× Banner
সর্বশেষ
ধর্মমন্ত্রীর আশু আরোগ্য কামনায় দেশজুড়ে হেফাজতে ইসলামের বিশেষ দোয়া দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত ১১২ টাকায় সরকারি চাকরি পাওয়া স্বচ্ছ নিয়োগের প্রমাণ: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী বাংলাদেশে ২৫-২৬ জুলাই ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম ও বিআইইআর সামিট ২০২৬ বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন ২০২৬-এর খসড়া অনুমোদন, পরিকল্পিত আধুনিক নগর গঠনের উদ্যোগ বাজেট বাস্তবায়নেই সাফল্য, কক্সবাজারকে আধুনিক ডিজিটাল পর্যটন নগরী গড়ার পরিকল্পনা: অর্থমন্ত্রী FICCI FDI Conference 2026-এ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে FICCI FDI Conference 2026, উন্মোচিত হলো এফডিআই রিপোর্ট মাদারীপুরে বৈশাখী ভাতা ও ঈদ বোনাস না পাওয়ায় দপ্তরিদের শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাও কোটালীপাড়ায় উল্টো রথযাত্রায় ভক্তদের ঢল

সেনানিবাস প্রকল্পে ১৫ কোটি টাকার দূর্নীতি প্রমাণিত

admin
হালনাগাদ: শুক্রবার, ১৭ মার্চ, ২০১৭

শরীয়তপুর প্রতিনিধি ॥ পদ্মা বহুমুখি সেতু প্রকল্পের সার্বিক নিরাপত্তা বিধানকল্পে ৯৯ কম্পোজিট ব্রিগেড এর স্থায়ী সেনানিবাস নির্মাণের জন্য পদ্মা সেতু এলাকার জাজিরা পয়েন্টে একটি স্থায়ী সেনানিবাস নির্মাণ করা হবে। এ জন্য সেতুর জাজিরা অংশের ল্যান্ডিং পয়েন্টের পূর্ব পাশে ১০১নং নাওডোবা মৌজায় এল এ ৮নং কেস এর মাধ্যমে প্রায় ১ শত একর ভূমি অধিগ্রহন করা হয়। যেখানে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ ও ভূয়া গাছ-পালা লাগিয়ে কোটি কোটি হাতিয়ে নিচ্ছিল স্থানীয় একটি সিন্ডিকেট।

স্থানীয় আবুল কালাম খান চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারী জেলা প্রশাসক শরীয়তপুর এর বরাবর একটি লিখিত আবেদন করে। আবেদনের উপর জেলায় কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকগণ অনিয়ম ও দূর্নীতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে। বিষয়টি আমলে নিয়ে জেলা প্রশাসক মোঃ মাহমুদুল হোসাইন খান ভূমি অধিকরণ, ঘর-বাড়ি ও গাছ-পালার পূনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্তে ১৫ কোটি ৩০ লক্ষ টাকার দূর্নীতি প্রমাণিত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশসাক।

ফরিদপুর অঞ্চলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকে প্রধান করে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক গাছ-পালার পুনরায় তদন্তের জন্য দায়িত্ব অর্পণ করেন। ১৮ ফেব্রুয়ারী থেকে ফরিদপুর অঞ্চলের বিভিন্ন জেলার বন বিভাগের ৫ জন কর্মকর্তা ১৫ দিনে তদন্ত কাজ শেষ করেছে বলে জানা গেছে। তদন্তে বেরিয়ে আসে গাছ-পালার ক্ষতি পূরণের নামে মূল্য নির্ধারণে ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতি সংগঠিত হয়েছে। শরীয়তপুর জেলার বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুধীর চন্দ্র রায় সিন্ডিকেট সদস্যদের সাথে আতাত করে সরকারের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের ফাঁদ পাতে। তিনি ১৮৫ ব্যক্তির নামে ২৬ কোটি ৪৮ লক্ষ ৮ হাজার ৩৬০ টাকা মূল্য নির্ধারণ করে তালিকা জমা দেন। তদন্তকারি দল তাদের তদন্তকালে সেখানে ১১ কোটি ১৮ লক্ষ ২১ হাজার ১০০ টাকার গাছ-পালার অস্তিত্ব খুঁজে পায়নি। এতে তদন্ত শেষে ১৫ কোটি ২৯ লক্ষ ৮৭ হাজার ২৫০ টাকার দূর্নীতি প্রমাণিত হয়।

স্থানীয় সিন্ডিকেটরা দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থায়ীভাবে বসবাস করে এমন আত্মীয় স্বজনদের নামে ঘর তোলেন এবং গাছ-পালা রোপণ করে। এতে জেলা গণপূর্ত বিভাগ ৩৬৩ জনের নামে ঘর-বাড়ি অবকাঠামো দেখিয়ে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা পরিশোধের জন্য তালিকা প্রস্তুত করে। আর বন বিভাগ ১৮৫ জনের নামে গাছ পালার তালিকা প্রণয়ন করে সেখান থেকে প্রায় সাড়ে ২৬ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়। তাতে দুই তালিকায় প্রায় ৬১ কোটি টাকার ক্ষতি পূরণের মুল্য নির্ধারণ করা হয়।

জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদনকারী আবুল কালাম খান জানান, পদ্মা সেতু এলাকায় স্থায়ী সেনানিবাস নির্মাণের অবৈধভাবে সরকারের কোটি কোটি আত্মসাতের পরিকল্পনার বিষয়টি জানতে পেরে আমি শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক বরাবর একটি আবেদন করি। এর সূত্র ধরে সাংবাদিকরা অনিয়ম ও দূর্নীতি নিয়ে নিউজ প্রকাশ করে। বিষয়টি জেলা প্রশাসক আমলে নিয়ে পূণরায় তদন্তের নির্দেশ দেন। এতে ১৫ কোটি ২৯ লক্ষ ৮৭ হাজার ২৫০ টাকার দূর্নীতি প্রমাণিত হয়। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করছি ঘরবাড়ি ও অবকাঠামোর পূনরায় তদন্ত করা হলে সরকারের আরো ২০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। সরকারের এ কোটি কোটি টাকা সিন্ডিকেটের হাত থেকে রক্ষা করতে জেলা প্রশাসনের কাছে তদন্তের আবেদন করায় পরিবার নিয়ে মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। সিন্ডিকেট সদস্যদের ভয়ে গত এক মাসেরও বেশী সময় ধরে বাড়ি ছেড়ে জীবন নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। আমি দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও সিন্ডিকেট সদস্যদের যথাযথ শাস্তি দাবি করছি।

জেলা প্রশাসক মোঃ মাহমুদুল হোসাইন খান বলেন, পদ্মা সেতু এলাকার স্থানীয় এক ব্যক্তি অনিয়ম ও দূর্নীতি নিয়ে আমার কাছে একটি আবেদন করে। আমি বিষয়টি গণপূর্ত বিভাগ ও বন বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পূনরায় তদন্তের জন্য হস্তান্তর করি। বন বিভাগের অনিয়মের অভিযোগ সঠিক ছিল। ইতিমধ্যে সেখান থেকে প্রায় ১৫ কোটি ৩০ লক্ষ টাকার অনিয়ম প্রমাণিত হয়েছে। তবে গণপূর্ত বিভাগ তাদের তদন্তে ঐ এলাকায় ঘরবাড়ি ও অবকাঠামোর অনিয়ম ও দূর্নীতির কোন সত্যতা পায়নি।

উল্লেখ্য, এদিকে দূর্নীতির তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে শরীয়তপুরে কর্মরত সংবাদ কর্মীদের উপর দফায় দফায় হামলা, আক্রমন ও মিথ্যা মামলা দিতে থাকে সিন্ডিকেটের সদস্যরা। স্থানীয় ৪ জন তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করেত গিয়ে ১৪ ফেব্রুয়ারী সিন্ডিকেটের ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের দ্বারা হামলার শিকার হন। সেদিন সাংবাদিকদের ব্যবহৃত দুইটি মোটর সাইকেল সিন্ডিকেটের ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা ভাংচুর করে। আবারও পেশাগত দায়িত্বে ২৭ ফেব্রুয়ারী তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে পূনরায় সিন্ডিকেট সদস্যরা সাংবাদিকদের মারধর করে তাদের ক্যামেরা, ব্যুম, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় একজন সাংবাদিক বাদী ঐদিন জাজিরা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..