মুক্তিপনের টাকা দুতে রাজি হওয়ার পরেও খুন ২৬ বাংলাদেশীর একজন রাকিবুল

মুক্তিপনের টাকা দুতে রাজি হওয়ার পরেও খুন ২৬ বাংলাদেশীর একজন রাকিবুল

আঃজলিল, বিশেষ প্রতিনিধিঃ লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশীদের হত্যার মধ্যে একজন যশোরের ঝিকরগাছার রাকিবুল ইসলাম রাকিব (১৮)। ভালো কাজের আশায় চার মাস আগে পাড়ি জমিয়েছিলেন লিবিয়ায়। লিবিয়ায় মানবপাচারকারী চক্রের স্বজনদের গুলিতে নিহত হন তিনি। তার মৃত্যুতে ঝিকরগাছা উপজেলার শংকরপুর ইউনিয়নের খাটবাড়িয়া গ্রামের ইসরাফিল হোসেন জনকির বাড়িতে এখন চলছে শোকের মাতম।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি লিবিয়ায় পাড়ি জমান রাকিবুল। পৈতৃক জমিজমা ও জমানো টাকা খরচ করে তাকে বিদেশ পাঠানো হয়েছিল। এখন সন্তান হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন রাকিবের পরিবারের সদস্যরা। পরিবারে চলছে শোকের মাতম।

জানা যায়, রাকিবুল যশোর সরকারি সিটি কলেজে অর্থনীতি বিভাগের প্রথমবর্ষের ছাত্র ছিলেন। রাকিবুলের চাচাতো ভাই লিবিয়া প্রবাসী। ওই ভাই লিবিয়ায় থাকা এক বাংলাদেশি দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে লিবিয়ায় নিয়ে যান। চার মাস আগে সাড়ে চার লাখ টাকা খরচ করে রাকিবুলকে লিবিয়ায় পাঠান পরিবারের লোকজন। চার ভাইবোনের মধ্যে রাকিবুল সবার ছোট। যে কারণে তার মৃত্যুর খবরে মা-বাবা, ভাই-বোন শোকে পাথর হয়ে পড়েছেন।

শংকরপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ন আহবায়ক নুর হোসেন বলেন, দালালের মাধ্যমে রাকিবুল পাড়ি দেন লিবিয়ায়। কিন্তু দালাল চক্র লিবিয়ার একটি শহরে তাকে আটকে রেখে নির্যাতন শুরু করে। পরিবারের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে মোবাইলে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। পরিবারের লোকজন টাকা দিতে রাজিও হন। এরই মধ্যে খবর এলো দালাল চক্র রাকিবুলকে গুলি করে হত্যা করেছে। লিবিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিজদাহে বৃহস্পতিবার (ত্রিপলি হতে ১৮০ কি.মি. দক্ষিণে) বর্বোরোচিত হামলায় ২৬ বাংলাদেশিসহ ৩০ অভিবাসীকে হত্যা করা হয়। তাদের মধ্যে রাকিবুল একজন। ভালো কাজের জন্য দালালের মাধ্যমে তাকে লিবিয়ায় পাঠানো হয়।

কিন্তু শুরু থেকেই দালালেরা তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করতে থাকে। পরে তাকে আটকে রেখে ১৭ মে মোবাইলে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। ওই টাকা দুবাই থেকে তারা নিতে চায়। ভাইয়ের মুক্তির জন্য ওই টাকা দিতে রাজিও হয়েছিলেন তারা। আগামী ১ জুন পর্যন্ত তাদের কাছ থেকে সময় নিয়েছিলেন। কিন্তু এর মধ্যে কী হয়ে গেল কিছুই বুঝতে পারলেন না। রাতে লিবিয়া প্রবাসী চাচাতো ভাই ফোনে রাকিবুলের পরিবারকে জানিয়েছেন, যে ২৬ বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে তাদের মধ্যে রাকিবুলও রয়েছেন। আমরা এখন কী করবো কিছুই বুঝতে পারছি না। মরদেহ কবে দেশে আসবে, তাও জানি না।

এ ব্যাপারে ১০ শংকরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিছার উদ্দীন বলেন, লিবিয়ায় মানবপাচারকারী চক্রের স্বজনদের হাতে ২৬ বাংলাদেশি নিহত ও ১২ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে খাটবাড়িয়া গ্রামের রাকিবুল নামে এক যুবকও রয়েছে। এটা খুবই দুঃখজনক। আমরা মরদেহ আনার জন্য সরকারিভাবে যোগাযোগ করছি।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
লেখক / প্রতিবেদক

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।