর্ধেকের বেশি জমি প্রভাবশালীদের অবৈধ দখলে আছে। যার মূল্য প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। এসব জমি উদ্ধার করে বরাদ্দ দেওয়া হলে প্রায় ৪ লাখ ভূমিহীনের মাথা গোঁজার ঠাঁই পাবে। অথচ প্রভাবশালীরা অনেক ভূমিহীনকে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ কওে তাদের দখলে নিয়েছে।

সুত্রমতে, উত্তরাঞ্চলের ৩০ লাখ ভূমিহীন পরিবার দীর্ঘদিন থেকে বসতভিটার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সে সব ভূমিহীন দিনের পর দিন ভাসমান অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। স্থানীয় প্রশাসন দাবি করছে, তারা অবৈধ দখলে থাকা খাস জমি উদ্ধারে যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে মামলার কারণে উদ্ধার প্রক্রিয়া কিছুটা ধীরগতিতে এগোচ্ছে। উদ্ধার করা খাস জমিতে আদর্শ গ্রাম করার পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছে সরকার।

রংপুর বিভাগীয় ভূমি ও জরিপ রেকর্ড অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রংপুর বিভাগে মোট খাস জমি রয়েছে ১ লাখ ৭ হাজার ২৭২ দশমিক ৪১ একর। এর মধ্যে অকৃষি ৬০ হাজার ৮১৪ দশমিক ৬৫ একর। অবৈধ দখলে থাকা খাস জমি উদ্ধারে স্বাধীনতার পর কোনো সরকারই জোরালো উদ্যোগ নেয়নি। ভূমি ও জরিপ রেকর্ড অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের গাফিলতির কারনে এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি এসব খাস জমি। অনেকের অভিযোগ ভূমি ও জরিপ রেকর্ড অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দখলদারদের গোপন সমঝোতা রয়েছে। যার ফলে এসব জমির প্রকৃত তথ্য অগোচরে রয়ে গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্বাধীনতার পর থেকে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের এক শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে হাউজিং ব্যবসায়ী, ভূমিদস্যু, মহাজন, সুদখোর, সরকারি আমলা, দাদন ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতা, জোতদার ও শিল্পপতিসহ স্থানীয় প্রভাবশালীরা জাল দলিল ও ভুয়া রেকর্ডপত্রের মাধ্যমে খাস জমি অবৈধভাবে নিজেদের নামে নামজারি করে ভোগদখল করছেন। অনেক জায়গায় সরকারের বরাদ্দ দেওয়া খাস জমি থেকেও অনেক ভূমিহীনকে বিতাড়িত করে দখলে নিয়েছেন প্রভাবশালীরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রংপুর জেলায় খাস জমির মধ্যে ৪১ শতাংশই গঙ্গাচড়া উপজেলায় রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এর ৪১ শতাংশের মধ্যে প্রায় ৯০ ভাগ জমিই অবৈধভাবে দখল করে নিয়েছেন প্রভাবশালীরা। এ ছাড়া কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছের চতুরা মৌজায় ২৫০ বিঘা খাস জমি প্রভাবশালীরা অবৈধ দখল করে নিয়েছেন। দখলদাররা খাস জমির আকৃতি-প্রকৃতিই বদলে দিয়েছেন অনেক জায়গায়। এর মধ্যে কিছু কিছু শিল্প এলাকায় পুকুর বানিয়ে মাছ চাষ করা হচ্ছে। কেউ কেউ আবাদি জমিতে গড়ে তুলেছেন শিল্পকারখানা।

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ভাংনি ইউনিয়নে ভাংনি মৌজায় প্রায় ৭ একর জমি অবৈধভাবে দীর্ঘদিন থেকে দখল করে আছেন অনেক প্রভাবশালী। ভূমিহীনরা ওই মৌজার সরকারি খাস এসব জমি তাদের নামে বরাদ্দের জন্য মিঠাপুকুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবরে আবেদন করেছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ভূমিহীনদের নেতা আনোয়ার হোসেন জানান, উত্তরাঞ্চলে ৮ জেলায় বর্তমানে প্রায় ৩০ লাখ ভূমিহীন মানুষ ভাসমান অবস্থায় রয়েছে। একটু মাথা গোঁজার ঠাঁইয়ের জন্য তারা চাতক পাখির মতো ছোটাছুটি করছে।

পরিকল্পিতভাবে এসব খাস জমি থেকে যদি ৫ শতক করেও প্রত্যেক ভূমিহীনের মধ্যে বরাদ্দ দেওয়া হতো, তা হলে এসব জমিতে প্রায় ৪ লাখ ভূমিহীনের বসতভিটা করে দেওয়া সম্ভব হতো। রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কাজী হাসান আহমেদ জানান, আমরা প্রতিমাসেই কিছু না কিছু খাস জমি উদ্ধার করছি। অনেক দলখদার আদালতে মামলা করেছেন। মামলার কারণে বেশকিছু জমি উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না। খাস জমি থেকে দখলদারদের উচ্ছেদ প্রক্রিয়ায় আইনগত জটিলতা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি আরও জানান, উদ্ধারকৃত বড় খাস জমিতে আদর্শ গ্রাম করার পরিকল্পনা প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে


এ ক্যটাগরির আরো খবর..