১৪৪ বছর পরে আগামী ১৩ই জানুয়ারি প্রয়াগে মহাকুম্ভে কোটি ভক্তের মহামিলন

১৪৪ বছর পরে আগামী ১৩ই জানুয়ারি প্রয়াগে মহাকুম্ভে কোটি ভক্তের মহামিলন
মানব সভ্যতার এক অপূর্ব বিস্ময় ভারতীয় সংস্কৃতি। সনাতন ধর্মকে কেন্দ্র করেই ভারত সারা বিশ্বের এক ঐতিহ্য একটি ভাব এবং একটি আলোক বর্তিকা। কোটি কোটি সনাতনী মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের মিলন স্থল হিসাবে ১৪৪ বছর পর প্রয়াগে বসতে চলেছে মহাকুম্ভ মেলা। প্রতি ১২বছর অন্তর পূর্নকুম্ভ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। আবার ১২টি পূর্নকুম্ভের পর আয়োজিত হয় মহাকুম্ভ। অর্থাৎ ১৪৪ বছরে একবার মহাকুম্ভের আসর বসে। বহু প্রতীক্ষিত সেই মাহেন্দ্রক্ষণ আগামী ১৩ই জানুয়ারি প্রয়াগে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মহাকুম্ভের মিলন মেলা।
কুম্ভমেলার সুপ্রাচীন ইতিহাস সনাতন ধর্মের এক মহীরুহ। সত্যযুগে সমুদ্র মন্থনের পর থেকেই কুম্ভমেলার গোড়াপত্তন হয়েছিলো। সমুদ্র মন্থনের কথা শিবপুরান মৎসপুরান পদ্মপুরাণ ভবিষ্য পুরান সহ প্রায় সব পুরানেই উল্লেখ রয়েছে।
কথিত আছে সমুদ্র মন্থনে উঠে এসেছিলো অমৃতের কলস এবং এই কলসের অধিকার নিয়ে দেবতা ও অসুরদের মধ্যে সংঘাতে কলস অসুরদের দখলে চলে গিয়েছিলো। তখন বিষ্ণু মোহিনী রূপ ধারণ করে অসুরদের ভুলিয়ে অমৃত কলসের অধিকার ফিরিয়ে আনে। কিন্তু সংঘাত অব্যাহত থাকলে বিষ্ণু দেবরাজ ইন্দ্রের পুত্র জয়ন্তের হাতে কলস তুলে দেন। জয়ন্ত কাকের রূপ ধারণ করে ঠোঁটে কলস ধারণ করে উড়ে যান। সেই সময় কয়েক ফোটা অমৃত ধরিত্রির চার জায়গায় পড়েছিল। এই চার জায়গার নাম হলো প্রয়াগরাজ উজ্জয়ীনি হরিদ্বার এবং নাসিক। ফলে যেখানে যেখানে অমৃতের ফোঁটা পড়েছিল সেখানে সেখানে কুম্ভমেলার আসর বসে।
কাক যখন অমৃতের কলস ঠোঁটে করে নিয়ে যাচ্ছিলো তখন তার ঠোঁটে অমৃতের স্পর্শ লেগেছিল যারজন্য কাকের দীর্ঘ জীবন হয়। সেই সাথে দুর্বাঘাসের উপর অমৃতের ফোঁটা পড়েছিলো বলে দূর্বাঘাস অত্যন্ত পবিত্র এবং গনেশপুজা সহ পূজাপার্বনে দুব্বার ব্যবহার করা হয়।
কুম্ভমেলায় কোটি কোটি ভক্ত সমাগমের পিছনে রয়েছে অমৃতের আস্বাদন দীর্ঘ জীবন ও পবিত্রতার ছোঁয়া অনুভব করা। গুপ্তযুগে সম্রাট হর্ষবর্ধনের আমলে কুম্ভমেলা আয়োজনের প্রামাণ্য নথি রয়েছে। সম্রাট প্রয়াগে ৩ নদীর সঙ্গমে প্রতি ৫ বছর অন্তত কুম্ভ মেলার আয়োজন করতেন।
প্রয়াগরাজে মহাকুম্ভ অনুষ্ঠিত হওয়ার বিশেষ মাহাত্ম্য হলো প্রয়াগ গঙ্গা-যমুনা ও সরস্বতী নদীর সঙ্গম স্থলে অবস্থিত। এইজন্য প্রয়াগের গুরুত্ব অন্য ৩ স্থানের তুলনায় বেশি। মনে করা হয় মহাকুম্ভ মেলার পুন্য তিথিতে স্নানের সন্ধিক্ষণে যিনি এই তিন নদীর সঙ্গম স্থলে অবগাহন করেন তার মোক্ষলাভ হয়।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
লেখক / প্রতিবেদক

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।