× Banner
সর্বশেষ
হিরোশিমা দিবস: ‘ওপেনহাইমার’ সিনেমার নির্মাণের নেপথ্যের বিস্ময়কর গল্প জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের স্মারক সংবর্ধনা আজ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাশিফল ও গ্রহদোষ প্রতিকারের উপায় আজ ২০ শ্রাবণ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) পঞ্জিকা ও ইতিহাসের এইদিনে শেখ হাসিনার দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কড়া প্রতিক্রিয়া বুড়িগঙ্গায় তরল বর্জ্য নির্গমনস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ ভোলায় ৫ম শ্রেণির ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ-ভিডিও ধারণ, তিন কিশোর গ্রেপ্তার টানা ৫ দিন অনশনের পর বিয়ে, তিন মাস পর মিলল মোনিয়ার ঝুলন্ত লাশ শ্যামনগরে ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে সমাবেশ ও গণমিছিল জাল দলিলের অভিযোগ-কোটালীপাড়ায় দুই দলিল লেখক সাময়িক বহিস্কার

ডেস্ক

হিরোশিমা দিবস: ‘ওপেনহাইমার’ সিনেমার নির্মাণের নেপথ্যের বিস্ময়কর গল্প

admin
হালনাগাদ: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬
হিরোশিমা দিবস
হিরোশিমা দিবস

৬ আগস্ট বিশ্বের ইতিহাসে এক গভীর বেদনাবিধুর দিন। ১৯৪৫ সালের এই দিনে জাপানের হিরোশিমা শহরে বিশ্বের প্রথম যুদ্ধক্ষেত্রের পারমাণবিক হামলা চালানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বি-২৯ বোমারু বিমান এনোলা গে থেকে নিক্ষেপ করা হয় ‘লিটল বয়’ নামের পারমাণবিক বোমা, যার ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ মানবসভ্যতার ইতিহাসে আজও এক কালো অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয়।

এই ঐতিহাসিক ঘটনার অন্যতম কেন্দ্রীয় চরিত্র তাত্ত্বিক পদার্থবিদ জে. রবার্ট ওপেনহাইমার। তাঁর জীবন, নৈতিক দ্বন্দ্ব এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ইতিহাস নিয়ে নির্মাতা ক্রিস্টোফার নোলান নির্মাণ করেন আলোচিত চলচ্চিত্র Oppenheimer।

২০২৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই সিনেমাটি বিশ্বজুড়ে সমালোচক ও দর্শকদের প্রশংসা কুড়ায়। পরে এটি একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসে সেরা চলচ্চিত্র, সেরা পরিচালক এবং সেরা অভিনেতাসহ মোট সাতটি অস্কার জিতে নেয়।

বাস্তব বিস্ফোরণ, নয় কম্পিউটার গ্রাফিক্স

‘ওপেনহাইমার’ চলচ্চিত্রের অন্যতম আলোচিত বিষয় ছিল পারমাণবিক বিস্ফোরণের দৃশ্য। অনেকের ধারণা ছিল, এটি অত্যাধুনিক কম্পিউটার গ্রাফিক্সের মাধ্যমে তৈরি। কিন্তু নোলান ভিন্ন পথ বেছে নেন। তিনি সীমিত পরিসরে বাস্তব বিস্ফোরণের বিশেষ প্রভাব (Practical Effects) ব্যবহার করে সেই দৃশ্য ধারণ করেন, যা পরে পর্দায় আরও বাস্তবসম্মতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়।

অডিশন ছাড়াই প্রধান চরিত্রে কিলিয়ান মারফি

চলচ্চিত্রে ওপেনহাইমারের চরিত্রে অভিনয় করেন কিলিয়ান মারফি। এই অভিনয়ের জন্য তিনি প্রথমবারের মতো অস্কারে সেরা অভিনেতার পুরস্কার অর্জন করেন।

মজার বিষয় হলো, এ চরিত্রের জন্য মারফিকে কোনো অডিশন দিতে হয়নি। এর আগে নোলানের একাধিক চলচ্চিত্রে কাজ করায় পরিচালক তাঁর অভিনয় দক্ষতার ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেছিলেন। এক সাক্ষাৎকারে মারফি বলেছিলেন, নোলানের ফোনকল পাওয়া ছিল তাঁর অভিনয়জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত।

নিউ মেক্সিকোর মরুভূমিতে দীর্ঘ শুটিং

চলচ্চিত্রটির শুটিংয়ের বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর মরুভূমিতে সম্পন্ন হয়। শুটিং চলাকালে অভিনেতা, বিজ্ঞানবিষয়ক পরামর্শক এবং পুরো নির্মাণদল একসঙ্গে অবস্থান করেন। কাজ শেষ হওয়ার পর সবাই নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যান।

চিত্রনাট্য ও ক্যামেরায় ছিল ভিন্নতা

‘ওপেনহাইমার’-এর চিত্রনাট্যও ছিল ব্যতিক্রমধর্মী। নোলান পুরো গল্পটি প্রথম পুরুষে, অর্থাৎ ওপেনহাইমারের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে লিখেছিলেন, যা দর্শকদের চরিত্রটির মানসিক জগতে প্রবেশের সুযোগ করে দেয়।

চলচ্চিত্রটির অধিকাংশ দৃশ্য ধারণ করা হয় আইম্যাক্স ক্যামেরায়। তবে সাদাকালো দৃশ্য ধারণের জন্য উপযুক্ত আইম্যাক্স ক্যামেরা না থাকায় নির্মাতা বিশেষভাবে ক্যামেরা প্রস্তুতকারকের সহায়তায় একটি নতুন সংস্করণের ক্যামেরা তৈরি করিয়ে নেন। ফলে একই চলচ্চিত্রে রঙিন ও সাদাকালো দৃশ্যের মধ্যে প্রযুক্তিগত সামঞ্জস্য বজায় রাখা সম্ভব হয়।

ইতিহাস ও সিনেমার অনন্য সংযোগ

হিরোশিমা দিবস শুধু অতীতের ভয়াবহতার স্মারক নয়, বরং যুদ্ধের মানবিক মূল্য সম্পর্কে বিশ্ববাসীকে সতর্ক করারও একটি দিন। ‘ওপেনহাইমার’ সেই ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরেছে বিজ্ঞান, নৈতিকতা এবং যুদ্ধের জটিল সম্পর্কের এক শক্তিশালী চলচ্চিত্রিক উপস্থাপনার মাধ্যমে।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..